বহু বছর আগের কথা। মাছরাঙারা ওই সময় মাছ খেত না। বলতে গেলে জানতই না যে মাছ এত সুস্বাদু। তারাও সেইসময় ডাঙায় বিচরণ করত। খেত ডাঙায় চরা নানা ধরনের পোকামাকড়। খাবারের যেমন অভাব ছিল না তেমনই ছিল না আনন্দের ঘাটতি। বেশ সুখে শান্তিতেই দিন যাচ্ছিল সবার। এ রকম চলতে চলতে একটা সময় এলো। এই সময় প্রচণ্ড খরায় অনেক পোকামাকড় গেল মরে। আবার অনেক পোকামাকড় লোকাল গর্তে। ফলে অভাব দেখা দিলো চারদিকে। প্রচণ্ড হাহাকার কোনো খাবার নেই। একটা পোকা নিয়ে কাড়াকাড়ি চলত অনেকের। মাছরাঙার ঠোঁট লম্বা হলেও আকারে ছোট থাকায় সে টিকতে পারত না অন্যদের সাথে। এমতাবস্থায় একদিন তার ঝগড়া হলো এক শালিকের সাথে। দু’জনই বিচার দিলো পাখিরাজের কাছে। পাখিরাজ সবই বুঝে। অভাবের তাড়নায় যে এসব হচ্ছে তাও জানার বা বুঝার বাকি থাকে না তার। সে মনোযোগ দিয়ে শুনে দু’জনের কথা। শালিক বলে, রাজা মশায়! দেখেন ওর ঠোঁট কত লম্বা। সেই লম্বা ঠোঁট দিয়ে আমাকে ঘায়েল করে দিয়েছে। আমি তাকে কিছুই করিনি আমার অবস্থা দেখুন। এই বলে সে নিজের মাথার ঝুঁটিতে আঘাতের স্থান দেখায়।
শালিকের এমন মিথ্যা অভিযোগে চমকে উঠে মাছরাঙা। সে বারবার বলতে চায় সে আঘাত করেনি। কিন্তু আঘাতের যে চিহ্ন শালিক দেখিয়েছে সেটাইবা পাখিরাজ অবিশ্বাস করে কেমনে?
পাখিরাজ ধমক দিয়ে মাছরাঙাকে থামিয়ে দেয়। বলে, আঘাতের চিহ্ন যখন আছে তখন কোনো কথা নাই তোমার। তুমি আমার রাজ্যের সীমানার বাইরে চলে যাও। তোমাকে যেন আর কখনো এই অঞ্চলে না দেখি।
মাছরাঙা মনের দুঃখে উড়াল দিলো অন্য দেশে। উড়তে উড়তে সাত দিন পর চলে এলো অন্য এক দেশে। দেশটি সবুজ সমারোহে ভরা। মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। নদী নালায় ভরা। মাঠে মাঠে ফসল। সবার মুখে হাসি। নতুন দেশের পাখিরা মাছরাঙাকে দেখে স্বাগত জানালো। খেতে দিলো মাছরাঙাকে। মাছরাঙা একটা খাবারও মুখে তুলল না। সবাইকে খুলে বলল তার দেশান্তর হওয়ার ঘটনা। সে এটাও জানালো যেহেতু ডাঙায় চরা পোকামাকড় সবাই খায় সেটাতে আমি ভাগ বসাতে চাই না। আমি এখন থেকে এই সমৃদ্ধ দেশের এসব নদী-নালা, জলাশয় থেকে খাবার খাব। সবাই মাছরাঙার এমন কথায় খুশি হয়ে উঠে। মাছরাঙাকে এনে দেয়া হয় পদ্মা নদীর সুস্বাদু মাছ। মাছ খেয়ে মাছরাঙা স্বাদ পায় অনেক। আর তখন থেকেই মাছরাঙার প্রধান খাবার হয়ে উঠে মাছ।
আর ওই দেশে প্রমাণ হয় মাছরাঙাকে ফাঁসাতে শালিক মিথ্যা বলেছিল। তাই শালিকের মাথার ঝুঁটি দেয়া হয় চেঁচে। সেই থেকে আর দেখা যায় না শালিকের মাথার ঝুঁটি। শাস্তি দেয়া হয় তাকেও। সে গোবর থেকে খাবার সংগ্রহ করে খাবে এই নির্দেশ দেয়া হয়। সেই থেকে এই শালিক হয়ে যায় গোবরে শালিক।