দোতলার ব্যালকনিতে বসে চিঠি লিখছে রাতুল।
মেঘের কাছে চিঠি।
‘ও মেঘ বন্ধু
কেমন আছো বলবে আমায়? আচ্ছা তোমাদের কি সারাদিন ছুটি?
উড়ে যেতে মানা নেই, দূরে যেতেও মানা নেই।
কত না মজা!তাই না?
ডানা নেই তবু ভেসে যাও! আচ্ছা তোমরা দলবেঁধে কোন কোন দেশে যাও?
আমার না খুব তোমাদের মতো উড়তে ইচ্ছে করে।
মাঠ পেরিয়ে, বন পেরিয়ে; পাহাড় নদী সাগর পেরিয়ে ঘুরতে ইচ্ছে করে। আরো কত কত ইচ্ছে আছে আমার।
আসলে আমার ইচ্ছেগুলোর কথা কেউ শুনতে চায় না! সবাই বড় বেশি ব্যস্ত!
আমার সাথে কেউ খেলা করে না। জানো? আমার অনেক খেলনা আছে। কিন্তু খেলার বন্ধু নেই! আর খেলব কোথায়? কোথাও খেলার কোনো মাঠ নেই!
তাই এই ব্যালকনিকেই আমি মাঠ বানিয়ে নিয়েছি।
নিজে নিজেই খেলা করি।
মাঝে মধ্যে এখানে দু-একটা প্রজাপতি, ফড়িংয়ের দেখা পাই। ওরা আমার বন্ধু হয়ে গেছে। এই শহরে প্রজাপতির দেখা পাওয়া কিন্তু খুব একটা সহজ কাজ নয়!
ঘুম থেকে উঠেই শুনি কাকের ডাক। মাঝে মধ্যে কাকেদের খুনসুটি দেখি দূর থেকে। অবশ্য শালিক ও দোয়েল পাখিরও আনাগোনা আছে এখানে।
জানো, পাখিদের জন্য আমার খুব মায়া জাগে মনে। এই শহরে পাখির সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। অনেক পাখির নাম শুনেছি, কিন্তু কখনো দেখা হয়নি।
একদিন চিড়িয়াখানায় যেতে চাই।
সেখানে নাকি অনেক পাখি আছে।
মা বাবা চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাবেন বলে কথা দিয়েছিলেন।
মা-বাবা কথা দিয়েও কথা রাখতে পারেন না। তারা আসলেই বড় বেশি ব্যস্ত!
মাঝে মধ্যে আকাশের দিকে চেয়ে থাকি। তোমাদের ছোটাছুটি দেখে নিজেকে বন্দী বন্দী মনে হয়। আমার খাঁচায় পোষা পাখিটার মতো। পাখিটার মনেও তাহলে অনেক কষ্ট আছে?
আচ্ছা পাখিটাকে ছেড়ে দেবো আজ। আমার ইচ্ছেগুলোর কথা পাখির কাছে বলে দেবো।
মুক্ত পাখির কাছে জেনে নিও সব।