আম্মা আম্মা গো! আমার সূর্যমুখী গাছটা কে যেন ভেঙে ফেলেছে! আব্বা দেখেন আমার পুরো বাগানটা কে যেন ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। গোলাপ, চাঁপা, পাতাবাহার সব মাঝখান থেকে ভাঙা! ফুলপরীর কান্না শুনে সাতসকালে বাড়ির সবাই এসে বাগানে হাজির হলো।
ফুলপরী সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। তিন ভাইয়ের একটিমাত্র বোন নাম সিদ্দিকা। সারাদিন ফুল গাছ নিয়ে পড়ে থাকে বলে ভাইয়ারা আদর করে ফুলপরী ডাকে। আব্বা আম্মা তো মা মণি ছাড়া ডাক দেয় না। প্রতিদিনই বান্ধবীদের থেকে চেয়ে চেয়ে ফুলের চারা বিচি নিয়ে আসে। তারপর পরম মমতায় নিজের হাতে গড়া বাগানে লাগিয়ে দেয়। বড়ভাই এসব দেখে বললেন চল তোকে নার্সারিতে নিয়ে যাই। তোর পছন্দ মতো ফুলগাছ কিনে দেবো। ফুলপরীর আনন্দ দেখে কে! তখনি রাজি হয়ে যায়। ফুলপরী অনেক খুশি। বড়ভাই অনেকগুলো ফুলগাছ কিনে দিয়েছে।
এবার ফুলপরী সুন্দর জায়গা বেছে নিয়ে ফুলের বাগান তৈরি করে। নিজের হাতে বাঁশ কেটে টুকরো টুকরো করে খুঁটি গেড়ে বেড়া দেয়। একপাশে ছোট্ট একটা গেট বানায়। গেটের একপাশে গেটফুল গাছ লাগিয়ে দেয়। চিড়ল চিড়ল সবুজ পাতার মধ্যে টকটকে লাল ফুল। দেখতে অনেটা মাইকের মতো। শত শত ফুল গেটের উপর ফুটে থাকে। গেটটা দূর থেকে দেখতে খুব সুন্দর লাগে।
ফুলপরী সকালে বিকেলে বাগানে পানি দেয়। আগাছা পরিষ্কার করে। ছোট্ট হাতের ছোঁয়ায় ফুলগাছগুলো খুব দ্রুত লকলক করে বেড়ে উঠে। ফুলপরীর দুই চোখ আনন্দে জ্বলমল করে। প্রতিবেশী এক চাচা খুশি হয়ে আরো কিছু ফুলগাছ এনে দেয় ফুলপরীকে। সেও পরম মমতায় গাছগুলোর যতœ করে।
চাঁপাফুলের গাছটা হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। অন্য গাছগুলোতে কলি আসছে। ফুলপরী অধীর আগ্রহে ফুল ফোটার অপেক্ষা করে। দুটো গোলাপ গাছ লাগিয়েছে। একটা দেশী অন্যটা ইরানি। ইরানি গোলাপ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে দিনগুণে ফুলপরী। খুব শখ তার ছোট্ট বাগানে ইরানি গোলাপ ফুটলে সবাই দেখবে। খুশি হবে। সেই কথা ভেবে ভেবে ফুলপরী রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। সে জানে না এই বাগানে তার শখের ইরানি গোলাপ কোনো দিনই ফুটবে না। ফুটলেও হয়তো অন্য কোথাও অন্য কোনো দিন আল্লাহ দিতে পারেন।
সে দিন ও আসর নামাজ পড়ে বাগানে পানি দিয়ে বাগানের গেটটা দড়ি দিয়ে বেঁধে চলে আসে। পরদিন সকালে ফজর নামাজ পড়ে প্রতিদিনের নিয়মমতো আজো বাগানে আসে। দেখে ইরানি গোলাপ গাছগুলো পড়ে আছে এলোপাথাড়ি। কী করে কেমন করে জানে না সে। বাগানের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল ফুলপরী।