গত এক দশকে সরকারের নীতি সহায়তা, দেশীয় বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগের কারণে বর্তমানে প্রায় ৮৫ ভাগের ওপর মার্কেট শেয়ার দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর। এদের মধ্যে রয়েছে ভিশন, ওয়ালটন, মিনিস্টার, যমুনাসহ আরো বেশ কিছু কোম্পানি। ভিশন রেফ্রিজারেটর তার গুণগত মান, আকর্ষণীয় ডিজাইন, দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য ইতোমধ্যেই ক্রেতা সন্তুষ্টির মাধ্যমে বাজারে শক্ত অবস্থান দখল করে নিয়েছে। কথাগুলো বলেছেন আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল। নয়া দিগন্তের সাথে তিনি এ নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন।

প্রশ্ন : দেশে ফ্রিজের বাজারে প্রবৃদ্ধি কেমন? আপনাদের অবস্থান কী?
উত্তর : বর্তমানে দেশে ফ্রিজের চাহিদা প্রতিনিহত বাড়ছে। বাসাবাড়িতে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ একটা আবশ্যিক পণ্যের নাম। দেশে ১০ বছর আগে ফ্রিজের বার্ষিক চাহিদা ছিল ১০ লাখের মতো। এখন এর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫-৩০ লাখ। প্রতি বছর মার্কেট সাইজ প্রায় ১৫-২০% হারে বাড়ছে। তবে দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশী ব্রান্ডের দাপট ছিল। ২. কোরবানির ঈদ ঘিরে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
বাংলাদেশের মানুষের ঈদকে ঘিরে ফ্রিজ কেনার প্রবণতা রয়েছে। দেখা যায় প্রতি বছর প্রায় ৬০% এরও বেশি ফ্রিজ দুই ঈদে বিক্রি হয়ে থাকে। তাই ঈদকে ঘিরে প্রত্যেকটি কোম্পানিরই ব্যাপক প্রস্তুতি থাকে। কোরবানি ঈদকে ঘিরে আমরা প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার লাখ ফ্রিজ বিক্রির পরিকল্পনা করেছি। বর্তমানে ৩০টি মডেলের ৩০০’র অধিক ডিজাইনের ভিশন রেফ্রিজারেটর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কোরবানি ঈদকে মাথায় রেখে আমরা এই বছর আরো নতুন মডেল সংযোজন করেছি। এ বছর আমরা ৫৬৬ লিটার নন ফ্রোস্ট ফ্রিজ নতুনভাবে সংযোজন করেছি।
প্রশ্ন : প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির সংযোজন ঘটছে ফ্রিজে। আপনাদের ফ্রিজের বিশেষত্ব কী?
উত্তর : ইতালিয়ান প্রযুক্তির অত্যাধুনিক মেশিনে ১০০% ফুড গ্রডে ম্যাটরেয়িালে ভিশন রেফ্রিজারেটর উৎপাদিত হয়। ভোক্তার খাবারের সতেজতা ও সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ভিশন ফ্রিজে ন্যানো হেলথ কেয়ার টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। ১০০% কপার কন্ডেন্সার ও শক্তিশালী কম্প্রেসার ব্যবহার করায় ফ্রিজের ভেতরে দ্রুত ঠাণ্ডা করতে সহায়তা করে। ফ্রিজে ব্যবহৃত উন্নতমানের রেফ্রিজারেন্ট ৬০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। ভিশন রেফ্রিজারেটরের ‘ঘধহড় যবধষঃযপধৎব ঃবপযহড়ষড়মু’ ব্যবহার করা হয় যার কারণে খাবারের স্বাদ একটার সাথে আরেকটার মিশে যায় না। এ ছাড়াও এই ফ্রিজ ‘১০০% ফুডগ্রেড কোয়ালিটি’ যা খাবারের স্বাদ রাখে অটুট। সঠিক পুরুত্বের সাইড ওয়াল হওয়ায় লোডশেডিং এও ফ্রিজে ঠাণ্ডা ধরে রাখে দীর্ঘ সময়। এ ছাড়াও রয়েছে ১০ বছরের কম্প্রেসার রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি এবং সার্বক্ষণিক বিক্রয় উত্তর সেবার নিশ্চয়তা।
প্রশ্ন : অভ্যন্তরীণ বাজারে বছরে ফ্রিজের চাহিদা কত? আপনাদের মার্কেট শেয়ার কত?
উত্তর : মধ্য ও উচ্চবিত্তের বিকাশ, ছোট পরিবার ও কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি ও দেশের সর্বত্র বিদ্যুতায়নসহ নানাবিধ কারণে বাংলাদেশে ফ্রিজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ফ্রিজের বার্ষিক চাহিদা ২৫-৩০ লাখ ইউনিট।
প্রশ্ন : ফ্রিজের ওপর চলমান ডলার সঙ্কটের প্রভাব কেমন?
উত্তর : দেশের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অগ্রগতির কারণে তুলনামূলক কম খরচেই ইলেকট্রনিক্স পণ্য কিনতে পারছেন সাধারণ মানুষ। তবে, ডলার সঙ্কটের কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করতে এলসি খুলতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এই ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ীদের।
প্রশ্ন : আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? আগামী তিন বছরে কোম্পানিকে কোথায় দেখতে চান?
উত্তর : বর্তমান আমাদের ফ্রিজের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে আবশ্যক কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ কম্পনেন্ট এখনো আমদানি করতে হয়; সে ক্ষেত্রে কাঁচামাল আমদানিতে সরকারের এলসি খোলার ব্যাপারে সহযোগিতা প্রয়োজন। বহির্বিশ্বে রফতানির লক্ষ্যে রেফ্রিজারেটর উৎপাদনের জন্য বন্ড এবং ক্যাশ ইনসেন্টিভ পেলে ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে বড় পরিসরে রফতানি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ থেকে ফ্রিজ রফতানির সম্ভাবনা কেমন?
উত্তর : দেশে ফ্রিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্রিজের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই পূরণ করছে। ধীরে ধীরে ফ্রিজের আমদানি নির্ভরতা কমছে এবং রফতানি সম্ভাবনা বাড়ছে। ইতোমধ্যে আমরা আমেরিকার সাইপ্রান, আফ্রিকার গিনি ও এশিয়ার নেপালে রেফ্রিজারেটর রফতানি করছি। খুব দ্রুতই দেশের চাহিদা পূরণ করে আমরা বড় পরিসরে বিদেশের বাজারে রফতানি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।