বৃষ্টি নামে বাঁশের ঝাড়ে
শামীম খান যুবরাজ
বাঁশের ওপর বৃষ্টি নামে ঘাসের ওপর বান
মরতে বসা কলমিলতা প্রাণ ফিরে পায় প্রাণ
শুকনো গাঁদার ফুলপাতারা ঠাণ্ডা হাওয়ায় দুলে-
বলছে বুঝি আজ সাজাব বাগান ফুলে ফুলে।
কচুর লতি বিঘত বেড়ে হেসে ওঠে সুখে
কী যে দারুণ হাসি ফোটে রক্তজবার মুখে
বৃষ্টি পেয়ে শায়ান খুশি শব্দ ওঠে নেচে,
বৃষ্টি ভিজে খেলায় মাতে জমাট পানি সেচে।
বাঁশের ঝাড়ে বৃষ্টি নামে ঘাসের বনে বান,
বৃষ্টি ভেজা প্রকৃতিটা- গাইছে রবের গান।
ঐতিহ্যের খোঁজে
ফরিদ আহমদ ফরাজী
যাঁতায় পেষা ডাল
ঢেঁকিছাঁটা চাল
হারিয়ে গেল কই?
বিন্নিধানের খই।
পালকি চড়া বউ
বনফুলের মউ
যায় না দেখা আর
ঐতিহ্যের বাহার।
লাঙল জোয়াল সাথে
দুটি গরুর কাঁধে
বায় না কেউ আর হাল
কোথায় নায়ের পাল?
কোথায় মেঠো পথ
গরুর টানা রথ
কই সে ভরদুপুর
রাখালিয়া সুর।
নিপুণ হাতে আঁকা
রঙিন তালের পাখা
কুপিজ্বলা রাত
ঘিয়ে মাখা ভাত।
জারি সারি গান
ঐতিহ্যেরি মান
পাড়ায় পাড়ায় মিল
কই সততার দিল?
ফুলকুঁড়ি
গোলাম আজম খান
আমরা নতুন ফুলের কুঁড়ি
সুবাস ছড়ায় বাগে,
রোজ প্রভাতে জেগে উঠি
ঠিক ফজরের আগে।
গাছের শাখায় হেলেদুলে
গুনগুনিয়ে গায়,
তসবিহ দানা হাতে নিয়ে
দরুদ পড়ে যায়।
কচিপাতা পুবাল হাওয়ায়
গন্ধ পেয়ে দুলি,
সাঁঝের বাতি জ্বেলে সবাই
মজা করে খেলি।
বাদল দিনে তৃষিত মন
বৃষ্টি সুধা খায়,
গন্ধ নিতে মৌমাছিরা
দল বেঁধে সব যায়।
শ্রাবণের কান্না
কাব্য কবির
শ্রাবণ রাতের কান্না বুঝি বৃষ্টি হয়ে ঝরে,
টাপুরটুপুর ছন্দ তালে নদী-নালায় পড়ে।
দূর আকাশে মেঘে খেলে লুকোচুরি খেলা,
মেঘ বালিকা হেসে হেসে কাটায় সারাবেলা।
বাতাসেতে গন্ধ বিলায় কামিনী ও কেয়া,
অতি বৃষ্টি হলে পরে বন্ধ ঘাটের খেয়া।
ডোবা-নালায় ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ডাকে কোলাব্যাঙ,
অজগরে হ্যাঁচড়া টানে ধরে ব্যাঙের ঠ্যাং।
বৃষ্টি দেখে রাতুল সোনার মন বসে না পাঠে,
বন্ধু নিয়ে হিজল তলায় ঘুরতে যায় সে মাঠে।
মেঘ বালিকার জন্য মনে আঁকি নানান ছবি,
শ্রাবণের ঐ পরশ পেলে হয়ে উঠি কবি।
নতুন কুঁড়ি
সালমা আক্তার
সত্য বলা সুপথ চলা
এই যেনো হয় রীতি
আমরা নতুন আমরা কুঁড়ি
রাখব না আর ভীতি,
উঠব ভোরে, আপন করে
বিশ্ব রাখব বুকে
ফুটব হেসে ভালোবেসে
পড়বো মনের সুখে,
বিদ্যা বড় অমূল্য ধন
জ্ঞানী জনের বাণী
সৃজন লীলায় মত্ত হয়ে
সাজাবো ফুলদানী,
নীতি বাক্য করে সাক্ষ্য
পথ বানাবো হেঁটে
হবো ধন্য, হয়ে বন্য
দেহ মনে খেটে!
দেশের জন্যে দশের জন্যে
এক সারিতে চলে
সবাই সবার, আপন হবো
অঙ্গীকারে জ্বলে ।
আষাঢ় এখন
নাসরীন জামান
আষাঢ় মাসের আসার কথা
বৃষ্টি নূপুর পায়ে,
ঘুমের দেশের ঘুম ভাঙানো
মেঘ পরীদের নায়ে।
আসবে আষাঢ় ভাসবে জীবন
নতুন পানির দেশে,
টেংরা কৈ আর খলসেরা সব
পড়বে ধরা হেসে।
কাজল কালো মেঘের ভেলা
ভাসবে দিনে রাতে,
যখন তখন ঝরবে সে মেঘ
রাখতে ছাতা হাতে।
কোথায় আমার কাজল মেঘের
বৃষ্টি অঝোর ধারা?
কোথায় আমার নায়ের মাঝির
কণ্ঠ পাগল পারা?
আষাঢ় এখন নিশার স্বপন
আষাঢ় এখন স্মৃতি,
আষাঢ় এখন বাড়ায় না আর
আমার কাব্যপ্রীতি।
