কুটুমপাখি
কাজী মারুফ
কুটুমপাখি কুটুমপাখি
করিস না ক্যান্ ডাকাডাকি?
এসে সবুজ গাঁয়
কারণটা কী বলবি ওরে
কত দিনে পেলাম তোরে
আয় না কাছে আয়।
খেজুর গুড়ের ভাপাপিঠা
খেতে লাগে দারুণ মিঠা
খাবি নাকি বল?
চিংড়ি মলা টেংরা পুঁটি
করছে জলে ছোটাছুটি
ওই পুকুরে চল।
ডানা মেলে উড়ে-উড়ে
মনের সুখে দেখ না ঘুরে
দেশের কেমন রূপ
করিস না আর মুখটা কালো
মন কিভাবে থাকবে ভালো
থাকিস যদি চুপ?
শীতের দিনে এদেশ এসে
সময় কাটাস হেসে হেসে
করিস সুখ আবাস
কুটুমপাখি কুটুমপাখি
সময় হলে দিয়ে ফাঁকি
আপন দেশে যাস!
আপন দেশে যাস।
শীত
আব্দুস সালাম
শীতের প্রকোপ বসছে জেঁকে
হিমকুয়াশায় যাচ্ছে ঢেকে
বাড়ছে ধীরে মাত্রা
খেটে খাওয়া মানুষগুলো
মাথায় নিয়ে ডালা-কুলো
করছে মাঠে যাত্রা।
শীতের কাঁপন ভুলে গিয়ে
শীতের ফসল তুলে নিয়ে
করছে হাটে বিক্রি
শীতের মজা নিচ্ছে তারা
শহর গাঁয়ের ধনী যারা
কিংবা আছে ডিগ্রি।
তবু যেন যাই না ভুলে
বাস করে যে নদীর কূলে
ফুটপাথে বা বস্তিতে
একটু পাশে দাঁড়াই যদি
এমন কী আর হবে ক্ষতি
থাকলে তারা স্বস্তিতে?
ভাবছ তাদের কেমনে তুষি?
যা পাবে সে তাতেই খুশি
চায় না বেশি কেহ।
খড়কুটোতে আগুন জ্বেলে
কিংবা চটের বস্তা পেলে
উষ্ণ রাখে দেহ।
শীতের গ্রাম
আব্দুল্লাহ আল মাসুম
আমাদের গ্রামে নামে
প্রচণ্ড শীত
ভোর থেকে কুয়াশা ও
পৌষের গীত।
মৃদু মৃদু হাওয়া বয়
ফসলের মাঠে
মাঝিদের নাওগুলো
বাঁধা পুব ঘাটে।
সাদা সাদা বকগুলো
উড়ে উড়ে যায়
নীলাকাশ ডানা মেলে
শুভ্র ছড়ায়।
খেজুরের গাছে গাছে
বাঁধা গোল হাঁড়ি
রসালো পিঠার মেলা
আঁকে ছায়া ভারী।
আঙিনাতে আঁকা ছবি
কত শত গাঁদা
রঙে রঙে ফোটা ফুল
লাল নীল সাদা।
বকেদের মেলা বসে
সবুজের ক্ষেতে
পুঁটি-পোনা খোঁজে বক
সমাদর পেতে।
নয়নে নয়ন মেলে
চেয়ে রয় চাষি
শত শত সবজিতে
মুখ ভরা হাসি।
সবুজের এ গাঁয়েতে
বারে বারে আসি
আমার গায়ের ছোঁয়া
খুব ভালোবাসি।
এমন শীতে
এম এইচ মুকুল
এমন শীতে বাইরে যেতে
মায়ের কড়া মানা,
ঠাণ্ডা জমে বাড়বে পীড়া
মৃত্যু দিবে হানা।
মায়ের কথা খোকন সোনা
চুপটি করে শোনে,
কেমন আছে এতিম শিশু
ভাবছে গৃহকোণে।
আমরা থাকি মায়ের বুকে
থাকি দালান ঘরে,
এমন শীতে অনাথ যারা
আছে কেমন করে?
মনের মাঝে পথ শিশুর
করুণ ছবি আঁকে,
কেমন করে বাঁচবে ওরা
বলতে থাকে মাকে।
শীতের দিনে
সুমিতা রাণী
শীতের হাওয়ায় কাঁপছে মানুষ
কাঁপছে পশু পাখির দল,
কেউ কি ভাবো শীতে আমার
কমছে নাকি দেহের বল?
আমার বুকে উড়ছে ধুলো
হাসছে না আর সবুজ ঘাস,
উধাও যেন ফড়িং গুলো
আসবে গেলে শীতের মাস?
মোজা পায়ে চাদর গায়ে
ঢাকছে সবাই মাথা-কান,
একলা আমার উদোম থাকা
কেমন থাকে দেহখান?
ছুটির ভোরে অনেক শিশু
বলতো ডেকে- মাঠে আয়,
আজকে তাদের হয়নি দেখা
আটকে দিলো ওদের মায়!
সন্ধ্যা হলেও বসছে না কেউ
আমার বুকে কিছুক্ষণ,
লেপের নিচে ঢুকছে সবাই
ভাবছে না কেউ মাঠের মন!
রাত্রিজুড়ে দাপায় শিশির
ভেজায় এসে আমার বুক,
সূর্য এসে ডাকলে ভোরে
আবার জাগে সাহসটুক।
এমনি করেই যাচ্ছে কেটে
সকাল দুপুর কিংবা রাত,
ছিন্ন শিশুর মতই কাটে
কেউ রাখে না মাথায় হাত।
