তুলাপতি খেলাটা অনেক আনন্দের ছিল। পাড়াজুড়ে হইচই পড়ত। প্রথমে পুতুল সাজানো মেয়েরা ইটের টুকরো পিষে মসলা বানাত। ছেলেরা গাছের পাতা টাকা বানিয়ে কৃত্রিম কেনাবেচা করত। কয়েক বছর পরে এসে পাড়ার ছোটরা মিলে সত্যি সত্যি তুলাপাতি খেলায় বাস্তব জীবনের একটা ছবি আঁকত। তুলাপাতি খেলার চিত্রটা সবচেয়ে বেশি সুখের ছিল। সবাই মিলে কচি হাতে নড়বড়ে একটা ঘর বানাতাম। ছাউনির ভেতর দিয়ে সূর্যের আলো ঠিকরে পড়ত। কলাপাতার ছাদেও এত তৃপ্তি ছিল,তা এখন বুঝি। আজ সত্যিই ছোটরা মিলে ভাত রাঁধব। মাছ ধরব, কাটব। শাকও থাকবে। সবমিলে সুন্দর একটা আয়োজন হবে। ভোরের আলো ফুটতেই ছেলেরা বেরিয়ে পড়তাম বিলে। মাছগুলোও বড় বুঝদার ছিল। খুশি খুশি আমাদের জালে ধরা দিত। অল্পসময়ে অনেক মাছ ধরেও ফেলতাম। আর মেয়েরা? ওরা ছিল আমাদের থেকেও চঞ্চল। কেউ লতি তুলে আনত, কেউ শাক আবার কেউ বা আনত তিত বেগুন। তিত বেগুন আমার কাছে বড্ড মজার ছিল। আমার চোখে তিত বেগুন পড়লে এখনো সেই তুলাপাতি খেলার দৃশ্যটা নড়ে ওঠে। সবার ঘর থেকে কম কম করে চাল আনতাম। রাঁধতে যা যা লাগে সবই জোগাড় করতাম। মা, চাচীরা চোখমুখে হাসি লুকিয়ে রেখে অনেক ক্ষেত্রে দেখিয়ে দিতেন। একদিকে মাটির চুলোয় রান্না হচ্ছে। আজকে সবাই মিলে খাবো। মনে আনন্দ আর ধরে না। জটলা পাকিয়ে চুলোর পাশেই চলছে গপ্পো আর হি হি হাসি। ওপাড়ার একটা মেয়ে এসব দেখে কেঁদেকুটে শেষ। বেচারি মা শেষমেশ মেয়েটাকে নিয়ে এসেছে। আমরাও ঢুকিয়ে নিলাম সবার সাথে। ওমা, মেয়েটা হেসেই খুন! এভাবেই রান্না শেষ। এবার তাহলে খাওয়ার পালা। বড়দের কাউকে থাকা যাবে না। সবাইকে পাঠিয়ে দিতাম। এবার সব করব নিজেরা মিলে। সবচেয়ে মিষ্টি যে বোনটা, সেই খাবার বেড়ে দিবে। সবাই বসলাম। কেউ খাবে না কিন্তু। সবাই একসাথে খাবো। হঠাৎ ঘোষণা, সবাই শুরু কর। অমনি শুরু। আহা, ঘরের খাবার তো সবসময় খাই,এত মজা তুলাপাতির ভাত! সবকিছুতেই মজা আর মজা। ভাত শেষ, শাক শেষ, তরকারি শেষ এমনকি সেই সময়ও শেষ কিন্তু সেই মজাটা এখনো মুখে লেগে আছে। সেই দৃশ্যটা এখনো অন্তরে গেঁথে আছে। স্মৃতিরা এখনো পথে ঘাটে চেয়ে আছে।
তুলাপতি খেলাটা অনেক আনন্দের ছিল। পাড়াজুড়ে হইচই পড়ত। প্রথমে পুতুল সাজানো মেয়েরা ইটের টুকরো পিষে মসলা বানাত। ছেলেরা গাছের পাতা টাকা বানিয়ে কৃত্রিম কেনাবেচা করত।...
