লাল সবুজের গান
জাহাঙ্গীর আলম

বনের পাতা গাইছে শোন লাল-সবুজের গান
গানের সুরে জুড়ায় আমার তৃষিত এ প্রাণ।
এই পতাকায় নাম লিখেছেন লাখো শহীদান
শোধ হবে না কোনো কালে তাদের অবদান।
বনের শীষে উড়ে যখন সবুজ আঁকা লাল
ছন্দ তালে দক্ষিণা বয় বড্ড বেসামাল।
পাতার ফাঁকে নৃত্য করে সবুজ টিয়ের পাল
স্বাধীনতার গানে গানে মুখর বনের ডাল।
এই পতাকা তোমার আমার এই পতাকা বেশ
এই পতাকায় জড়িয়ে আছে স্বাধীন বাংলাদেশ।


আধো বোল
গোলাম আযম

ছোটকালে শিশুর যখন
ফোটে আধো বোল ,
হেলেদুলে নাচে তখন
পেয়ে মায়ের কোল।

ভাঙা ভাঙা শব্দ করে
মা মা বলে ডাকে,
শিশু নিয়ে হাজার স্বপ্ন
বাবা-মায়ে আঁকে।

বড় হয়ে বাবা-মায়ের
রাখবে ধরে মান
সেই আশাতে দু’হাত তুলে
দোয়া করে যান।

 


করতোয়া নদী
নূর সিরাজী

বহুদিন দূরে আছি ছেড়ে করতোয়া,
হাহাকার করে বুক চায় জল ছোঁয়া!
শরতের এই ক্ষণে ফোটে কাশফুল,
হাওয়ায় হাওয়ায় দোলে নদীর দু’কূল।
মাঝি ভাই গান গায় ভাটিয়ালি টানে,
আজও তাই অনুভবে শুনি হৃদ কানে।
পানশি নায়ের দৌড় কী-যে রূপ তার!
হৃদয়ে পুলক জাগে দেখি না তা আর!

আধুনিক যুগে আজ দূর নয় দূর,
মুঠোফোনে যোগাযোগ সকল কিছুর।
দেখাবে ভিডিওকলে করতোয়া নদী,
বন্ধু স্বজন আমায় নেটে দেখো যদি।
কাশফুল দোলানোর পিক দিও তুলে,
পৃথিবীটা মঠোফোনে কেন যাই ভুলে?

 

 

বকুল ফুলের মালা
কোমল দাস

একটি শিশু আমায় সেদিন বলল চোখের জলে
‘একেই কি স্যার সত্যিকারের মানব জীবন বলে?’
ক্ষুধার জ্বালায় জ্বলে পুড়ে হয়ে গেলাম শেষ
চিত্তে অঢেল কষ্ট নিয়েই করছি এটা পেশ।

আপন বলে নেই যে কেহ আমার ভাঙা ঘরে
ক’টা টাকা দিবেন কি স্যার অন্ন খাবার তরে?’
আমার হাতে তখন ছিল একটি ফুলের ডালা
ডালার মাঝে ছিল অনেক বকুল ফুলের মালা।

ওকে তখন বলি আমি, ‘একটা মালা নাও
এই মালাটা নিয়ে বাবা এখান থেকে যাও,’
বদনখানি মলিন করে সেই ছেলেটা বলে
‘বলুন না স্যার এখন কি আর বকুল মালা চলে?’

আমি বলি, ‘বকুল বিনে সবই ফাঁকি ভবে
বকুল ফুলের মালাগুলো অচল কেন হবে?’
শিশু তখন বলল আমায় ‘পেটের ভীষণ তাপ
কেমন করে বলুন না স্যার সইবো পেটের চাপ?’

মরচে পড়া লোহায় জানে রঙ বদলের জ্বালা,
‘ক্ষুধার পেটে ভাল্লাগে কি বকুল ফুলের মালা?’

 

 

কোথায় রঙিন দিন
নাঈমুল হাসান তানযীম

হারিয়ে গেল কোথায় আমার
রঙিন ছেলেবেলা,
দুষ্টুমি আর খুনসুটিতে
কাটত যখন বেলা।

হারিয়ে গেল কোথায় আমার
অবুঝ সবুজ দিন,
মনের ভেতর বইত যখন
আনন্দ রিনঝিন।

হারিয়ে গেল কোথায় আমার
আদরমাখা হাত,
মায়ের কোলে মাথা রেখে
ঘুমপাড়ানি রাত।

হারিয়ে গেল কোথায় আমার
পাড়ার সাথী-দল,
দু’হাত ধরে বলত যারা
খেলায় যাবো চল।

হারিয়ে গেল কোথায় আমার
রঙিন স্মৃতির দিন,
পড়ার সাথী তারেক বারেক
সুরাইয়া জেসমিন।

 

 

খোকার ভ্রমণ
মো: রতন ইসলাম

ওই যে খোকা ঘুমোয় খাটে
ঘুমের ভেতর জাবর কাটে
স্বপ্নে নাকি ফেরেশতাতে
নিলো তাদের সেরেস্তাতে
অনেক অনেক গল্প করে
আদরও কি অল্প করে?
বলল খোকা এবার ঘুরি?
ঘুরল খোকা স্বর্গপুরি
দেখল সেথা ফুলের বাগান
দেখতে আরো সামনে আগান
মিলল পরী প্রাসাদ বাড়ি
হলো খোকার খাতিরদারি
হঠাৎ পটাস শব্দ হলো
ভাঙল কি রে কেউ তো বলো?
প্রশ্নে খোকার ঠোঁটটা রাঙে
দেখল চেয়ে ঘুমটি ভাঙে
কে ভাঙালো? ক্যান সে দোলে?
জেগে দেখে বাবার কোলে।