তিতুনের কান্না দেখে কে! ডান হাতের তালুতে দাঁতটা নিয়ে সে কী কান্না তার! সামনের পাটির ঠিক মাঝখান থেকে তার একটা দাঁত পড়ে গেল। কোনো কথা নেই বার্তা নেই। নোটিশ ছাড়াই টপাস করে দাঁতটা পড়ে গেল। এখন কী হবে তিতুনের?
বাড়ির পাশের একটা প্রাইমারি স্কুলে পড়ে তিতুন। ক্লাস থ্রি। তার বন্ধুরা খুব বিচ্ছু টাইপের। একবার কারো পেছনে লাগলে সহজে ছাড়ে না। অনেকটা চিনে জোঁকের মতো। কী যে বিচ্ছিরি ব্যাপারটা- একদম মুখের সামনের দাঁতটাই পড়ে গেল! কেমন অদ্ভুত দেখাচ্ছে তাকে। তিতুন আয়নায় সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। দাঁতের শূন্যস্থানটা দেখে সে আরো জোরে জোরে কাঁদতে থাকে। তিতুন তার দু’হাত দিয়ে মুখটা চেপে ধরে কাঁদছে। এখন সে কিভাবে স্কুলে যাবে? বন্ধুরা দেখলে তাকে কী বলবে?
তিতুনের কান্না শুনে দৌড়ে আসে তার বাবা। তার পাশে বসেন তিনি। চকোলেট, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, খেলনা কিনে দেয়াসহ এটা-সেটা করেও তার কান্না থামাতে পারছে না কেউ। হঠাৎ তিতুনের বাবা বুদ্ধি করে বলেন, ‘তিতুন সোনা, তুমি তো খুবই ভাগ্যবতী’। তিতুন এবার তার কান্নায় কিছুটা ব্রেক কশে। অবাক হয়ে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সে। বাকি কথাটুকুও শুনতে চাচ্ছে। তার বাবা আবার বলতে শুরু করেন, ‘জানো তিতুন, যদি তোমার পড়ে যাওয়া দাঁতটা ইঁদুরকে দিয়ে দাও, তাহলে ইঁদুরও বিনিময়ে তার একটা চকচকে সাদা দাঁত তোমাকে দেবে। তুমি কি ঝকঝকে সাদা দাঁত পেতে চাও?’ তিতুন তার কান্না থামিয়ে মাথা ঝুঁকে বলে, ‘হুম’। তার বাবা বলে, ‘তাহলে তো তোমাকে কান্না থামাতেই হবে।
না হলে তোমার কান্না শুনে ইঁদুর ভয়ে দৌড়ে পালাবে। তখন তোমার আর দাঁত উঠবে না। তোমার বন্ধুরা তোমাকে তখন ভেঙাবে!’ এবার তিতুন পুরোপুরি কান্না থামায়। তিতুনের বাবা তার দিকে একটা টিস্যু এগিয়ে দেন। তিতুন তার দাঁতটা টিস্যুতে মুড়িয়ে রাখে। তিতুনকে তার বাবা বিছানায় শুইয়ে দেন। মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছেন। টিস্যুসহ দাঁতটা নিয়ে তিনি তিতুনের বালিশের নিচে রাখেন। বলেন, ‘তুমি ঘুমিয়ে গেলে রাতে চুপি চুপি সেই ইঁদুরটা এসে তোমার দাঁতটা নিয়ে যাবে। দেখো, তোমার তখন সাদা ঝকঝকে একটা দাঁত গজাবে। দাঁতটা হবে ইঁদুরের দাঁতের মতো ধারালো। আর ইঁদুর যদি বালিশের নিচ থেকে দাঁতটা না নেয়; তোমার আর এই দাঁতটা আর উঠবে না।’
তিতুন খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে। বালিশের নিচে তার দাঁতটা খুঁজতে থাকে। কিন্তু বালিশের নিচে রাখা দাঁতটা সে পাচ্ছে না। সেখানে শুধু টিস্যুটা আছে। তিতুন বুঝতে পারে তার দাঁতটা ইঁদুরের পছন্দ হয়েছে। তিতুন এখন মহাখুশি। সে দৌড়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সে দেখে, তার পড়ে যাওয়া দাঁতের জায়গায় একটা নতুন দাঁত গজাচ্ছে। সাদা ঝকঝকে দাঁত। নতুন দাঁতটা দেখেই তিতুন সারা বাড়ি মাথায় তুলেছে। বারবার আয়নার সামনে গিয়ে ফোকলা দাঁতে হাসছে। খুশিতে সে বাক-বাকুম করছে। প্রজাপতির মত উড়ছে। তিতুনের এমন কাণ্ড দেখে তার বাবা মুখ টিপে টিপে হাসছেন। তিতুনের কাছে এখন তার বাবার হাসিটা কেমন যেন ইঁদুরের হাসির মতো লাগছে।
