কোরবানি মুসলমানদের প্রধান দুইটি ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম একটি হলেও ত্যাগের সীমাহীন মহিমায় ভাস্বর ‘কুরবানির’ পরতে পরতে নিহিত রয়েছে গোটা মানবজাতির জন্য অনন্য অসাধারণ শিক্ষা। যা মানুষকে যথার্থ মানবিক করে তুলে। পুরো বিশ্বের প্রাণিজগতের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সৌন্দর্য, ধর্ম-দর্শন এবং ভালো মন্দের অনুভূতি কেবল মানুষেরই রয়েছে। তাই সৃষ্টিগত দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ববোধের অহমিকা মানুষের মনে এক ধরনের আমিত্বের জন্ম দেয়। যা মানুষকে মানবিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। ফলে মানুষের মাঝে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। ধীরে ধীরে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মানুষ পশুত্বের পর্যায়ে নেমে আসে। জন্মগতভাবে প্রতিটি মানুষের মাঝে দুটি প্রবৃত্তি রয়েছে। সু-প্রবৃত্তি ও কু-প্রবৃত্তি। ক্রমবর্ধমান লোভ ও অহমিকার কারণে মানুষের সু-প্রবৃত্তিগুলো অন্ধ হয়ে যায়। তখন মানব মনের কু-প্রবৃত্তি (পশুবৃত্তি) গুলো জেগে ওঠে। আর কু-প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ ক্রমেই বেপরোয়া হতে থাকে। এক সময় সমাজ, সভ্যতা, ন্যায়-নীতি ও দেশের প্রচলিত আইন উপেক্ষা করে গোটা সমাজব্যবস্থাকে কলুষিত করে তুলতে তারা দ্বিধাবোধ করে না। পশুবৃত্তির নগ্নতাড়নায় সমাজে বন্যশাসন চলতে থাকে। মানুষ যেহেতু সৃষ্টির সেরা জীব, তাই মানুষের জীবন, কর্ম, চিন্তা-চেতনাও হতে হবে শ্রেষ্ঠতম। শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও পরিশুদ্ধতা লাভ করতে হলে মানুষকে অবশ্যই কু-প্রবৃত্তির সাথে লড়াই করে বিজয়ী হতে হবে। মনের পশুবৃত্তিকে হত্যা করতে পারলেই মানুষ প্রকৃত মানবীয় গুণাবলি অর্জনে সক্ষম হয়।
‘কোরবানির’ পরকালীন প্রাপ্তির পাশাপাশি অসাধারণ জাগতিক অর্জনও রয়েছে। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজজীবনে তাকে নানাবিধ গুণাবলির অধিকারী হতে হয়। কোরবানির শিক্ষা থেকে লোভ, লালসা, হিংসা, বিদ্বেষসহ সামগ্রিকভাবে ভোগবাদের ঊর্ধ্বে ওঠে ত্যাগের মানসিকতা অর্জন হয়।

পরমত সহিষ্ণু হওয়ার শিক্ষাও সামাজিক জীব হিসেবে মানুষকে অর্জন ও অনুশীলন করতে হয়। ‘কোরবানি’ মুসলিম উম্মাহর জন্য অনন্য সাধারণ প্রাত্যহিক প্রশিক্ষণশালা হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবে এক অগ্নিময় পরীক্ষা। মহান রাব্বুল আলামিন হযরত ইব্রাহিম (আ.)কে দিয়ে এমন পরীক্ষা গ্রহণের কঠিনপ্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন।
কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের আনন্দ ও উৎসবে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে। রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ মানবকল্যাণে আত্মত্যাগ করার শিক্ষা কোরবানি নিয়ে আসে। ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সব মুসলমান মিলেমিশে ঈদের আনন্দ সমভাগ করে নেন, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, অহঙ্কার ভুলে খুশিমনে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেন। প্রতি বছর মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র হজের পরই গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু কোরবানি দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়।
হজরত আদম (আ)-এর সময় থেকেই কোরবানির যে ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে নবী-রাসূলেরাও আল্লাহর নামে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কোরবানির পথ দেখিয়ে গেছেন। এ কোরবানি কেবল ‘পশু বিসর্জন নয়, মনের ভেতরের পশুত্ব, নিজের ক্ষুদ্রতা, নীচুতা, স্বার্থপরতা, হীনতা, দীনতা, আমিত্ব ও অহঙ্কার হত্যা করতে পারাই কোরবানির মূলকথা।’

হজরত ইব্রাহিম (আ.) হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানি পর্ব এবং অপরিহার্য এ ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রবর্তক। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সীমাহীন ভক্তি, সর্বোচ্চ ত্যাগের সদিচ্ছা ও গভীরতম আত্মসমর্পণে পরম করুণাময় আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ কোরবানি করার নির্দেশ প্রদান করেন।
নিঃসন্তান ইব্রাহিম (আ.)কে শেষ বয়সে একটি পুত্রসন্তান দান করেন আল্লাহ তায়ালা। এ ছেলে ছিল মহান আল্লাহর মহাদান। নাম তার ইসমাইল। তিনি যখন তার পিতার সঙ্গে কাজকর্ম করার বয়সে উপনীত হলেন তখন আল্লাহর আদেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ইসমাইল (আ.)-কে জবাই করতে মনস্থির করেন। এ বিষয়টি পবিত্র কুরআনে উল্লেখ রয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ডেকে বলেছিলেন, ‘হে ইব্রাহিম! তুমি তোমার স্বপ্নকে অবশ্যই পূর্ণ করেছো।’ (সূরা সাফফাত, আয়াত ১০৫)

হজরত ইব্রাহিম (আ.) প্রিয়তম বস্তু তথা তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার জন্য স্বপ্নে আদেশ পেয়েছিলেন। তাই তিনি আল্লাহর নির্দেশে নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, যা সর্বকালের মানব ইতিহাসে ত্যাগের সর্বোচ্চ নিদর্শন। কিন্তু আল্লাহর অশেষ কুদরত ও রহমতে শিশুপুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হলো। এর মাধ্যমে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ত্যাগের চরম পরীক্ষায় আল্লাহর দরবারে উত্তীর্ণ হয়ে যান। এর পর থেকে বিশ্বের মুসলমানদের জন্য জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে হালাল পশু কোরবানি করার রেওয়াজ চালু হয়।
মহান আল্লাহর প্রেমে আত্মোৎসর্গিত নবী হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজের প্রাণাধিক প্রিয় পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় নিবেদনের যে দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন,‘তা বিস্ময়কর শুধু নয়; এক বিরাট শিহরণ জাগানো বিস্ময়কর নিদর্শন।’
হজরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনে কোরবানি দেয়ার মর্মস্পর্শী ঘটনা ও স্মৃতিকে জীবন্ত করে রাখার জন্যই পশু কোরবানির এ বিধান। বাহ্যিকভাবে প্রতীকী জন্তু কোরবানির মাধ্যমেই সারা বিশ্বে মুসলমানরা উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছে।

প্রতি বছর হিজরি সালের চান্দ্র মাসের ১০ জিলহজ ঈদুল আজহা সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে কোরবানির অফুরন্ত আনন্দ-সওগাত ও ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমা নিয়ে উপস্থিত হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘সুতরাং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশে নামাজ কায়েম করো এবং কোরবানি করো।’ (সূরা আল-কাওছার, আয়াত : ২)
হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার শিশুপুত্র ইসমাইলসহ নিজ সহধর্মিণী হজরত হাজেরাকে আল্লাহ তাআলার আদেশে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে এসেছিলেন। এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠিন পরীক্ষা এবং আল্লাহর বিশেষ পরিকল্পনা। এ মহান পরিকল্পনাকে সামনে রেখে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পক্ষ থেকে পরীক্ষামূলক কোরবানি গ্রহণ করেছিলেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর এ মহান কোরবানিকে দুনিয়ার সামনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালা স্বপ্নে এ আদেশ দিলেন আর তখনি হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ত্যাগের (কোরবানির) উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন।
হজরত ইব্রাহিম (আ.) কিন্তু ছেলেকে জবাইয়ের চেষ্টা বারংবার করেও সফল হলেন না অথচ আল্লাহপাক বলছেন, ‘তুমি তোমার স্বপ্নকে অবশ্যই পূর্ণ করেছো’।

হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর এমন মহৎ কোরবানির (ত্যাগের) আত্মশক্তি নিজেদের মধ্যে সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নবী করিম (সা.) তার উম্মতকে পশু কোরবানির আদেশ দিলেন। তাই বিশ্বের প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমান প্রত্যেক বছর ১০ জিলহজ তারিখে কোরবানি করে থাকে। হজরত ইসমাইল (আ.) যেভাবে পিতার ছুরির নিচে মাথা পেতে দিয়েছিলেন, কোরবানির পশু যেভাবে ছুরির নিচে মাথা পেতে দেয়, প্রতিটি মুসলমানের জন্য তা অনুকরণীয় শিক্ষা। কোরবানির পশুর মতো নিজের মনে লুকিয়ে থাকা পশুত্বকে বলি দেয়ার শিক্ষাও আমরা কোরবানি থেকেই পেয়ে থাকি। কেবল গোশত খাওয়াই এ কোরবানির উদ্দেশ্য নয়
হজরত ইব্রাহিম (আ.)-আদর্শ অনুযায়ী নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশে কোরবানি পালনের মাধ্যমে প্রতি বছর একজন মুসলমান নিজেকে এবং নিজের অন্তর্নিহিত তাকওয়াকে আর একবার পরিশুদ্ধ করে নেয়ার সুযোগ পায়, যেন নৈতিক প্রয়োজনে আল্লাহর পথে কোরবানির পশুর মতো নিজেকে সমর্পণ করতে পারে।
কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের আনন্দ ও উৎসবের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সব মুসলমান মিলেমিশে ঈদের আনন্দ সমভাগ করে নেন, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, অহঙ্কার ভুলে খুশি মনে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেন। প্রতি বছর মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র হজের পরই গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু কোরবানি দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) প্রিয় তথা তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)- কে কোরবানি করার জন্য স্বপ্নে আদেশ পেয়েছিলেন। তাই তিনি আল্লাহর নির্দেশে নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইল (আ.)- কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, যা সর্বকালের মানব ইতিহাসে ত্যাগের সর্বোচ্চ নিদর্শন। কিন্তু আল্লাহর অশেষ কুদরত ও রহমতে শিশুপুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হলো। এর মাধ্যমে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ত্যাগের চরম পরীক্ষায় আল্লাহর দরবারে উত্তীর্ণ হয়ে যান। এর পর থেকে বিশ্বের মুসলমানদের জন্য জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে হালাল পশু কোরবানি করার রেওয়াজ চালু হয়।
মহান আল্লাহর প্রেমে আত্মোৎসর্গিত নবী হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজের প্রাণাধিক প্রিয় পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় নিবেদনের যে দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন,‘তা বিরল ঘটনা শুধু নয়; শিহরণ জাগানো বিস্ময়কর নিদর্শন।’
হজরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)- কে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনে কোরবানি দেয়ার মর্মস্পর্শী ঘটনা ও স্মৃতিকে জীবন্ত করে রাখার জন্যই পশু কোরবানির এ বিধান।

বাহ্যিকভাবে প্রতীকী জন্তু কোরবানির মাধ্যমেই সারা বিশ্বে মুসলমানরা উৎসব মুখর পরিবেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছে। প্রতি বছর হিজরি সালের চন্দ্র মাসের ১০ জিলহজ ঈদুল আজহা সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে কোরবানির অফুরন্ত আনন্দ-সওগাত ও ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমা নিয়ে উপস্থিত হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘সুতরাং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশে নামাজ কায়েম করো এবং কোরবানি কর। (সূরা আল-কাওছার, আয়াত-২) মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো বলেন, ‘হে নবী! আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু সব কিছুই সারা জাহানের মালিক আল্লাহ তায়ালার জন্য।” (সূরা আনআম : ১৬২) কোরবানি প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুরাতুল হজের ৩৭ নং আয়াতে বলেন,“আল্লাহ’র কাছে কখনো কোরবানির গোশত ও রক্ত পৌঁছায় না। বরং তার কাছে তোমাদের তাকওয়াটুকুই পৌঁছায়।” [সূরা হজ : ৩৭]

সুতরাং, কুরবানি কোনো লৌকিকতার বিষয় নয়। এটি স্রষ্টা কর্তৃক নির্ধারিত ওয়াজিব। যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব তাদের অবশ্যই কোরবানি করতে হবে। এবং তা হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে।
ঈদুল আজহা মানুষকে ত্যাগ ও কোরবানির আদর্শে উজ্জীবিত করে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকারে অনুপ্রেরণা দেয়। ঈদ আমাদের শুধু আনন্দই দেয় না বরং সকল ভেদাভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও দৃঢ় ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে। মূলত আমরা যদি ত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই বাস্তুবজীবনে ইসলামী আদর্শ অনুস্মরণ করতে পারি তাহলেই কেবল ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য সার্থক হবে।