বর্ষা এলো
শাহীন খান

বর্ষা এলো দূর গাঁয়েতে রিমঝিমাঝিম সুরে
আসলো সে যে মেঠোপথে সাগর সমুদ্দুরে।
নামলো খুবই হাসিমুখে
সিটি দিলো বাঁশি মুখে
আরাম করে বসলো এসে শহর নগরজুড়ে।

বর্ষা এলো কবির খাতায় মিষ্টি লাগে ছন্দ
কাছ থেকে পাই আমরা সবে কদম কেয়ার গন্ধ
গন্ধে পরাণ মাতোয়ারা
মন হয়ে যায় বাঁধনহারা
টিপটিপাটিপ বাজনা বাজে লাগে না তা মন্দ।

বর্ষা এলো বসুন্ধরায় হেসে দিলো দেশটা
সারাদিনই বাদ্যি বাজে নেই কো সুখের শেষটা
ঝরা পাতা জীবন পেলো
দুঃখ সবই উবে গেলো
মনের মাঝে ধিনাক ধিনাক থাকছে সুরের রেশটা।

 


ঘাসের উপর ফড়িং
সোমা মুৎসুদ্দী

ঘাসের উপর ফড়িং বসে
খুনসুঁটিতে মাতে
চাঁদ মামাও মনের সুখে
আলো ছড়ায় রাতে।

পুকুর জলে কলমি হাসে
পড়শি মেঘের গান
সবুজ গাঁয়ে মাটির মায়া
পাখির কলতান।

পূর্ব দিকে পাহাড় ডাকে
পশ্চিমেতে নদী
দেখবে তুমি দু’চোখ ভরে
ঘুরতে আসো যদি।

বাংলাদেশের মেয়ে আমি
বাংলাদেশেই থাকি
মনের মাঝে বীর শহীদের
মনের ছবি আঁকি।

 


বর্ষাকালের বৃষ্টি
শাজাহান কবীর শান্ত

সবুজ পাতায় বৃষ্টি পড়ে হেলে পড়ে ডাঁটা
এমন সময় যায় কি বলো- ছাতার নিচে হাঁটা!
হাঁটতে গেলে গা ভিজে যায় দমকা জলের ছিটায়
আর ওদিকে ব্যাঙের বাজার দাম চুকানো মিটায়!

খালের ধারে বিলের পানি দ্রুতগামী ঘোড়া
আকাশে নেই জায়গা কোনো পাখির একটু ওড়া!
ঝরছে বৃষ্টি ঝর্ণাধারায় ওপর থেকে নিচে
হচ্ছে মনে যেন আমি সেন্টমার্টিনের বিচে!

কচুর পাতার বৃষ্টি যখন ঘুরে পড়ে তলায়
ব্যাঙের দেখি নতুন করে সুর উঠে যায় গলায়।

 


দুষ্টু মিনি
রফিকুল নাজিম

দুষ্টু বিড়াল মিনি
সবাই তাকে চিনি,
মুখ বাড়িয়ে চায়
হাঁটে ধীর পায়।

দুধের বাটি দেখে
মনে অঙ্ক লেখে,
চুপিসারে আসে
চামে মুচকি হাসে।

দুধের বাটি সাবাড়
পেটের পূজা কাভার,
গোফ মুছে সে যায়
ঘুরে ভাবের নায়।

তুলতুলে এক বালিশ
কেউ করে না নালিশ।

 


বৃষ্টি পড়ে
আবরার নাঈম

টিনের চালে
ছন্দ তালে
বৃষ্টি পড়ে
সৃষ্টি করে।
কী অপরূপ সুর
লাগে সুমধুর।

ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর
যায় ডেকে যায়
হলুদ ব্যাঙের দল
যাক হয়ে যাক
চারিদিকে
পানি টলোমল।

বিলে-ঝিলে
সবাই মিলে
ধরছে তারা
জেলে যারা
লাটি-পুঁটি কৈ
ইচ্ছে করে
এমন দিনে
তাদের সাথী হই।

 

 

আষাঢ় মাসে
নুশরাত রুমু

আষাঢ় মাসে অঝোর ধারা
চলছে সারাক্ষণ
সবুজ ঘাসে চারিদিকে
সতেজ হলো বন।

মেঘে ঢাকা পুরো আকাশ
নীলের দেখা নেই
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এসে
বাজনা বাজাবেই।

সবার হাতে দিন বা রাতে
বাহারি সব ছাতা
মেঠো পথে কাদার মাঝে
ডুবল পায়ের পাতা।

বিলের জলে বাতাস খেলে
শাপলা-শালুক ফোটে
বক দাঁড়িয়ে নিবিড় মনে
মাছেরা সব ছোটে।