শরৎরানী
খন্দকার জাহাঙ্গীর হুসাইন
শরৎরানী সুবাস ছড়ায় ঘাসের ফুলে ফুলে
শুভ্রকেশি কাশফুলে ঢেউ ওঠে দুলে দুলে।
নদীর ধারের কাশবনে কে চাও হারাতে সখী?
পাগলা হাওয়ায় গা এলিয়ে করবে চোখাচোখি।
নিটল জলে পা ভিজাবে মনের বাঁধন খুলে।
শরৎরানী যায় চলে ওই ঠোঁটের কোণে হেসে
কিশোর মনে দোল খেলে যায় গভীর ভালোবেসে।
এই শরতে কার চোখে ঘুম কে মুদিলো আঁখি?
শুনছে না কে শরৎরানীর মধুর ডাকাডাকি?
নীল আকাশের সাদা সাদা মেঘের ছোটাছুটি
তুলোর মতো উড়ে মেঘে খাচ্ছে লুটোপুটি।
শরৎরানীর মেঘের কোলে মুগ্ধকরা হাসি
বুকের কোণে দেয় দোলা সে শিশির জলে ভাসি।
খোকার বায়না
মেশকাতুন নাহার
খোকন সোনা বায়না ধরে
ডিম খাবে সে রোজ,
মোরগ পোলাও দিয়ে করবে
প্রতিদিনের ভোজ।
চেহারা তার মলিন হলো
থালায় দেখে ডাল,
বললো কেঁদে আজকে খাবার
হয়েছে খুব ঝাল।
অবুঝ খোকা বুঝে কি আর
খাদ্যদ্রব্যের দাম!
জিদ ধরে সে দিতেই হবে
দুধ কলা আর আম।
ছোট্ট মনের বায়না শুনে
মায়ের চোখে জল,
মর্মপীড়ায় ডেকে বলে
বাবা খেতে চল।
প্রত্যুষ
আবদুল্লাহ আল মাসুম
সকাল সকাল ওঠে সুরুজ
পূব আকাশে
পাখির কিচির ছড়ায় ভোরের
হিম বাতাসে।
মুমিন জনে জিকির জপে
রবের নামে
ঐশী বাণীর মধুর সুখে
ধরাধামে।
শিশির ভেজা ঘাসের ডগায়
চরণ ঘেঁষে
যাই খুঁজে যাই রবের দেখা
অচিন দেশে।
সূয্যি মামার পরশ মাখি
আলতো ছোঁয়ায়
আমার কালো মুছে দিও
চাহি দোয়ায়।
ইচ্ছে করে
মুজাহিদুল ইসলাম
ইচ্ছে করে পাখির মতো উড়তে সারাক্ষণ
গাছের ডালে ঘর বানাতে পুষতে পাখির মন,
নীল আকাশের নিচে রাতে দাঁড়িয়ে থাকি ঠাঁই
হৃদয়টাকে স্নান করাতে চাঁদের জোছনাই।
ইচ্ছে করে ফুল হতে খুব ডুব দিতে তার ঘ্রাণে
মৌমাছিদের মতো করে গাইতে মিষ্টি তানে,
রোদ দুপুরে গাছের ছায়ায় যাই হারিয়ে ঘুমে
ঘুমটা ভাঙুক রাতগভীরে চাঁদের আলোর চুমে।
ইচ্ছে করে গাঁয়ের সনে গল্পে মেতে উঠি
সব পিছুটান ভুলে গিয়ে ইচ্ছে ঘোড়ায় ছুটি,
ফজরাক্তে আজান দিয়ে লম্বা মিনার থেকে
মানুষ পাখি জীবজন্তু সবাইকে দিই ডেকে।
শরৎকালের রূপ
বিল্লাল মাহমুদ মানিক
ভালো লাগে শরৎকালের রূপ
নীল আকাশে সাদা মেঘের ধূপ।
শিউলি বকুল বেলি ফুলের ঘ্রাণ
দেয় জুড়িয়ে সবার আকুল প্রাণ।
রৌদ্র মেঘের লুকোচুরি খেলা
হাওয়ায় ভাসে তুলোট মেঘের ভেলা।
আমন ধানের কচি ধানের চারা
সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি দেয় নাড়া।
নদীর তীরে সাদা কাশের ফুল
আকাশ কানে গুঁজে মেঘের দুল।
যায় না ভোলা তালের পিঠার স্বাদ
বাড়ে দেশে আনন্দ-আহ্লাদ।
শরতের দেশ
তৈয়বুর রহমান ভূঁইয়া
দিন পেরিয়ে মাস পেরিয়ে
বছর গিয়ে শেষে,
আবার এলো আমার দেশে
শরৎ হেসে হেসে।
আকাশ নীলে দেখো কেমন
সাদার মাখামাখি-
ইচ্ছে করে মেঘ মেয়েদের
মুঠোয় পুরে রাখি।
শিউলি তলায় ভিড় নেমেছে
ফুল কুড়ানোর ছলে,
আমরা যারা ছোট্ট শিশু
কুড়াই দলে দলে।
ফুল-পাখিরা পাতার ফাঁকে
করে ডাকাডাকি-
সবাই মিলে এই দেশেতে
শরৎ ছবি আঁকি।
শরতের রূপ
হাফিজুর রহমান
আসলো শরৎ ভালোবেসে
সবুজ ধানের ক্ষেতে,
রেগে গেল বর্ষারানী
জেদ করেছে যেতে।
এখনও সে যখন তখন
শরৎ ভাসায় ক্ষোভে,
কান্না জলে শাপলা, শালুক
মাছের ছড়ায় টোপে।
মিষ্টি করে জোনাক জ্বলে
শরৎ রাতের বুকে,
সাদা মেঘে সূর্য ওঠে
লাল শাড়ি টুকটুকে।
শরৎকাল
মিজানুর রহমান
শরৎ এলে ফুলের মেলা ডালে ডালে
লাউ-কুমড়ো হাসছে দেখি ছনের চালে।
শিউলি শালুক দোলনচাঁপা পরছে শাড়ি
বকুল বেলি পদ্ম কেয়া ঘিরছে বাড়ি।
ধানের শিষে হলুদ মুকুট দিচ্ছে দোল
কাশবনের ওই ছোট্ট বাগে সুখের বোল।
