তিন অক্ষরের ছোট্ট একটি ফুল। নাম তার বকুল। এই ফুলের বিচরণ কমবেশি সব জায়গাতেই দেখা যায়। এর অদ্ভুত পাগল করা ম ম গন্ধ যে কারো মন কেড়ে নিবে। এটি মাঝারি আকারের গাছ। এর পাতাগুলো হয় ঢেউ খেলানো। ফুলগুলো খুব ছোট হয়। বড় জোর ১ সেন্টিমিটার। ফুলগুলো দেখতে ছোট ছোট তারার মতো।বকুল ফুলের সুবাসে থাকে মিষ্টি গন্ধ। এ ফুল প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ ফোটে। একসাথে এত বেশি পরিমাণ ফোটে যে, ফুলের জন্য পাতা পর্যন্ত দেখা যায় না। বকুল ফুল বেশি পরিমাণে ফুটলেও খুব সহজেই আবার তা ঝরে যায়। তারার মতো এই ফুলটি ফোটে রাতে আর সারা দিন ধরে টুপটাপ ঝরে পড়তে থাকে। বকুল ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Mimusops elengi. বকুল ফুলের গাছ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর তীরবর্তী এলাকায় ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, বার্মা, ইন্দোচীন, থাইল্যান্ড, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ এলাকা জুড়ে দেখতে পাওয়া যায়।আমাদের দেশে বকুল ফুলকে অঞ্চলভিত্তিক বহু নামে ডাকা হয়। যেমন : বকুল, বহুল, বুকাল, বাকুল, বাকাল। তবে বকুল নামেই এই ফুলটি বেশি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
বকুল ছোট তারার মতো হলুদাভ সাদা বা ক্রিম রঙের হয়। এটা রাতে ফোটে, দিনে ঝরে যায়। ভারি সুগন্ধি এই বকুল। শুকনো বকুল ফুলের সুগন্ধটা দীর্ঘ দিন থাকে। তাই এই ফুলের মালা অনেকদিন বাসাবাড়িতে রেখে দেয়া যায়। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন এলাকার নারীরা এই ফুলের মালা চুলে পরে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে থাকে।
ভারি সুন্দর গাছ এই বকুল, ঘন সবুজ পাতায় ঠাসা, মাথাটা গোলগাল কিংবা লম্বাটে। বয়স্ক গাছগুলো ৩০-৪০মিটার উঁচু হয়ে থাকে। কখনোই পাতা ঝরিয়ে উদোম হয় না বলে এটা একটা আদর্শ ছায়াতরু। শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন বাসাবাড়িতে বকুলগাছ রোপণ করা হয়।
বাংলা কবিতা ও গানে বকুল ফুলের উপস্থিতি বেশ সরব। যেমন : ১. ‘বকুল ফুল বকুল ফুল
সোনা দিয়া হাত কেন বান্ধাইলি।’
কিংবা
‘তুমি কার লাগিয়া গাঁথো গো সখী বকুল ফুলের মালা।’
ফুলের রাজ্যে বকুল ফুল তার মিষ্টি ঘ্রাণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ফুলটি দেখতে ছোট হলেও এর ঘ্রাণ থাকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত। তাই বাসা কিংবা বাড়ির আঙিনায় বকুলের ছায়া আপনার আশপাশে যেমন সুন্দর এক নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করে তেমনি ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ দূর পর্যন্ত জানিয়ে দেয় বর্ষায় বকুলের আগমনী বার্তা।
