হাত বাড়ালেই সুখ
নজরুল ইসলাম শান্ত

স্নিগ্ধ কোমল ভোরের আকাশ মন মাতানো সব
কিচির মিচির পাখির সুরে সতেজ অনুভব...
থোকায় থোকায় ফুলকলিরা হয় যেনো উন্মুখ;
যেদিক তাকাই সেদিকটাতেই হাত বাড়ালে সুখ!

মধ্য দুপুর পদ্যাকারে দিচ্ছে যখন ডাক
তখন আমার ধানের ক্ষেতে প্রজাপতির ঝাঁক
মনের ভেতর তাই পুষি না হরেক রকম দুঃখ;
মন ফেরাতেই তাকিয়ে দেখি হাত বাড়াতেই সুখ।

বিকেলটাতে খেলার মাঠে শিশুর দাপাদাপি
বন বাদাড়ে আনন্দ আর বড্ড লাফালাফি
শিশুর মেলায় তাই হয়ে যাই নজরুলে নজরুখ...
ঠিক তখনো কেবল আমার হাত বাড়াতেই সুখ।

মা ডেকে যান সন্ধাবেলায় কইরে খোকা কই
মুরগি ডাকে কক্ করাকক হাঁস ডাকে তই তই
বৃদ্ধা দাদী কাশতে থাকে খুকুর খুকুর খুখ;
তারপরেও দেখছি আমি হাত বাড়াতেই সুখ।

এমনি হাজার সুখ পাখিরা দেয় আমাকে নাড়া
রাত গভীরে ঘুমের ঘোরে স্বপ্নরা দেয় সাড়া
উচ্ছ্বাসিত ভাবনারা সব দেখায় প্রিয় মুখ;
তারপরেও দেখছি তাতে হাত বাড়ালেই সুখ।

আয়রে আমার শৈশবকাল আরেকটি বার আয়...
খুশির ডানায় পৌঁছে যাবো সুখের সীমানায়...!

 


ঘনঘোর বরষায়
জাহানারা নাসরিন

আষাঢ়ের মেঘ আজ ঝরে সারা দিন
ঘনঘোর বরষায় মন উদাসীন।
আকাশটা অবিরাম যায় শুধু কেঁদে
ঘরছাড়া মনটাকে রাখা দায় বেঁধে!

একা বসে নির্জনে জলছবি দেখি
জল আর সবুজের মাখামাখি সে কী!
কদমের ঘ্রাণ এসে প্রাণ ছুঁয়ে গেল
দিশাহীন হয়ে মন ছোটে এলোমেলো।

সাজে ধরা মোহনীয় জল কারুকাজে
ফিরে এলো প্রাণ মৃত ফসলের মাঝে।
চাতকের ঠোঁটে জল হীরকের দানা
মন কী যে চায় আজ নেই ঠিক জানা।

নীলাকাশে কালো মেঘ উল্লাসে মাতে
মুঠোফোনে বধূ হাসে সখা তার সাথে।
নীড়হারা পাখি বসে ভেজে তরুশাখে
ঘুটঘুটে ঝোপে ঝিঁঝি আনমনে ডাকে।

জলে ভিজে ঘাসফুল খায় লুটোপুটি
থেমে গেছে পথিকের যত ছুটোছুটি।
অবিরাম বাদলের রিমঝিম সুরে
উচাটন হয়ে মন ছোটে বহুদূরে।

 


বিষ্টি নামে ইষ্টি হয়ে
শাকিব হুসাইন

মেঘ গুড়গুড় গুড়ুম গুড়ুম
আকাশটা খুব ডাকে
আকাশ পাড়ে বৃষ্টি ফোঁটা
চুপটি করে থাকে।

হঠাৎ করেই বৃষ্টি ফোঁটা
ইষ্টি হয়ে নামে
পদ্য লিখে রাইসা মণি
পাঠায় মেঘের খামে।

 


আয়রে বৃষ্টি আয়
আজাদ হোসেন

আয়রে বৃষ্টি আয়রে আয়
পড় না ঝরে এই ধরায়
রুমঝুমাঝুম ঝুম,
তোরই গানে যাক ভেঙে যাক
খুকুমণির ঘুম।

আয়রে বৃষ্টি আয়রে আয়
দে রাঙিয়ে খুকির পায়
আষাঢ় শ্রাবণ যায়,
বর্ষাকালে কেনো রে তোর
কেনো দেখা নাই?

আয়রে বৃষ্টি ভেজা গাঁও
বসে মাঝি নিয়ে নাও
দে ভরিয়ে নদী,
সময় গেলে লাভ কি হবে
না আসিস রে যদি?

আয়রে বৃষ্টি আয়রে আয়
করবো বরণ এই ধরায়
আয়রে ধরার বুকে,
তোর জলেতে একটু ভেজা
ফোটা হাসি মুখে।