সময় কারো জন্য অপেক্ষায় নেই। চলে আপন গতিতে। অতীত ফেরাতে পারে না কেউ। ভবিষ্যৎ তো আসতেই থাকবে। বর্তমান কথা বলে। বর্তমান হয়ে অতীত সময়। বছর ঘুরে আসে। বছর চলে যায়। আসে নতুন বছর। নতুন দিনের শুভেচ্ছায়।
বাংলা বর্ষের প্রথম মাস বৈশাখ। বৈশাখের কত গান। কত কবিতার কথা জানি। স্মৃতিও আছে নানান রকম। বৈশাখের কত অনুষ্ঠানে গান করেছি। শুনেছে শ্রোতা। হাত নেড়ে বলেছে সালাম।
নজরুল গেয়েছেন। শিল্পীদের মুখে নজরুল আছে- ওই নতুনের/কেতন ওড়ে /কালবোশেখীর ঝড়/ তোরা সব/ জয়োধ্বনি কর। রক্ত টগবগ করে। সুরের জোয়ার বয়।
এসো হে বৈশাখ এসো এসো- রবীন্দ্রনাথ। শিল্পীরা গায়। কণ্ঠে সুর ওঠে।
হেমন্ত মুখার্জির গানটি পছন্দ। যখন তরুণ, বেশ ক’টি গান কণ্ঠস্থ, সারাদিন ধরেই গাইতাম। যখন তখন গাইতাম। সে এক আনন্দের দিন। দিন কি থাকে। ধরে রাখব কেমন ধারায়। তো বলছিলাম সারাদিন গাওয়ার স্মৃতি। যে গানগুলো কণ্ঠস্থ তার একটি : ‘অরূপ তোমার বাণী’। ভালো লাগত সবার। একটি আনন্দের গান। গানের প্রভাব তাদের ওপর। যারা ইতিহাস পাঠের বন্ধু আমার নাম দিলো : ‘অরূপ তোমার বাণী’।
এ দিকে বন্ধু-বান্ধবদের সাহিত্য বাসরে গান গাইতে বলতেই ধরতাম : ‘শুধু তোমার বাণী, নয়গো বন্ধু, হে প্রিয়’। এ গানেও মুগ্ধ। সেখানে আমার নাম হলো : ‘শুধু তোমার বাণী’। এখন অখণ্ড অবসর। মনে পড়ে সেই সব দিন। স্মৃতিও লিখলাম। বই লিখলাম ক’খানি। বিক্রিবাট্টা ভালো। হাতে এলে অনায়াসে একটি ইলিশ মাছ জুটে যায়, তা দিয়ে মধ্যাহ্ন ও রাত্রির ভোজ। জীবন স্বচ্ছন্দ গতিতে এগিয়ে চলেছে নতুন নতুন ভোরের পানে। নতুন দিনের পানে। নতুন বছর নতুন কথা। নতুন স্বপ্নের বুনন।
ঘুরি দেশ বিদেশ। বাংলার গ্রাম নদী। সুন্দর অনেক। ছবির মতো বনবনানী গাছ। পাখির ডাক। প্রজাতির ডানা।
মনে পড়ে- মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও শায়েস্তাগঞ্জের কথা। গ্রামবাংলা এখনো এত সুন্দর ও সবুজ যে এর তুলনা পৃথিবীর কোথাও খুঁজে পাইনি। সবচেয়ে সুন্দর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। শুধু একটু মনটাকে সুন্দর দিকে প্রবাহিত করলেই নতুন মানুষে পরিণত হই। শুধু হিংসা-বিদ্বেষ ছাড়লেই আমরা ভালো মানুষ! সেখানে দেখা কত মানুষ! অনেকে ভালোবাসা জানায় এই অধমকে, পিতার কারণে, মাতার কারণে, ভগ্নির কারণে, স্ত্রীর কারণে, ভাইয়ের কারণে, কন্যাদের কারণে। কাছে আসতে চায়, গান শুনতে চায়, কথা বলতে চায়। একদিন একজন বয়স্কা মহিলা বললেন যে, আপনাকে দেখলে মনে হয় যেন তারুণ্য স্থির হয়ে আছে। নিজের দিকে তাকালাম, তা তো নয়। মেঘে মেঘে বলা। চুল দাড়ি সাদা। চেহারা পরিবর্তন। বয়স শুধু বাড়তি।
চলে যাওয়ার দলে আমি। কত বন্ধু চলে গেছে। সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক গেছে, শামসুর রাহমান গেছে, আল মাহমুদও গেছে। আমিও যাই যাই করছি। মনে পড়ে একবার ভাইকে সাথে নিয়ে যাই কবর জিয়ারতে পিতা ও মাতার। পাঁচ দিন পর আমাদের ছেড়ে চলে যান ভাই। তিনজনের কবর জিয়ারত করতে চলেছি। জীবনের ভরসা নেই। আমার আহ্বান সবার কাছে : আসুন, সবাই মিলে আজকের দিনটিকে সুন্দর করে তুলি। নিজে সুন্দর না হলে পরিবেশ সুন্দর হবে না, দেশ সুন্দর হবে না। রাজনীতি পথে বসিয়েছে আমাদের।
বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে তার নিজ গতিতে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
নিঃসংকোচে লিখি। বিশ্বাস পরিত্যাগ করব না, মরে গেলেও না। বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকব। যারা বিশ্বাস করে না, তারাও বেঁচে থাক। ওদের বই পড়ি না, কাগজ ছুঁই না। দেখা যাক, বুড়িগঙ্গার পানি কত দূর গড়ায়। ইতিহাসের ছাত্র, তাই ইতিহাসের পাঠের শেষে কী হয়, জানা আছে। সুন্দর আমাদের জন্য প্রতীক্ষিত, কারণ আমরা সুন্দরের প্রতীক্ষায়। আমরা মানুষ ভালোবাসি। দেশ ভালোবাসি। মাটি ভালোবাসি। বিশ্বাস সুদৃঢ়। ভয় নেই। নতুন বছর, শুভ নববর্ষ।
সময় কারো জন্য অপেক্ষায় নেই। চলে আপন গতিতে। অতীত ফেরাতে পারে না কেউ। ভবিষ্যৎ তো আসতেই থাকবে। বর্তমান কথা বলে। বর্তমান হয়ে অতীত সময়। বছর...
