বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষাকে চূড়ান্তভাবে রক্ষার দায়িত্ব মুসলমানদের ওপর এসেছে। এ জন্য এসেছে যে, বাংলা ভাষা এখন বাংলাদেশের অন্যতম ভাষা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষও বাংলা ভাষায় কথা বলে তবে, তাদের বাংলা আর বাংলাদেশের বাংলা একই রকম নয়। আমরা জানি উৎপত্তি হিসাবে বাংলা ভাষার শব্দ পাঁচ ভাগে বিভক্ত। ভাগগুলো হলো- তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশী, বিদেশী। এসব শব্দ মিলেই একটি বাংলা ভাষা। তবে মধ্যযুগে সুলতানি আমলে বাংলা ভাষা ছিল দুটো। এক. আরবি-ফারসি শব্দ মিশ্রিত মুসলমানি বাংলা; দুই. বেদ-পুরাণের তৎসমশব্দ বহুল হিন্দুয়ানি বাংলা। এ জন্যই বলেছি পশ্চিমবঙ্গের বাংলা আর বাংলাদেশের বাংলা এক নয়। তা ছাড়া উচ্চারণ ভঙ্গিতেও রয়েছে ভিন্নতা। সুলতানি আমল থেকেই আজ অবধি মুসলমান ও হিন্দু এ দু’জাতিই ঘরে বাইরে আলাদা আলাদা বাংলা ভাষায় কথা বলেছে এবং লিখেছে। যেমন মুসলমান বলে গোসল। হিন্দু বলে ¯œান। মুসলমান বলে মুরহুম; হিন্দু বলে প্রয়াত। মুসলমান আল্লাহ বলে। হিন্দু বলে ঈশ্বর। মুসলমান নবী রাসূল বলে। হিন্দু বলে দেব-দেবতা। মুসলমান সিয়াম রোজা বলে। হিন্দু বলে উপোস বা উপবাস। মুসলমান খালা ফুফু ডাকে; হিন্দু ডাকে মাসিপিসি। এভাবে বাংলা ভাষা দুটো। ইংরেজ আমলে এসে সাহিত্যে সংস্কৃতিতে হিন্দু-ইংরেজ মিলে মুসলমানি বাংলাকে বয়কট করার তথ্য পাওয়া যায়। সে জন্য মুসলমানরা প্রথমে ইংরেজিকে আমলে না নিয়ে তারা বাংলা ভাষাতেই থেকেছে। ইংরেজদের ২০০ বছরে মুসলমানি বাংলা খানিকটা বদলেছে, তবে সম্পূর্ণ বদলেনি। যেমন, মুসলমান এখন মুরহুম না বলে প্রয়াত বলে। আল্লাহ না বলে ঈশ্বর বলে ইত্যাদি। ব্রিটিশ আমলে ইংরেজি ভাষাকে এবং সুলতানি আমলের আগে সংস্কৃত ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলেছে। এখন বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বাংলায় হিন্দি ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। তার ওপর পুঁজিতন্ত্রের রাক্ষস হিসেবে পরিচিত ইংরেজি ভাষার আগ্রাসন তো আছেই।
ভারত সরকার চাচ্ছে সমগ্র ভারতের জাতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দি ভাষার প্রচলন হোক। তারা ইংরেজি ভাষাকেও দ্বিতীয় ভাষারূপে গ্রহণ করেছে। সেখানে বাংলা ভাষা এখন থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত মানুষ এখন ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে বেশি পছন্দ করছে। এ ছাড়া তারা আর ভাষার জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করতে চাইছে না। তারা চাইছে হিন্দু জাতীতাবাদে বিশ্বাস করতে। সেটি শেষতক না হলেও তারা ভারতীয় জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে হিন্দি ভাষার উন্নতি করতে চাইবে। এমন হলে পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা গুরুত্ব হারাতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে বাংলা এখনই গুরুত্ব হারাতে বসেছে। যেমন, ভবানী প্রসাদ মজুমদারের লেখা ‘বাংলাটা ঠিক আসে না’ শিরোনামে কবিতাটি পড়লে বোঝা যায়। বাংলা ভাষার গুরুত্ব কতটা কমে গেছে সেটি উপলব্ধি করা যায় এই কবিতার মাধ্যমে। ভবানী প্রসাদ মজুমদার জন্মগ্রহণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার দক্ষিণ শানপুর গ্রামে। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জাতীয়জীবন তার মুখস্থ। তার কবিতায় তিনি বাংলা ভাষার অবস্থান নির্ণয় করেছেন এভাবে-‘ইংলিশ ওর গুলে খাওয়া/ ওটাই ফাস্ট ল্যাঙ্গুয়েজ/ হিন্দি সেকেন্ড/ সত্যি বলছি/ হিন্দিতে ওর দারুণ তেজ/ কী লাভ বলুন বাংলা পড়ে?/ বিমান ছেড়ে ঠেলায় চড়ে?/ বেঙ্গলি থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ তাই/ তেমন ভালোবাসে না।’ অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে বাংলা এখনই তৃতীয় স্তরের ভাষা। কাজেই বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব পশ্চিম বঙ্গের মানুষ নিতে চাইবে না।

বাংলাদেশেও বাংলা ভাষা টানাপড়নের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা অনেক ছেলেমেয়ে কোনোরকম বাংলা বলতে পারলেও তারা বাংলা পড়তে ও লিখতে পারে না। তাদের কাছে বাংলা ভাষার গুরুত্ব নেই বললেই চলে। আবার বাংলাদেশের একটা অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেখানে উপজাতিদের বসবাস। দেখা যাচ্ছে উপজাতিরা দীর্ঘদিন ধরে চাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আলাদা হয়ে থাকতে। পার্বত্যবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি আলাদা। তারা বাংলা ভাষা বলতে পারলেও বাংলা ভাষাকে টিকে রাখার জন্য কোনো তৎপরতা দেখাতে চাইবে না। ইতোমধ্যে পার্বত্যবাসীদের নিজস্ব ভাষায় বইপুস্তক রচিত হয়েছে এবং আলাদা স্কুলও গড়ে উঠেছে। সুতরাং বাংলাদেশের দক্ষিণের একটা জনগোষ্ঠীর কাছে বাংলা ভাষা গুরুত্ব হারাতে পারে। অন্য দিকে, বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে হিন্দুস্তান। সীমান্তঘেঁষা হিন্দুস্তান হওয়ার ফলে বাংলাদেশে যেসব হিন্দু বসবাস করে তাদের আত্মা সীমান্তের ওপারে লটকে থাকে। ইতোমধ্যেই লক্ষ করা যাচ্ছে এসব হিন্দু বাংলাদেশকে ভালো না বাসলেও হিন্দুস্তানকে তারা মনে করে আপন ভূমি। ভালোও বাসে। স্বধর্ম স্বজাতি বলে একটা দুর্বলতা আছে। এটিই বাস্তবতা। এসব হিন্দুদেরও একটা অংশ চাচ্ছে বাংলাদেশে আর্যসংস্কৃতি ও হিন্দি ভাষার প্রসার ঘটুক। কাজেই বাংলা ভাষা রক্ষার দায়িত্ব মুসলমানদের ঘারেই বর্তাবে। মুসলমানরাও যদি বাংলা ভাষা রক্ষার ব্যাপারে উদাসিনতা দেখায় তবে বাংলা ভাষা তো দুর্বল হবেই সাথে সাথে মুসমানদেরও আত্মরক্ষা আত্মমর্যাদা আত্মপরিচয় সঙ্কটে পড়তে পারে।
বাংলা ভাষা মুসলমানদেরই ভাষা। মুসলমানরা বাংলা কথ্য ভাষার চর্চা না করলে হয়তো বাংলা ভাষার ইতিহাস অন্য রকম হতে পারত। এখন দাবি করা হয় আর্য হিন্দুরা ভারত বর্ষের আদি মানুষ এবং তাদের ভাষাই পরে বাংলা ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে। এ দাবিটিকে সঠিক বলার মতো তথ্য পাওয়া যায় না। যে তথ্য পাওয়া যায় তাতে দেখা যায়, আর্যরা ভারতবর্ষে এসেছিল খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে। তারা এসেছিল মধ্য এশিয়া থেকে ভারতের উত্তর পশ্চিম দিক হয়ে। আর্যরাও ছিল ভারতবর্ষে উপনিবেশবাদী। অনেকে বলেন, আর্যরা ভারতের অভিবাসী। অভিবাসন ও উপনিবেশের মধ্যে ফারাক আছে। উপনিবেশবাদ নিবাসীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। অভিবাসীরা সেটা করতে চায় না। আর্যরা ভারতবর্ষের আদি মানুষ এই দাবিটা দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো আবিষ্কৃত হওয়ার পর সে ইতিহাস পাল্টে গেছে। হরপ্প ও মহেঞ্জোদারো খুঁড়ে জানা গেল, আর্য আগমনের আগেই সেখানে বিভিন্ন ধারার মানুষের বসবাস ছিল। আর্যরা ছিল হিংসুটে। হরপ্পা মহেঞ্জোদারোর অধিবাসীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। আর্যরা এখানে আধিপত্য লাভ করতে সক্ষম হয়। এই আর্য হিন্দুদের ভাষা বাংলা ছিল না। তারা বৈদিক ভাষাকে সাথে করে এসেছিল। ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। এ সময় বঙ্গ ছিল গুপ্ত সাম্রাজ্যাধীন। গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী। গুপ্ত শাসনের পর শুরু হয় পাল শাসন। পাল সাম্রাজ্যের শুরুতে বঙ্গে চলছিল মাৎস্যন্যায়। মাৎস্যন্যায় শেষে পালরা প্রভূত উন্নতি করে। পালদের হটিয়ে সেন রাজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সেনরা বাংলাদেশে এসেছিল দাক্ষিণাত্য থেকে। দাক্ষিণাত্যের বর্তমান পরিচিতি কর্ণাটক হিসেবে। সামন্ত সেন ছিলেন সেন রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা। সেনদের পূর্বপুরুষ প্রথমে ব্রাহ্মণ এবং পরে যুদ্ধবিদ্যায় দক্ষতা অর্জন করে ক্ষত্রীয় উপাধি ধারণ করেন। বল্লাল সেন করেন কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তন। সেনরা ছিল অত্যাচারী যোদ্ধা। তাদের দ্বারা অতিষ্ঠ হয়ে বৌদ্ধরা দেশ ছাড়ে এবং কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করে এ দেশে রয়ে যান। বৌদ্ধরা থাকতেন মাথা মুণ্ডন করে। সেজন্য ধর্মান্তরিত বৌদ্ধদের হিন্দুরা ন্যাড়া মুসলিম বলতেন।
ত্রয়োদশ শতকের গোড়ার দিকে তুর্কি মুসলমানরা রাজনৈতিকভাবে বঙ্গে আসেন এবং ভাষা সাহিত্য শিল্প সংস্কৃতিও সাথে করে নিয়ে আসেন। এর আগে এ অঞ্চলে আরব মুসলমানরা বাণিজ্য করেছেন, ধর্মও প্রচার করেছেন। মুসলমানরা এসে এ অঞ্চলের নিবর্ণের মানুষকে কাছে টানেন। এ অঞ্চলের নিবর্ণের হিন্দু বৌদ্ধরা ছিল সামাজিকভাবে উপেক্ষিত। মুসলমানদের সংস্পর্শে এসে তারা আত্মমর্যাদা ফিরে পেলেন। মুসলমান সুলতানরা লক্ষ করলেন এ অঞ্চলের মানুষদের ভাষার ভিন্নতা। উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ ক্ষত্রীয়রা ব্যবহার করেন বেদ উপনিষদের ভাষা। আর নি¤œবর্ণরা কথা বলে তা থেকে আলাদা ভাষায়। মুসলমানরা নিবর্ণের মানুষদের মুখের ভাষাকে গুরুত্ব দিলেন এবং সেই ভাষাকে টিকে রাখার জন্য সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করলেন। শুরু হলো মানুষের মুখের ভাষায় সাহিত্য শিল্প রচনা। ফলে বেদ উপনিষদ ও চর্যাপদের ভাষা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি ভাষার অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল। যে ভাষার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মুসলমানি বাংলা’ ভাষা। মুসলমানি বাংলা মানে আরবি-ফারসি শব্দ মিশ্রিত বাংলা ভাষা।

বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদকে বলা হয়। ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ চর্যাপদের ভাষাকে বাংলা বললেও তা সর্বাংশে বাংলা নয়। পরিপূর্ণ বাংলা ভাষার প্রথম গ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যও সুলতানি আমলের প্রথম বাংলা ভাষার গ্রন্থ। সুলতানি যুগের দ্বিতীয় সাহিত্যকর্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে কৃত্তিবাস রচিত রামায়ণ। গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ কর্তৃক পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে কৃত্তিবাস বাংলা ভাষায় রামায়ণ রচনা করার শাহস পান। রচনা করা হয় শ্রীরাম পাঁচালী। কাজী দৌলত ও মহাকবি আলাওল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে উচ্চমার্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালান। মুসলমান শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষা স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে থাকে। সে কারণে বলা হয়, মধ্যযুগের মুসলিম শাসকগণ ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রধান স্থপতি। চর্যাপদ থেকে শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন পর্যন্তু মধ্যবর্তী একটা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। ইলিয়াস শাহর আমলেই শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন রচিত হয়। এ সময়টাতে আরাকান রাজসভাও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে পৃষ্ঠপোষকতা করে। আরাকান ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। বাংলা সাহিত্যে আরাকানকে রোয়াঙ্গ বা রোসাঙ্গ বলা হয়েছে। রোসাঙ্গের উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, নসরুল্লাহ খান। গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন বিদ্বান। এ জন্য তিনি জ্ঞানীদের কদর বুঝতেন। তিনি নিজেও ফার্সি ভাষায় কবিতা লিখতেন। কৃত্তিবাস রামায়ণ রচনা করেন ঠিকই কিন্তু তিনি এ গ্রন্থের কোথাও গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের নাম উল্লেখ করেননি। কারণ রামায়ণ হিন্দু ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ। এই গ্রন্থ পাঠ ও শ্রবণ উভই পুণ্যের। ব্রাহ্মণদের বিশ্বাস এই পবিত্র গ্রন্থে যবন মুসলমানের নাম উল্লেখ করা ন্যায়সঙ্গত নয়। যদিও এ রামায়ণ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
শ্রীকৃষ্ণ বিজয় রচনা করেন মালাধর বসু। পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন মুসলিম সুলতান আজম শাহ। আলাউদ্দিন হোসেন শাহের অনুপ্রেরণায় বিপ্রদাস রচনা করেন মনসা বিজয়। হোসেন শাহের কর্মচারী যশোরাজ খান বাংলা ভাষায় রচনা করেন কৃষ্ণলীলা কাব্য। হোসেন শাহর আমলেই রচিত হয় রূপ গোস্বামীর ‘উদ্ভব সন্দেশ’ এবং সংস্কৃত পদাবলি। এসব সাহিত্যকর্ম দেখে ব্রাহ্মণরা মন্তব্য করলেন, যারা বাংলা ভাষায় অষ্টাদশী পুরাণ ও রামায়ণ পড়বে তারা রৌরব নামক নরকে যাবে। এ সময় মুসলমান কবিরাও সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন। শাহ মুহাম্মদ সগীর রচনা করলেন ইউসুফ জোলেখা কাব্য। শাহ সগীরের সমসাময়িক আর একজন কবি সাবরিদ খান রচনা করেন বিদ্যাসুন্দর কাব্য। দৌলত উজির বাহরাম খাঁ রচনা করেন লাইলি মজনু, সৈয়দ সুলতান রচনা করেন নবী বংশ। কোরেশী মাগন ঠাকুর রচনা করেন চন্দ্রাবতী, সয়ফুলমুলক বদিউিজ্জামাল। সুতরাং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শক্ত ভিত প্রতিষ্ঠিত হয় সুলতানি আমলে, মুসলমানদের হাতে। অতএব বাংলা ভাষা টিকিয়ে রাখার দায়িত্বও মুসলমানদের ।