তিড়িং বিড়িং করে নাচতে নাচতে মায়ের কাছে দৌড়ে আসে অহনা। রেজাল্টশিট মায়ের সামনে মেলে ধরে তারপর খুশিতে গদগদ হয়ে বলে, ‘মা, আমি ক্লাসে ফার্স্ট হয়েছি। তুমি বলেছিলে আমি যদি ফার্স্ট হই, তাহলে আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে। বলো না মা, কোথায় নিয়ে যাবে? আর কখন নিয়ে যাবে?’ মেয়ের এহেন অস্থিরতায় মিটিমিটি হাসেন রুমানা পারভীন। মেয়েকে আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। আর মুখে বলেন, ‘দেখা যাক, আমরা কোথায় যেতে পারি। তোমার বাপির সাথেও তো কথা বলতে হবে তাই না?’ মাথা নাড়িয়ে সায় দেয় অহনা। বেণী দুটো দুলিয়ে দুলিয়ে মা’য়ের সাথে রিকশায় ওঠে। আর একে একে চিপস, চকোলেট, জুস সাবাড় করতে থাকে। ভালো রেজাল্ট করায় মাও কিচ্ছু বলছেন না অহনাকে। নইলে এতক্ষণে বেচারিকে অনেক কথা শুনতে হতো।

রোমানা পারভীন একেবারে ছোট থেকেই মেয়েকে ঘরোয়া খাবারের অভ্যাস করিয়েছেন। ভাত, মাছ, সবজি, গোশত, ডাল, শাক, ছোট মাছ যেকোনো তরকারি দিয়ে অনায়াসেই ভাত খেতে পারে অহনা। সে যখন ছোটবেলায় ভাত খেতে চাইতো না রুমানা পারভীন তখন রাক্ষস-খোক্কশ, রাজা-রানী, দুয়োরানী-সুয়োরানী, সুখু-দুখুর গল্প শোনাতেন। হাজার বিরক্তি সত্ত্বেও কখনো কখনো হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেননি। টিভির সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেয়ের খাবার নিয়ে বসে থাকেননি। ছোটবেলা থেকেই মেয়েকে ঘুম পাড়ানোর সময় নবী-রাসূলের জীবনকথা, খলিফাদের জীবনী এই সমস্ত গল্প বলে ঘুম পাড়াতেন।

মাত্র চতুর্থ শ্রেণীতে উঠেছে অহনা। ওর বয়সী বাচ্চাদের চাইতে ওর ম্যান্টাল গ্রোথ অনেক বেশি। স্কুলের বাচ্চাদের মায়েরা অহনার এতো ভালো পারফরম্যান্স দেখে ঈর্ষান্বিত হন। রোমানা পারভীনকে তারা জিজ্ঞেস করেন, ‘ভাবী, মেয়ের এমন কি পরিচর্যা করেন যার ফলে এতো ভালো ফলাফল করে।’ আফসোসের স্বরে অপর পাশ থেকে আরেক মহিলা বলে ওঠেন, ‘আসলে সব আল্লাহ প্রদত্ত। আমার ছেলেকে ছোটবেলা থেকে হরলিক্স, কমú­্যান কত কিছুই না খাইয়েছি। অথচ দেখেন কোনো উন্নতি নেই।’
রুমানা পারভীন মুচকি হেসে বলেন, ‘আগে বাচ্চার হাত থেকে ডিজিটাল ডিভাইস সরিয়ে নিন। তারপর করুন বাকি পরিচর্যা।’ মহিলা লজ্জায় পড়ে যায়। সাথে সাথে ছেলের হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেয়।
রুমানা পারভীন সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই আসুন, আমরা সবাই বাচ্চাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে রাখি। আর শিশুর মেধা বিকাশে সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করি।’