মায়ের প্রিয় মুখ
শাহরিয়ার শাহাদাত

আমরা পুষি বুকের ভেতর স্বপ্ন এলোমেলো
খোঁজ রাখি না দেশের মন্ত্রী কে এলো আর গেলো;
আমরা করি প্রকৃতি পাঠ ফুল-পাখির ইসকুলে-
ছুটতে থাকি ঝড়ের বেগে উসকো খুসকো চুলে।
আমরা দেখি নদীর ওপর আকাশ ঘন নীল
পানকৌড়িদের ঝাঁক দেখি ওই পাশেই চলনবিল!
আকাশ ছুঁয়ে আছড়ে পড়ে জমাট ফেনার ঢেউ
আমরা কিশোর হার মানি না ডাকলে পিছু কেউ।

আমরা শুনি পাখির কূজন মুক্ত ডানায় উড়ি
মাছরাঙা রোদ দুপুর কাটাই হাতে নাটাই ঘুড়ি
পথের ওপর তামাট ধুলো ফুলের শোভা গাছে-
কুমড়ো ফুলের নাচন দেখি কামার ভিটির পাশে।
আমরা দেখি রাতের তারা রোদের ধুলোর মতো
খোঁজ রাখি না চাঁদের দেশে গ্রহের সংখ্যা কতো
আকাশ ফুঁড়ে কোন তারাটা খসলো কখন কই?
নকশীকাঁথার আকাশ দেখি জ্যোৎস্না তারার খই!

আমরা খুঁজি জোনাক পিদিম মিহিন ঝিঁঝিঁর সুর
ধানের পাতায় শিশির জ্বলে নীল চাঁদিয়াল পুর!
চাঁদের সাবান মাখছে গায়ে ফর্সা দীঘির পানি
দুধসাদা রঙ পদ্ম ডাঁটায় আলোঢালা ঝলকানি।
চোখের পাপড়ি সুনীল কুসুম নীলরঙানো ঘুম
পালক ঢাকা আদর যেন বাকুম-বাক-বাকুম।
আমরা বাঁচি মুক্ত হাওয়ায় কেউ বলে না- রুখ;
বুক পকেটে আলোর নাচন মায়ের প্রিয় মুখ।

 


শামুক
গিয়াস হায়দার

শামুক থাকে নদী-নালা
খাল-বিল আর ডোবায়
ছোট্ট ছোট্ট রঙিন শামুক
চলে মনো লোভায়।

বর্ষা শেষে ধীরে ধীরে
শুকায় পানির ধারা
লুকিয়ে বাঁচে কাদার মাঝে
থাকে আহার ছাড়া।

ধীর গতিতে জীবন চলে
নেই যে কোনো তাড়া
দূষণ পানি শুদ্ধ করে
দিয়ে নীরব সাড়া।

শামুক চলে হুকুম মতো
ছুটতে দ্রুত মানা
সকল সৃষ্টির স্রষ্টা যিনি
তাঁর সকলই জানা।

 


শিশির ভেজা
সামিউল ইসলাম

ভোর সকালে ঘাসের ডগায়
শিশির কণার রূপ
মিঠেল রোদের আলো মেখে
পড়ছিল টুপ টুপ।

ঝলমলে কি দেখতে ওমা!
দেখতে যদি পেতে
তুমিও মা সুখ উল্লাসে
উঠতে ঠিকই মেতে।

রোদ শিশিরের মাতামাতি
দেখতে লাগে বেশ
শিশির ভেজা শীতের সকাল
সোনার বাংলাদেশ।

 


প্রাণের প্রিয়
গোলাম আযম

ঝিরিঝিরি মৃদু হাওয়া
হৃদয়ে দেয় দোল,
মুচকি হাসে কচিকাঁচা
পেয়ে মায়ের কোল।

দুষ্টুমিতে কাটে বেলা
খেলাধুলার ছলে,
বিকাল হলে মাঠে ছোটে
সবাই দলে দলে।

সন্ধ্যা হলে বাড়ি ফিরে
নাশতা সেরে নেয়,
রুটিনমাফিক পড়াগুলো
বাবার কাছে দেয়।

বই খাতা আর কলম নিয়ে
বিদ্যালয়ে যায়,
আযমী নাহিদ দু’জন হলো
প্রাণের প্রিয় ভাই।

 


ঋতুর সাজে
এম এ জিন্নাহ

আকাশজুড়ে মেঘের ভেলা
করছে খেলা সারাবেলা,
হেমন্তের এই দিনে;
আঁকাবাঁকা পথে হেঁটে
নিচ্ছি সবই চিনে।
ধানগুলো সব হাওয়ায় দোলে
সবুজ দেশের বিশাল কোলে
এই তো ঋতুর রীতি;
নাও বেয়ে যায় নায়ের মাঝি
গেয়ে নতুন গীতি।

দূরের দেশে গা ভাসিয়ে
পরশ ছড়ায় মন হাসিয়ে
রূপ যে রাশি রাশি;
মুগ্ধ হওয়ার স্বাদ পাওয়া যায়
গাঁয়ের পথে আসি।

ডাগর ডাগর চক্ষু মেলে
সুখ বিলাসে এলেবেলে
মন উতলা ছন্দে;
প্রাণ জুড়ালো মন জুড়ালো
হেমন্তের এই গন্ধে।