দোলনা
খুরশীদ আলম বাবু
(খুশবু সোনার উদ্দেশে)

আমিও ছিলাম তোমার মতো
ছোট্ট পাখির ছানা-
হাতপা ছিল তুলতুলে সব
ছিল না তার ডানা-
তাহলেই তো পাখিই হতাম
ডাকত কি কেউ খোকা?
মায়ের কাছে বাবু সোনা-
বাবার কাছে বোকা
দোলনা ছিল আমার আকাশ
হাত-পাগুলো মেলে
সন্ধ্যা হলেই উড়ে যেতাম
তারার বাতি জ্বেলে-

কোথায় যেতাম ? ভাবছ তুমি
লক্ষ তারার সঙ্গে
না গো বাপু! সেই চূড়াতে
শীতের তুষার ভাঙে
আমিও যেতাম সেই সাগরে
অবাক নীলের স্র্রোতে
আমায় দেখে হাঙর তিমি
আসত বন্ধু হতে-
আমিও যেতাম আমাজনের
গহিন বনের কাছে
হাজার রঙের পাখপাখালি
পুচ্ছ তুলে নাচে
দিনগুলো সব ফুরুত হাওয়া
কখন গেছে মরে-
এখন আমার লক্ষ আশা
তোমার দোলনা ধরে
তুমি এখন ছোট্ট শিশু
তোমার ডাকে পাখি
গান গেয়ে যায় মধুর স্বরে
চাঁদ বেঁধে দ্যায় রাখি।

তোমার হাসি সূর্য চেনে
তাই জ্বেলে দ্যায় আলো-
বলতে থাকে সেই আলোতে
আপন রঙে জ্বালো।

তুমি জ্বললে সূর্য ডোবে
লক্ষ তাপের ঘর
আমিও হবো বীর সেনানি
শোষণ খেদা ঝড়-
তুমি কাঁদলে বিশ্বজুড়ে
অঝোর বৃষ্টি নামে
বৃষ্টি তো নয়! শোকের ছায়া-
আমার স্মৃতির খামে

আঘাত করে দারুণ বেগে
আমিও হই ছোট
বলি তোমায়-করুণ কণ্ঠে
দোলনা ছেড়ে ওঠো-
কিন্তু তুমি আসো না যে
দোলনা ছেড়ে একা-
তাই তো আমার দুঃখগুলো
হয় না গোলাপ রেখা-
সামনে আমার জীর্ণশীর্ণ
শুকনো সময় কাঁদে-
তোমার হাতে লক্ষ গোলাপ
আনন্দ সংবাদে।

 


বৃষ্টি পড়ে
শাহীন সুলতানা

বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
শিরিষ গাছের শরীর জুড়ে
মুষলধারে আকাশফুঁড়ে
কলকলিয়ে হৃদয় পুরে।

বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
ঝরঝরিয়ে গানের সুরে
কেয়ার বনে ভরদুপুরে
রাত দুপুরে শ্রাবণ জুড়ে।

বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
কদম ফুলে বটের চুলে
তালের পাতায় ধানের ক্ষেতে
লজ্জাবতীর কানের দুলে।

বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
শহরতলীর গাঁয়ের হাটে
মধুমতী নদীর বাটে
দূর পাহাড়ে খেলার মাঠে।

 


লুকোচুরি খেলা
নূর মোহাম্মদ দীন

বৃষ্টি পড়ে সকাল-বিকাল
সন্ধ্যা দুপুর ভোরে
ইলশেগুঁড়ি টিপটিপানি
কখনো বা জোরে।

কখনো বা ছিটেফোঁটা
কখনো বা ঝুপ
ছন্দ-সুরেও বৃষ্টি পড়ে
দেখায় কত রূপ।

যখন তখন বৃষ্টি পড়ে
বৃষ্টি পড়ে ঝুম
বৃষ্টি এলে আলসে চোখে
নামে মজার ঘুম।

কখনো মেঘ কখনো রোদ
লুকোচুরি খেলা
অফিস কাজে পাঠশালাতে
কাটে বৃষ্টি বেলা বেলা।

 

বৃষ্টি হবে
জাকির শায়েরী

এত্তো গরম কেনো লাগে
বৃষ্টি কেনো নেই
আকাশটা যে ধূ ধূ করে
দৃষ্টি মেলি যেই।
আষাঢ় শ্রাবণ বর্ষাকালে
বৃষ্টি গেল কই
বৃষ্টি হবে আসবে আবার
সে আশাতে রই।
এই শহরেই বৃষ্টিকে চায়
ইট পাথরের ঘর
বৃষ্টি হবে বৃষ্টি হবেই
বর্ষা যাবার পর।

 

মশার জ্বালা
বিচিত্র কুমার

দিনের আলো নিভে যখন
সূর্য ডুবি ডুবি,
মশাগুলো ভোঁ ভোঁ করে
আসে চুপিচুপি।

চড়-থাপ্পড় গায়ে মেরে
যতই বলি পালা,
দুষ্টুগুলো যায় না সরে
ভীষণ করে জ্বালা।

ওদের থেকে রেহাই পেতে
মশারিটা বোনাই,
পাজিগুলো কু-সুরে
ভোঁ ভোঁ গান শোনাই।