স্বর্গপুরী গ্রাম
নাসির ফরহাদ

আমার গাঁয়ে নিত্য বহে স্বর্গপুরীর ঢেউ
অমৃত সুখ যেজন খুঁজো আসতে পারো সেও।
ছোট গাঁয়ের ছোট নদী ছুটছে কলকলানি
জলের ছায়ায় দেখছি আমার স্বচ্ছ বদনখানি।
দেখছি সদা বন বানরের খেলা
সকাল হলেই ভোরের দোয়েল বসায় গানের মেলা।
কাঠবিড়ালির সঙ্গ দিয়ে লাফাই কত ঢঙে,
এক পা দু’পা করে উঠি গাঁয়ের উঁচু টঙে।

নদীর জলে নাইটি জালে ট্যাংরা, পুঁটি ধরে
কড়াই ভেজে মাছগুলো খাই দারুণ মজা করে!
আহা আমি কতই সুখের রাজা,
ওসব কাজের জন্য আমায় কেউ দেবে না সাজা!

ঘুঘুর বাসা দেখতে গিয়ে ভূতের ঠেলায় পড়ি
ডালটা ধরে সেই তখনি উঠি তড়িঘড়ি।
বাড়ির পাশে পুকুরে হয় মাছরাঙাদের বিয়ে
স্কুল ছুটির সময় কাটে এসব বিষয় নিয়ে।

বিকেল বেলায় বনোফুলের পার্কে ঘোরাঘুরি
স্নিগ্ধ ফুলের সুবাসগুলো একাই করি চুরি!
ফুল কলিদের মায়াবী চোখ ইশারাতে ডাকে,
তখন আমার পুষ্প ফোটে মনের বাঁকে বাঁকে।

সন্ধ্যা হলে ঝিঁঝিঁর দলে আমার বাড়ি এসে
কত রঙের গল্প বলে আমায় ভালোবেসে।
ও ভাই তুমি আমার গাঁয়ের মজা নিতে চাও?
জলদি করে ট্রেনে আসার টিকিক কেটে নাও।

 

 

শিশুর পড়ায়
শামীম খান যুবরাজ

পাখি ছিল ফুল ছিল
নদীর দু’কূল ছিল
বাতাসের গান ছিল
সবুজের প্রাণ ছিল
পাহাড়িয়া বন ছিল
ফুরফুরে মন ছিল
সব কিছু মিশে গেল
ছড়াতে,
পাখি-ফুল-নদী-কূল
ধরা দিলো
ধরা দিলো
শিশুদের পড়াতে।

 

 


সকালের রূপ
আব্দুস সামাদ আজিজ

আঁধারের ঘনঘটা দূর হয়ে গেলো রে
রোদ রাঙা ঝলমল সকালটা এলো রে।

পাখি সব করে রব খুকুদের বাগানে
ফুল ফোটে, মধু হয়, অলি গিয়ে তা আনে।

বিছানায় খুকুমণি তখনও সে ঘুমিয়ে
‘ওঠো খুকু’ মা ডাকেন দুই গালে চুমিয়ে...

কচি দেহ টানা দিয়ে খুকুমণি ওঠে যায়
তাড়াতাড়ি ব্রাশ করে ফুল বাগে ছুটে যায়।

ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে ওই বুনো ঝোপটা
মন ভরে দেখে খুকু সকালের রূপটা।

 

 

 

দুয়ারে হেমন্ত
কনক কুমার প্রামাণিক

শরতকে জানিয়ে বিদায়
হেমন্ত এখন দ্বারে,
শুভ্র সাদা কাশের মেলায়
স্বাগত জানাই তারে।

দুর্বাদলে জমেছে বেজায়
মুক্তো শিশির বিন্দু,
দুই পা এগোলেই দেখবে
রূপের অপূর্ব সিন্ধু।

কুয়াশার ওই মৃদু আভায়
শীত শীত লাগে গায়ে,
চুপিসারে দুয়ারে এসেছে
হেমন্ত ধীর পায়ে।

 

 


পানকৌড়ি
শেখ ফয়জুর রহমান

এই তো দ্যাখো...
কেমন আমি
নদীর জলে ভাসতে পারি,
ডুব-সাঁতারে হাসতে পারি।
আবার দ্যাখো...
ডানায় আমি
ভর করে ঠিক উড়তে পারি
হেথায়-হোথায় ঘুরতে পারি।
কাশের বনে যাই হারিয়ে,
কেউ করে না মানা।
আমার আছে কৃষ্ণরঙা
মুক্ত দু’টি ডানা।

সবুজ গাঁয়ের উপর দিয়ে
উড়ে চলি পাখ উড়িয়ে...
আমন ধানের ক্ষেতে বসে
রই আমি বেশ চুপ,
চোখের কোণে দুরন্ত সব
স্বপ্ন আমার খুব।
মেঘবালিকা আমার সাথী
খেলা করি দিবা-রাতি।
ফুল ফুটিয়ে ঘাসের বনে
ছড়িয়ে ভান মৌরি
আমায় ডাকে তার উঠোনে...
‘আও সখা পানকৌড়ি।’

 

 


চাঁদমামা বন্দী
মাহমুদুল হাসান মুন্না

মায়াভরা চাঁদের হাসি
জোছনা ঝরে রাশি রাশি
দূর আকাশে থাকে,
দেয় না ধরা কয় না কথা
খোকন যতই ডাকে।

তাই খোকনের রাগ হয়েছে
মনটা ভেঙে ভাগ হয়েছে
বুদ্ধি মাথায় এলো,
চাঁদমামাকে কাছে আনার
উপায় খুঁজে পেল।

খোকন শীতলপাটি নিয়ে
জলভরা এক বাটি নিয়ে
রাখলো আকাশতলে,
জলের ভেতর বন্দী হয়ে
চাঁদ মামাটা জ্বলে।

খোকন দারুণ ফন্দি করে
চাঁদ মামাকে বন্দী করে
আনলো নিজের কাছে,
তার মতো আর দস্যিছেলে
কোন শহরে আছে?