সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে ঘটনাবহুল ২০২২ সাল। বিগত বছরটি এখন অতীত ও কালের সাক্ষী মাত্র। আমরা আজ অনেক সম্ভাবনার নতুন বছর ২০২৩ সালে পদার্পণ করেছি। বিগত বছরের সফলতা-ব্যর্থতা বা উন্নতি-অবনতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কোনো পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে তা নির্ণয়সহ একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনা পাঠকের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছি। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ- যে দেশে যখন যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন তারা কেবল উন্নয়ন ও অগ্রগতির ফিরিস্তিই প্রচার করেন। আজ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন এমন কোনো সরকার পাওয়া যায়নি যারা দেশের সামগ্রিক অবস্থার সঠিক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রের রিপোর্ট বা পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলেই দেশের প্রকৃত অবস্থান বা চিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার রিপোর্টকে। যেসব দেশ ও সংস্থার রিপোর্ট বা তাদের প্রকাশিত বৈশ্বিক সূচক বিশ্বব্যাপীই গ্রহণযোগ্য, স্বীকৃত ও সমাদৃত। এসব নিয়ে কোথাও তেমন একটি বিতর্ক নেই। এখানে স্থান পেয়েছে বিশ^ গণতন্ত্র সূচক, বিশ্ব মানব উন্নয়নসূচক, মুক্ত গণমাধ্যম সূচক, বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচক, বৈশ্বিক ক্ষুধাসূচক, বিশ্ব দুর্নীতি সূচক, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচক, বিশ^ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচক, বৈশ্বিক শিক্ষা সূচক ও বিশ্ব পরিবেশ সূচক। ওই ১০টি সূচকের মাত্র তিনটি সূচকে কিছুটা উন্নতি হলেও বাকি সাতটি সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে।


বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ
লন্ডনভিত্তিক ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) কর্তৃক উবসড়পৎধপু রহফবী ২০২২ প্রকাশ করে গত ৯ ফেব্রুয়ারিতে। ১৬৭টি দেশের মধ্যে শীর্ষে নরওয়ে এবং সর্বনিম্নে রয়েছে আফগানিস্তান। আর ১০ এর মধ্যে ৫.৯৯ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৫ নম্বরে। ২০২১ সালের মতো এবারো ‘হাইব্রিড রেজিম’ বা মিশ্র শাসনের’ শ্রেণিতেই রয়েছে বাংলাদেশ। হাইব্রিড রেজিমভুক্ত দেশে নিয়মিত নির্বাচন হলেও নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটে। মোট ১০ স্কোর পয়েন্টের মধ্যে কোনো দেশের স্কোর ৮ এর বেশি হলে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’; স্কোর ৬ থেকে ৮ এর মধ্যে হলে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’; স্কোর ৪ থেকে ৬ এর মধ্যে হলে ‘হাইব্রিড রেজিম’ বা ‘মিশ্র শাসন’ এবং স্কোর ৪ এর নিচে হলে সে দেশে ‘স্বৈরশাসন’ চলছে বলে ধরা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী পূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশের সংখ্যা মাত্র ২০টি, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের দেশ ৫৩টি, ‘হাইব্রিড রেজিম’ ভুক্তদেশ ৩৪টি। আর ৫৭টি দেশে চলছে স্বৈরশাসন।
পূর্ণ গণতান্ত্রিক শীর্ষ ১০টি দেশ হলো- নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ড। অর্থাৎ এসব দেশের নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি গণতান্ত্রিক সুবিধা ভোগ করে থাকে।
তালিকার সবচেয়ে নিচে থাকা পাঁচটি দেশ হলো- আফগানিস্তান, মিয়ানমার, উত্তর কোরিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। অর্থাৎ এই দেশগুলোর নাগরিকরা গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে প্রায় পুরোপুরি বঞ্চিত।
বাংলাদেশ ‘হাইব্রিড রেজিমের’ তালিকায় থাকলেও বাস্তবে গণতন্ত্রের অবস্থা আরো খারাপ। রিপোর্টে বলা হয়েছে বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্র ও নির্বাচনব্যবস্থা একেবারেই ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।’


বিশ^ মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ চার ধাপ এগিয়েছে
জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) কর্তৃক ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ‘বিশ^ মানব উন্নয়ন সূচক ২০২১-২২’ প্রকাশ করেছে। এ বছর ১৯১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম। এর আগে ২০২০ সালের রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৩তম। সে হিসেবে সূচকে বাংলাদেশ চার ধাপ এগিয়েছে। এবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানব উন্নয়ন পরিস্থিতি মধ্যম সারির দেশের কাতারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ৭৩, মালদ্বীপ ৯০, ভুটান ১২৭ ও আফগানিস্তান ১৮০তম অবস্থানে আছে। জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউএনডিপি মানব উন্নয়ন সূচক তৈরি করেছে। সূচকে শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড ও সর্বনিম্ন অবস্থানে দক্ষিণ সুদান। শীর্ষ পাঁচটি দেশ সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড, হংকং ও অস্ট্রেলিয়া। অন্য দিকে দক্ষিণ সুদান, শাদ, নাইজার, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও বুরুন্ডির অবস্থান সবার নিচে।


বিশ্বমুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশ ১০ ধাপ পিছিয়েছে
ফ্রান্সভিত্তিক রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ৩ মে ২০২২ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচক প্রকাশ করেছে। সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬২তম (স্কোর ৩৬ দশমিক ৬৩)। সূচকে বাংলাদেশ গত বছরের চেয়ে ১০ ধাপ পিছিয়েছে। ২০২১ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫২তম (স্কোর ৫০ দশমিক ২৯)। এবারের সূচকে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার ছাড়া সবার নিচে বাংলাদেশের অবস্থান। সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত ১৫০তম, পাকিস্তান ১৫৭তম, শ্রীলঙ্কা ১৪৬তম, আফগানিস্তান ১৫৬তম, নেপাল ৭৬তম, মালদ্বীপ ৮৭তম ও ভুটান ৩৩তম। সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমারের অবস্থান ১৭৬তম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, তার ভিত্তিতে ২০০২ সাল থেকে আরএসএফ এই সূচক প্রকাশ করে আসছে।
খারাপের দিক দিয়ে দ্বিতীয় ইরিত্রিয়া, তৃতীয় ইরান, চতুর্থ তুর্কমেনিস্তান, পঞ্চম মিয়ানমার, ষষ্ঠ চীন, সপ্তম ভিয়েতনাম, অষ্টম কিউবা, নবম ইরাক ও দশম অবস্থানে রয়েছে সিরিয়া।
সূচকে সবচেয়ে বেশি সংবাদমাধ্যমে স্বাধীনতা নিশ্চিত করা দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যথাক্রমে নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, কোস্টারিকা, লিথুয়ানিয়া ও লিচেনস্টাইন।


বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের অবনতি
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ার্ল্ড জাস্টিজ প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) ‘বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচক’ প্রকাশ করে ২৬ অক্টোবর ২০২২। ১৪০টি দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক এবং সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে ভেনিজুয়েলা। আইনের শাসনের দিক থেকে ভালো অবস্থানে থাকা অন্য ৯টি শীর্ষ দেশ হলো- যথাক্রমে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, এস্তোনেয়া ও আয়ারল্যান্ড। অন্য দিকে তলানিতে থাকা দেশগুলো হলো- কম্বেডিয়া, আফগানিস্তান, কঙ্গো ডি প্রজাতন্ত্র, হাইতি, মিসর, ক্যামেরুন, নিকারাগুয়া, মিয়ানমার ও মৌরিতানিয়া।
বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল (৬৯তম), শ্রীলঙ্কা (৭৪তম) ও ভারতের (৭৭তম) অবস্থান বাংলাদেশের অনেক উপরে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৪তম।


বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের অবনমন
১২ অক্টোবর ২০২২ তারিখে আয়ারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও জার্মানির ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে যৌথভাবে ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২২’ প্রকাশ করেছে। যা বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক নামেও পরিচিত। ক্ষুধা মেটানোর সক্ষমতায় বাংলাদেশের অবস্থানের আট ধাপ অবনতি হয়েছে। ১২১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম স্থানে নেমে এসেছে। ২০২১ সালে ১১৭টি দেশের মধ্যে অবস্থান ছিল ৭৬তম স্থানে।
সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা ১৭টি দেশ হলো- বেলারুশ, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, চিলি, চীন, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি, কুয়েত, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মন্টিনিগ্রো, মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, তুরস্ক ও উরুগুয়ে। আর সূচকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশগুলো হচ্ছে- সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, বুরুন্ডি, ইয়েমেন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, মাদাগাস্কার, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো ও চাদ (শাদ)।
১৯.৬ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ কোনোরকমে ‘মাঝারি ক্ষুধার’ স্তরে অবস্থান ধরে রেখেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা (৬৪) ও নেপালের (৮১) অবস্থানও বাংলাদেশের উপরে।
বিশ্ব দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়েছে
২৫ জানুয়ারি ২০২২, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ২০২১ সালের ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করেছে। সূচকে’ বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশে এক ধাপ এগিয়েছে। সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম হলেও এই বছর হয়েছ ১৩তম।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি বলছে, তালিকার অবস্থানে পরিবর্তন হলেও আসলে বাংলাদেশের দুর্নীতির চিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। কারণ বাংলাদেশের স্কোরের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। অন্য দেশের ভালো-খারাপ করার কারণে তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে মাত্র।
তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ দক্ষিণ সুদান। এর পরই রয়েছে সিরিয়া, সোমালিয়া ও ভেনিজুয়েলা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নিচে রয়েছে শুধু আফগানিস্তান। অন্য দিকে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড।


বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দি ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ‘গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি ইনডেক্স ২০২২’ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ করে গত সেপ্টেম্বরে। বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে ১১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০তম। গত বছরের চেয়ে চার ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। তার পরও রাজনৈতিক সঙ্কটে থাকা শ্রীলঙ্কার (৭৯) চেয়ে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ।
খাদ্য নিরাপত্তার শীর্ষ দেশ ফিনল্যান্ড। দেশটি ১০০ পয়েন্টের মধ্যে অর্জন করেছে ৮৩.৭। এর পরই আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস। অন্য দিকে খাদ্য নিরাপত্তার তলানিতে সিরিয়া। ১০০ পয়েন্টের মধ্যে দেশটির অর্জন মাত্র ৩৬.৩ পয়েন্ট। এর পরই যথাক্রমে হাইতি, ইয়েমেন, সিয়েরা লিওন ও মাদাগাস্কার। তবে বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সার্বিকভাবে স্থবিরতা চলে এসেছে। গত ১১ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তার মান সর্বোচ্চ উন্নীত হয়েছিল ২০১৯ সালে। পরের বছর ২০২০ সালেও তা অব্যাহত ছিল। অন্য দিকে ২০২১ সালে তা ৬২.২ পয়েন্টে নেমে আসে, যা চলতি বছরও বিদ্যমান। যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ সরবরাহ সঙ্কটে বৈশ্বিক খাদ্যমানের উন্নতি হচ্ছে না বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
বিশ^ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়েছে
দ্য হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ‘ইকোনমিক ফ্রিডম ইনডেক্স ২০২২’ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২। ১৭৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭তম। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর ও সর্বনিম্ন ১৭৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভুটান (৯৪), ভারত (১৩১), শ্রীলঙ্কা (১৩২), নেপাল (১৪৮), পাকিস্তান (১৫৩) ও মালদ্বীপ রয়েছে ১৬১তম স্থানে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের পরেই রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, তাইওয়ান, এস্তোনিয়া, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক। অন্য দিকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অবস্থানে থাকা উত্তর কোরিয়ার পরেই রয়েছে যথাক্রমে ভেনিজুয়েলা, কিউবা, সুদান, জিম্বাবুয়ে, বুরুন্ডি, ইরিত্রিয়া, ইরান, বলিভিয়া ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ১৭ ধাপ পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে অবস্থান ছিল ১২০তম।


বৈশ্বিক শিক্ষা সূচক বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে
শিক্ষার মানবিষয়ক বৈশ্বিক জ্ঞানসূচক, প্রতিভা সূচক ও বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক এই তিনটি সূচকের দু’টি সূচকেই বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে।
বৈশ্বিক জ্ঞানসূচক : ইউএনডিপি প্রকাশিত ২০২১ সালের বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকে ১৫৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম। বৈশ্বিক জ্ঞানসূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে পাকিস্তান (১২৩তম), নেপাল (১২৮তম) ও আফগানিস্তান (১৫১তম)। দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে আছে শ্রীলঙ্কা (৮৬তম)। ভারত ও ভুটান আছে যথাক্রমে ৯৭ ও ১০৮তম স্থানে।
প্রতিভাসূচক : গত অক্টোবর ২০২২ প্রকাশিত হয়েছে ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্সে ২১’-এ ১৩৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩ নম্বরে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। এ অঞ্চলে শীর্ষে আছে ভারত (৮৮)। এরপর আছে শ্রীলঙ্কা (৯৩), পাকিস্তান (১০৭) ও নেপাল (১১৩)।
বৈশ্বিক উদ্ভাবনসূচক : ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের’ প্রকাশিত ২০২১ সালের বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে ১৩২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৬ নম্বরে। উদ্ভাবন সূচকেও দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভারত (৪৬)। এরপর আছে শ্রীলঙ্কা (৯৫), পাকিস্তান (৯৯) ও নেপাল (১১১)।
বিশ্ব পরিবেশ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে
৫ জুন ২০২২ যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট ল অ্যান্ড পলিসি ‘বিশ্ব পরিবেশ সূচক’ প্রকাশ করে। ১৮০টি দেশের মধ্যে পরিবেশ গত দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক। আর পরিবেশের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে ভারত (১৮০তম)। বাংলাদেশের অবস্থানও তলানিতে। অর্থাৎ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৭তম অবস্থানে। সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে আফগানিস্তান ৮১, ভুটান ৮৫, মালদ্বীপ ১১৩, শ্রীলঙ্কা ১৩২, নেপাল ১৬২ ও পাকিস্তান ১৭৬তম। অন্য দিকে বায়ুদূষণেও শীর্ষে রয়েছে ভারতের নয়াদিল্লি ও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহর।