হাসির রোগ
সায়ীদ আবুবকর
যা-ই তারা শোনে, হাসে খলখল।
‘পানির আরেক নাম হলো জল’,
বলে ওঠে কেউ। তাই শুনে তারা
‘সে-কি কথা!’ বলে হেসে দিশেহারা।
একজন বলে, ‘একটা পাগল
বললো সেদিন, পৃথিবীটা গোল।’
‘পৃথিবীটা গোল- হায় রে কী বলে!’
একথা বলেই হেসে তারা চলে,
হাসতে হাসতে পেটে ধরে খিল।
একজন বলে, ‘ওই দ্যাখ চিল।’
চোখ তুলে সব তাকায় আকাশে;
চিল দেখে তারা ‘চিল’ বলে হাসে।
একজন বলে, ‘ওই দ্যাখ দ্যাখ
একটা কুকুর।’ শুনে খ্যাঁক খ্যাঁক
করে তারা হাসে। কুকুরটা, হায়,
সেই হাসি শুনে থমকে দাঁড়ায়;
থমকে দাঁড়িয়ে করে ঘেউ ঘেউ।
‘কান পেতে শোন,’ বলে ওঠে কেউ,
‘কুকুর কী কয়।’ হঠাৎ সকলে
ঝড়ো হাসি জোড়ে ‘ঘেউ ঘেউ’ বলে।
যাচ্ছিল এক বয়স্ক লোক;
সেদিকে তাদের ছুটে যায় চোখ।
একজন বলে, ‘লোকটা কি বুড়ো!’
‘হা-হা হা-হা বুড়ো! হি-হি হি-হি বুড়ো!’
বলে তারা সব সে-কী হাসা হাসে!
লোকটা তাদের দিকে তেড়ে আসে।
তাই দেখে তারা খুবই মজা পায়,
হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খায়।
গড়াগড়ি খেয়ে খুব তারা ঘামে।
হঠাৎ তাদের কাছে এসে থামে
পুলিশের গাড়ি। একজন কয়,
‘দ্যাখ্ না পুলিশ!’ ‘মিথ্যে তো নয়।
পুলিশ! পুলিশ!’ বলে ওঠে তারা,
তারপর হেসে হেসে দিশেহারা।
অনন্যোপায় পুলিশরা শেষে
হঠাৎ তাদের পৃষ্ঠদেশে
চালাতে লাগলো লোহার ডাণ্ডা
কয়েক ঘা খেয়ে সেই যে ঠাণ্ডা
হয়ে গেল তারা, কোনোদিন আমি
করতে দেখিনি কোনো বাঁদরামি।
যে অসুখই হোক, শোনো মিয়াভাই,
মারের উপর ঔষধ নাই।
মায়ের ছবি
রফিকুল নাজিম
মাগো, তুমি কোথায় আছ
কোন সে দূরের দেশে?
কোন আকাশে একলা থাকো
কোন সে তারার পাশে?
তোমার মায়ার আদর৬ সোহাগ
কপালে না জোটে,
আমার খুশির হিসাবনিকাশ
হঠাৎ গেল টুটে!
মাগো, তুমি ফিরে এসো
আমায় আদর করো,
হাঁটতে গিয়ে পড়ে গেলে
হাতটি আমার ধরো।
মাগো, তুমি আড়াল হলে
কেমনে ভালো থাকি,
তাই তো মাগো চোখের জলে
তোমার ছবিই আঁকি।
মা দিবস
শাহানাজ শিউলী
যুগ, বছর, মাস, তারিখ
সবই আমার মায়ের দিন।
গায়ের ত্বকে হলে জুতা,
শোধ হবে না মায়ের ঋণ।
নির্ভয় আর নির্ভরতা
সে যে সবার মায়ের বুক,
দুঃখ-কষ্ট আড়াল করে
বিলিয়ে দেয় নিজের সুখ।
অসুখ-বিসুখ, বিপদ-আপদ
সবখানে মা শীতল ছায়া,
বুকখানা তার পরশ পাথর
বদনখানি জাদুর মায়া।
মায়ের গায়ের রক্তঘামে
আগলে রাখে সুখের নীড়,
তার অভাবে বিশ্বনিখিল
ঢেউয়ে ভাঙ্গা নদীর তীর।
মা আমাদের সবার সেরা
তার চরণে স্বর্গবাসী,
দুঃখটাকে মোচন করে
ফোটাব তার মুখে হাসি।
ঝড়ে আম পড়ে
কাজল আক্তার নিশি
ঝড় উঠেছে ঝড় উঠেছে
বাতাসে আম পড়ে,
দল বেঁধে চল যাইরে সবাই
আনবো বস্তা ভরে।
আম কুড়াব ঝড়ের ভেতর
থাক অন্য কাম,
ঝড়ের শেষে ভাগ করব
কাঁচা-পাকা আম।
যাসনে বাবা ঝড়ের মাঝে
ভয়ে কাঁপে বুক
ও‘মা’ ঝড়ের মাঝে আম কুড়াতে
মনে লাগে সুখ।
মমতার খনি
নুশরাত রুমু
প্রথম থেকে শেষ অবধি
ভালোবাসায় মা
জীবন শুরু শেষের আগে
কভু ফুরায় না ।
জঠর মাঝে নিয়ে আমায়
কাটালে দশ মাস
প্রসব জ্বালায় কাতর তবু
নিত্য খুশির চাষ।
তোমার কোলে শুয়ে মাগো
বুলি শিখি হায়
তোমার বুকের সুধা পিয়ে
তৃষ্ণা মিটে যায়।
শাসন-আদর করো তুমি
ভালোবাসার খনি
স্বর্গ আছে তোমার পায়ে
দুই নয়নের মণি।
বৃষ্টি হোক আমার দেশে
শাহীন খান
অঝোর ধারায় বৃষ্টি হোক আমার দেশে
ছন্দ এসে লিখুক ছড়া হেসে হেসে।
বৃষ্টি জলে ভাসুক শহর এবং গলি
দুঃখ সকল যাক হয়ে যাক জলাঞ্জলি।
মনের বাগান জুড়ে ফুটুক কদম কেয়া
ভাবটা করুক সবার মাঝে দেয়া নেয়া।
সজীবতায় ভরা থাকুক তার পরিবেশ
কোনদিনই ছোঁয় না যেন মন্দেরই লেশ!
ঝুম বৃষ্টিতে এসো সবে ভিজতে থাকি
এক অনাবিল স্বপ্ন রঙ্গে মনটা আঁকি।
