কর্ম সুখের মর্মবাণী
নজরুল ইসলাম শান্তু
শিকল ধরি শিকল গড়ি লোহায় পেটাই হামার,
ঘাম ঝরানোর পরিবেশে তৈরি করি খামার।
নিজকে গড়ি নিজে
রৌদ্র তাপে ভিজে
দেহটাকে নেই বানিয়ে লৌহ কিংবা তামার!
নদীর জলে ডুবসাঁতারে নেই গড়িয়ে সেতু,
ভেতর থেকে শক্তি জোগায় ছুটন্ত ধূমকেতু!
কর্ম করি ভাঁজে
তুচ্ছ করে লাজে
আমার জন্য অপেক্ষমাণ আম্মু জায়নামাজে!
একটু একটু করেই শেষে মেলতে থাকি ডানা,
পরিশ্রমের হাতজোড়া হয় সবকাজে কারখানা।
ধ্যান খেয়ালে থাকি
স্বাস্থ্য ধরে রাখি....
শান্তুমনির ভাবনাতে নেই মোটেও টালবাহানা!
আর যারা সব অলসতায় নিত্য কাটায় দিন,
তাদের ঘাড়ে অমনি চাপে দুঃখ সীমাহীন...!
ভ্রান্ত সময় ধরে
থাকছে যারা পড়ে...
তারাই কাবু আবু-থাবু চৌদ্দ দিনের জ্বরে!
কাজের মধ্যে সুখ প্রবাহ কাজের মধ্যে সাজ
কাজের মধ্যে বাস্তবতা, নকশিকাঁথার ভাঁজ।
কাজের মধ্যে সব
আর যত বৈভব
কাজের মধ্যে সতেজপ্রাণে সুখের কারুকাজ।
ধোঁকা
শাহানাজ পারভীন
পথের ধারে পড়ে থাকা একটি শিশুর
নীলাভ চোখে স্বপ্নগুলো ছিল আঁকা,
জটলা বেঁধে পথের ধূলি শুঁকছে কুকুর
ইচ্ছাগুলো লোহার খাঁচায় বন্দি রাখা।
বুকের দহন বাড়ায় যখন তীব্র জ্বালা
চারিদিকে গিরগিটিদের আনাগোনা,
সভ্যসমাজ নির্মমতার কশাঘাতে
গলতে থাকে পোড়া রোদে শরীর খানা।
যন্ত্রণারা রোজ হেঁটে যায় আঁধার ঢেকে
আঁধার কেনে আলোর দামে দুঃখ যত,
মধ্য রাতের ক্লান্ত চোখের স্বপ্নগুলো
জ্বালায় পোড়ায় অগ্নিকণায় বুকের ক্ষত।
স্বপ্নরা সব নিষ্পেষিত রৌদ্র খরায়
চেতনগুলো খাচ্ছে কুরে ঘুণেপোকা,
সভ্যতারা বিক্ষত আজ পথের বাঁকে
মানুষগুলো খোলস পরে দিচ্ছে ধোঁকা।
শীত এসেছে
শাহজাহান মোহাম্মদ
শীত এসেছে শীত এসেছে
শিশির কণা নিয়ে
মেজবানিটা করতে হবে
রসের পিঠা দিয়ে।
শাকসবজি ফল-ফলাদি
ভরে গেছে ক্ষেতে
সরষে ফুলের মধুটা খায়
মৌমাছিরা মেতে।
নদ-নদী ও খালে-বিলে
ভাসে পাখির ভেলা
জল ছিটিয়ে করে তারা
নানানরকম খেলা।
এসব দেখে খোকা খুকুর
পড়ে গেছে ধুম
বনভোজনের আয়োজনে
নেইকো চোখে ঘুম।
পথশিশু
মো: তোফাজ্জল হোসাইন
শীতের দিনে নানান রঙের
গরম জামা গায়,
পথশিশু কাঁপছে শীতে
তার তো নেই উপায়।
‘ধনী গরিব নাই ভেদাভেদ’
শুধুই মুখের বুলি,
অনেক টাকার মালিক যারা
দাও না জামা তুলি।
কনকনে ঐ শীতের রাতে
পথের ধারে আছে,
একটুও কি মায়া দয়া
নেই কি তোমার কাছে।
শীতের দিনে নানান খাবার
মজুদ তোমার ঘরে,
অনাহারে পথশিশু
না খেয়ে আজ মরে।
তোমার ছেলের দশটা জামা
ওদের একটা নাই
ওরাও মানুষ এই সমাজে
কেনো ভুলে যাই।
শীতের আমেজ
দিয়া রায় চম্পা
শীতের দিনে মামার বাড়ি
মিষ্টি পিঠা হাঁড়ি হাঁড়ি,
লাগে যে কি ভালো!
আমরা শিষ্য মামা গুরু
উঠোন জুড়ে গল্প শুরু,
সঙ্গে সূর্যের আলো।
রাজা রানী কল্পপুরী
গোমড়া ভূত আর চাঁদের বুড়ি
আরো যা যা আছে।
মিষ্টি পিঠা খেতে খেতে
সুখ সাগরে মেতে মেতে
শুনি মামার কাছে।
খেজুর রসের মিষ্টি পায়েস
তা খেতে যে কত আয়েশ
যখন সবাই খাবে,
নারকেল দুধে তৈরি পিঠা
তা খেতে যে বেজায় মিঠা
পরাণ জুড়ায় যাবে।
আমাদের গাঁ
সাগর আহমেদ
আমাদের গাঁয়ে, আছে ছোট এক বিল,
সে বিলের চোখে উড়ে, বক আর চিল।
বানের জলে নাচে, পুঁটি, টাকি, কৈ
রাতের শেষেই শুনি, জেলেদের হৈ।
সকালে আকাশে উড়ে শালিকের ঝাঁক
কাশবনে শোনা যায়, ডাহুকের ডাক।
রাখাল বাজায় বাঁশি আপন মনে
গরুপাল নিয়ে ঘোরে নানা বনে বনে।
আকাশটা কালো হয়ে নামলে বাদল
হৈ-চৈ করে ছুটে কিশোরের দল।
বৃষ্টির তালে গায় ভাটিয়াল গান
গানে গানে চাষি কাটে সোনাময়ী ধান।
বৈশাখী ঝড়ে, ঝরে, আম লিচু জাম
আনন্দে খোকা, খুকি, ছুটে অবিরাম।
ফুলের সুভাসে হয় মৌ চারপাশ
পুকুরের জলে বিলে ভাসে বুনোহাঁস।
