‘আহা, আজি এ বসন্তে
এত ফুল ফুটে/এত বাঁশি বাজে/এত পাখি গায়’
এমন অনেক গান ও কবিতা রচিত হয়েছে বাংলার প্রিয় ঋতু, ঋতুরাজ বসন্তকে নিয়ে। মাঘের শীতে যখন বাঘ কাঁপে তখনও কবি মনে দোলা দেয় ক’দিন পরেই বসন্ত আসবে প্রকৃতিতে। সেজে উঠবে নতুন সাজে। নানান রঙে রঙিন হয়ে উঠবে চারদিক। মাঘের শেষে শীতের শেষ উত্তুরে ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে যায় এবং জানান দেয় বসন্ত আসন্ন। ইংরেজি ফেব্রুয়ারি মাস পড়তেই বসন্তের পরশ লাগতে থাকে মনে, প্রকৃতিতে। বসন্ত আসার পূর্বেই কোকিল সুমিষ্ট স্বরে ভোর বেলা ডেকে যায়। যেনো বলে যায় সবার প্রিয় ঋতু বসন্ত এসে গেছে, এই তো আর কটা দিন। স্নিগ্ধ সুন্দর রূপবৈচিত্র্য নিয়ে প্রকৃতিতে আবির্ভাব ঘটাবে ঋতুরাজ বসন্ত। শীতের শেষ দিকের সময় গাছের পাতা ঝরে গিয়ে সাক্ষী হিসেবে রেখে যায় লিকলিকে ডালপালা গুলো। পত্র ঝরা গাছের দিকে তাকালে বুঝাই যায়না ক’দিন আগেও এ গাছের প্রতিটি শাখায় পাতা ছিল। তবে পাতাশূন্য ডালের দিকে তাকালেও একটা সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায়। যেনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা পাতাবিহীন শাখার বৃক্ষ।
বসন্তের শুরুতেই প্রকৃতির রুক্ষ ভাব কেটে যায়। গাছে গাছে নতুন পাতা গজাতে শুরু করে। বৃক্ষরাজি যেনো নতুন করে প্রাণের সঞ্চার ফিরে পায়। হালকা সবুজ রঙের পাতায় পাতায় সুশোভিত হয়ে ওঠে বন-বনানী। পাতাবিহীন শাখার বুক চিড়ে যখন সবুজ পাতারা ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়ায় প্রকৃতির সৌন্দর্য ধীরে ধীরে চোখের সামনে ভেসে উঠে। কোকিলের আগমন আরো স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়। নিয়ম করে প্রতিদিন ক্ষণে ক্ষণে গেয়ে ওঠে আপন মনে তার সুমিষ্ট স্বরে। ভোরের সূর্য, দখিনা বাতাস, ঝলমলে আবহাওয়া সবকিছুই জানান দেয় বসন্তের আগমন। ফাল্গুনের ১ তারিখ বাংলাদেশে উদযাপিত হয় বসন্ত উৎসব। এই উৎসবের মধ্য দিয়েই শুভ সূচনা হয় ঋতুরাজ বসন্তের।
গাছে গাছে ফুটতে শুরু করে নানান ধরনের নানান রঙের ফুল। বসন্তে অশোক, আকআড়কাঁটা, হিমঝুরি, ইউক্যালিপটাস, রক্তকাঞ্চন, কুরচি, কুসুম, গাব, গামারি, গ্লিরিসিডিয়া, ঘোড়ানিম, জংলীবাদাম, জ্যাকারান্ডা, দেবদারু, নাগেশ্বর, পলকজুঁই, পলাশ, পাখিফুল, পালাম, বুদ্ধনারিকেল, মণিমালা, মহুয়া, মাদার, মুচকুন্দ, রুদ্রপলাশ, শাল, শিমুল, স্বর্ণশিমুল, ক্যামেলিয়া ইত্যাদি ফুল ফোটে। তবে শিমুল পলাশের বনে যেন রঙের আগুন লেগে যায়। লালে লাল হয়ে যায় চারদিক। বসন্তের ফুরফুরে দখিনা বাতাস আর কোকিলের মিষ্টি সুরের গানে মন ভরে যায় সকলের। বসন্ত ঋতুকে পছন্দ করে না এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। বসন্ত তার স্বমহিমায় উজ্জ্বল। আপন বৈশিষ্ট্যের জন্য বসন্তকে ঋতুরাজও বলা হয়।