বাংলাদেশে ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর বলতেই বোঝায় ওয়ালটনকে। বাংলাদেশের ফ্রিজ বাজারের ৭০ শতাংশের বেশি ওয়ালটনের দখলে। দেশে ফ্রিজের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ফ্রিজের প্রায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। প্রতি বছর ৭ শতাংশ হারে বাজারটি বড় হচ্ছে। দেশে বছরে প্রায় ৩০ লাখ ফ্রিজের চাহিদা রয়েছে। এ চাহিদার বেশির ভাগ মেটাচ্ছে ওয়ালটন। বস্তুত বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিমাণ ফ্রিজের চাহিদা রয়েছে তার পুরোটাই এককভাবে ওয়ালটনের মেটানোর সক্ষমতা রয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য ও সর্বোত্তম সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের মানুষের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে ওয়ালটন ফ্রিজ।
একসময় ফ্রিজ, টিভি, এসিসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্যই আমদানি হতো। ২০০৭ সালে ওয়ালটন দেশেই ফ্রিজ উৎপাদন প্ল্যান্ট গড়ে তোলে। পরের বছর ২০০৮ সাল থেকেই পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যায় ওয়ালটন। এর মাধ্যমে দেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্প উৎপাদন খাতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। ওয়ালটনের মাধ্যমে দেশে তৈরি আন্তর্জাতিক মানের পণ্য দিয়ে আমদানিকারক দেশ থেকে প্রথমে উৎপাদনকারী এবং এরপর বাংলাদেশ রফতানিকারী দেশে পরিণত হয়। গৃহে ব্যবহৃত ফ্রিজ ও ফ্রিজারের পাশাপাশি কমার্শিয়াল ফ্রিজ ও বেভারেজ কুলার উৎপাদন ও বাজারজাত করছে ওয়ালটন।
ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের চিফ বিজনেস অফিসার তোফায়েল আহমেদ জানান, ফ্রিজে নতুন নতুন প্রযুক্তির সংযোজন ঘটাতে তাদের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (আরঅ্যান্ডআই) বিভাগ প্রতিনিয়ত গবেষণা করে চলছে। এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম নাইন-ইন-ওয়ান কনভার্টিবল মোডের ফ্রিজ উন্মোচন করেছে ওয়ালটন। একই সাথে ওয়ালটন বাজারে ছেড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম উৎপাদনকৃত ফোর-ডোর রেফ্রিজারেটর। জায়ান্টটেক সিরিজের এসব ফ্রিজের মধ্য দিয়ে হাইটেক রেফ্রিজারেটর উৎপাদন ও বিপণনে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে জায়ানটেক সিরিজের এসব ফ্রিজ পরিচালনা করার পাশাপাশি স্মার্ট কন্ট্রোল, ইউটিউব ব্রাউজিং, অনলাইন গ্রোসারি শপিং, অফলাইন ভিডিও ও অডিও, কাউন্টডাউন ক্লক, অনলাইন রেসিপি, ক্লক, ক্যালেন্ডার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সেলফি ক্যামেরা, ওয়েদার আপডেট ইত্যাদি প্রযুক্তি ও ফিচার পাচ্ছেন। রয়েছে টারবো ও ইকো ফিচারসমৃদ্ধ ডুয়ো কুলিং সেটিংস। এসব ফ্রিজের এমএসও (ম্যাট্রিক্স স্পিড অপটিমাইজেশন) ইনভার্টার টেকনোলজি বাইরের তাপমাত্রা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ খরচে ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ সর্বোচ্চ কুলিং পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। ওয়ালটনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ফ্রিজ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে গ্রাহকদের জন্য আরো চমকপ্রদ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচারের ফ্রিজ নিয়ে আসছে বলে তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন।
ঈদের সময় সবচেয়ে বেশি ফ্রিজ বিক্রি হয়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজের চাহিদা বেশি থাকে। সারা বছর যে পরিমাণ ফ্রিজ বিক্রি হয়, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় তার প্রায় ৬০ শতাংশ ফ্রিজ বিক্রি হয়। এই ঈদবাজারে পাওয়া যাচ্ছে ওয়ালটনের ৫০ লিটার থেকে ৬৪৬ লিটার ধারণক্ষমতার ২৫০টিরও বেশি সর্বাধুনিক মডেলের ফ্রস্ট, নন-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার। এর মধ্যে ঈদকে সামনে রেখে এসেছে সর্বাধুনিক ফিচার ও ডোরসমৃদ্ধ অর্ধশতাধিক নতুন মডেলের ফ্রিজ। এ ছাড়াও আছে ব্যাপক বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ২২টি মডেলের ফ্রিজার। এসব ফ্রিজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যাপক বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ফিচার ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের এআইওটিবেজড স্মার্ট সাইড বাই সাইড, গ্লাস ডোর, বিএসটিআইর সর্বোচ্চ ফাইভ স্টার এনার্জি রেটিং সনদপ্রাপ্ত ফ্রস্ট ও নন-ফ্রস্ট ফ্রিজ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বাধিক ফিচারসমৃদ্ধ ওয়ালটনের এসব ফ্রিজ বাড়িয়ে দেবে ঘরের আভিজাত্য। রেফ্রিজারেটরের পাশাপাশি বাজারে ওয়ালটনের ব্যাপক বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ২২টি মডেলের ফ্রিজারও পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা ওয়ালটনের এসব ফ্রিজ ১৭ হাজার থেকে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পারছেন। ওয়ালটন ফ্রিজের গ্রাহকরা এক বছরের রিপ্লেসমেন্টের পাশাপাশি কম্প্রেসরে ১২ বছরের গ্যারান্টি পাচ্ছেন।
কোরবানি ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে চলছে ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-১৮। এই সিজনে ক্রেতাদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে ‘ওয়ালটন পণ্যে সাজবে বাড়ি, ঈদে এবার নিজের গাড়ি’ শীর্ষক বিশেষ সুবিধা। এর আওতায় দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা, পরিবেশক শোরুম ও অনলাইন সেলস প্ল্যাটফর্ম ই-প্লাজা থেকে ফ্রিজ, টিভি, এয়ারকন্ডিশনার অথবা ওয়াশিং মেশিন কিনে ক্রেতারা পাচ্ছেন গাড়ি ফ্রিসহ লাখ লাখ উপহার। এ সুবিধা আছে ১৫ জুলাই, ২০২৩ তারিখ পর্যন্ত। এরই মধ্যে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে তিনজন ক্রেতা গাড়ি উপহার পেয়েছেন।
দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে তৈরি ফ্রিজসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্য রফতানি করছে ওয়ালটন। এ জন্য বিভিন্ন দেশের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রোডাক্ট ডেভেলপ ও উৎপাদন করছে তারা। এরই মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে ফ্রিজসহ ওয়ালটনের বিভিন্ন পণ্য রফতানি হচ্ছে। ২০২২ সালে ওয়ালটনের বিক্রীত ফ্রিজগুলোর মধ্যে ৯ শতাংশের বেশি রফতানি থেকে এসেছে; যার পরিমাণ প্রায় দুই লাখ।
২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রধান দেশগুলোতে উপস্থিতি নিশ্চিত এবং রেফ্রিজারেশন খাতে শীর্ষ ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে ওয়ালটন। অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের প্রধান দেশগুলোতে ফ্রিজসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিশ্ববাজারেও শীর্ষ ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানটির।