তপু ক্লাস থ্রিতে পড়ে। শুকনো লিকলিকে কাঠির মতো শরীর। বয়স ৯। সে গতকাল রাতে মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, মা! আগামীকাল কয় রোজা? দিলারা বেগম পার্শ্ব ফিরে বললেন, আট রোজা। আমি কিন্তু আগামীকাল রোজা রাখব মা! সাহরির সময় ডেকে দিয়ো কিন্তু! দিলারা বেগম ছেলেকে জাপটে ধরে বললেন, তুমি বাবা এখন অনেক ছোট। আরেকটু বড় হও। তারপর রোজা রাখবে। তপু চোখমুখ শক্ত করে বলল, আমি এখন অনেক বড় হয়েছি। এই দেখো আমি আমার কান ছুঁতে পারি। তপু মাথার উপর হাত নিয়ে বাম কান ছুঁতে চেষ্টা করল। যেভাবে শিশুরা কান ছুঁয়ে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়। ঠিক সে রকম। দিলারা বেগম প্রশ্রয়ের সুরে বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে বাবা। তুমি অনেক বড় হয়েছ। তোমাকে ডেকে দেবো।
দিলারা বেগম সেই শুরু রমজান থেকে তপুকে বলে আসছেন সাহরির সময় ডেকে দেবেন। কিন্তু ডেকে দেন না। তিনি এবং তপুর বাবা ঠিকই চুপিসারে উঠে রাতে খাওয়াদাওয়া করেন। তপুকে ডাক দেন না। আজও তিনি তাই করলেন। ডাক দিলেন না। সকালে তপু মন খারাপ করে খেলতে গেল।
তপুর ক্লাসফ্রেন্ড মিতু। সে খেলার মাঠে বলল, কী রে তপু! আজ তোর মন খারাপ কেন? তপু কিছু বলল না। সে মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে রইল। মিতু বলল, ওরকম গোঁ ধরে আছিস কেন! কথা বল! তপু বলল, মিতু তুই কি আজ রোজা রেখেছিস? হ্যাঁ, আমি রোজা রেখেছি। তপু বলল, আমিও রোজা রাখতে চাই কিন্তু! এই বলে তপু মাথা চুলকাল। মিতু বলল কিন্তু কী! বল! আম্মু সাহরির সময় ডেকে দেয় না। মিতু বলল, ব্যাপার না। আমার কাছে একটি বুদ্ধি আছে। তপু চোখ কপালে তুলে বলল, কী বুদ্ধি! রাতের বেলা যখন তুই ঘুমাবি, তখন আন্টির আঁচলের সাথে তোর শার্টের কোণ গিঁট দিয়ে রাখবি। রাখলে কী হবে? আন্টি যখন সাহরির সময় উঠবে তখন তোর শার্টের সাথে টান লাগবে। তুই জাগ্রত হবি। তপু ফিক করে হেসে দিয়ে বলল, দারুণ আইডিয়া তো তোর মাথায়! মিতু বলল হুঁম, আমিও মাঝে মধ্যে এমন করি। তুই বুদ্ধিটা কাজে লাগাতে পারিস, ভালো হবে। তপু রাতের বেলা শোয়ার সময় বুদ্ধিটা কাজে লাগাল। দিলারা বেগম সাহরির সময় উঠতে গিয়ে একটু টান অনুভব করলেন। তিনি দেখেন তার আঁচল আটকে আছে তপুর শার্টের সাথে। তপু পিটপিট করে চোখ কচলে বলল মা! আমি রোজা রাখব! দিলারা বেগম কিছু বললেন না। তার কাছে মনে হলো বারবার একটি ছেলের আশা ভঙ্গ করা ঠিক না। তিনি ছেলেকে দুধমাখা ভাত খাওয়ালেন। তপু অত্যন্ত খুশি হলো। সে এখন প্রতিদিন বুদ্ধি করে মায়ের সাথে সাহরির সময় উঠে পড়ে।
তপু ক্লাস থ্রিতে পড়ে। শুকনো লিকলিকে কাঠির মতো শরীর। বয়স ৯। সে গতকাল রাতে মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, মা! আগামীকাল কয় রোজা? দিলারা বেগম পার্শ্ব...
