বিড়াল ছানা
জসীম উদ্দীন মুহম্মদ
বিড়াল ছানা মিউ মিউ
আরশি মনি পিউ পিউ
করছে শোরগোল
পাশের বাসায় ঝগড়াঝাঁটি
কে নিয়েছে আমের আঁটি
কী যে গণ্ডগোল!
বিড়ালছানা ঘাপটি মারে
আরশি কি আর ওকে ছাড়ে
লুকোচুরি খেলা
গাছের ডালে পাখপাখালি
ব্যাঙের বাড়ি মহাখালী
কেমনে কাটে বেলা!
মায়ের ছেলে
মেশকাতুন নাহার
ছেলে আমার দুষ্টু ভারি
পড়ায় লেখায় ফাঁকি,
আগামী দিন পড়বে বলে
পড়া রাখে বাকি।
লেখাপড়া করতে গেলে
ধরে হাজার বায়না,
খেলাধুলা টিভি ছাড়া
দিন তো ছেলের যায় না।
পড়তে গেলে ছেলে আমার
ঘুম ঘুম ভান করে,
খিদে খিদে বলে কাঁদে
মায়ের আঁচল ধরে।
গলায় ধরে বলে মাগো
খেলনা কিনে দাও না,
বাইরে ঘুরতে যাব চলো
একটু নিয়ে যাও না।
ছেলের এসব কাণ্ড দেখে
মানুষে মুচকি হাসে,
বলে বাবা তুই যে আমার
প্রতি শ্বাস-প্রশ্বাসে।
আঁকতে পারি
মুহাম্মদ শেখ মূসা
আঁকতে পারি মায়ের ছবি
গাঁয়ের ছবি
আঁকতে পারি দেশ,
আঁকতে পারি স্বপ্ন-আশা
ভালোবাসা
হৃদয়ে বাংলাদেশ।
আঁকতে পারি নদ-নদী আর
আঁকতে পারি মাছও,
আঁকতে পারি ফুল পাখি ও
আঁকতে পারি গাছও।
আরো যা যা আঁকতে পারি
তরুলতা বন,
কৃষক-শ্রমিক, মাল্লামাঝি,
খোকাখুকির মন।
টিনের চালে বৃষ্টি পড়া
আঁকতে পারি আরও,
আমার মতো এত্তো কিছু
তোমরা আঁকতে পারো?
পরিচয়
শফিক শাহ
তানভীর,
সারা দিন অস্থির।
দিন-রাত,
বেড়ে যায় উৎপাত।
রাত-দিন
এভাবেই সাত দিন।
চঞ্চল,
চিনে এই অঞ্চল।
দুর্বার,
বাধা ভেঙে চুরমার।
রোখা সেই,
বুদ্ধির জুড়ি নেই।
বকবক,
এটা নাকি তার শখ!
পরিচয়,
তার মতো কেউ নয়।
সেই ছেলেটি
শাহানাজ শিউলী
নির্বাক চাহনিটা বোবা সেই ছেলে
বসে থাকে ধূলি মাখা পা দু’টি মেলে।
মায়াভরা মুখ তার ছল ছল আঁখি,
অনুক্ত কত কথা রেখেছে সে ঢাকি।
ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের কশাঘাত খেয়ে
ঝড়ো হাওয়ায় ছুটে আসে দুঃখটা ধেয়ে।
সঙ্গীও নেই তার বসে থাকে একা,
তার সাথে পরিচিত কারো নেই দেখা।
মুছে যায় স্বপ্নরা মুছে না তো ক্ষত
অশ্রুতে বুক ভিজে রাত কাটে কত।
ঢেকে থাক রাত্রির যত আছে কালো
আঁধারের মাঝে আছে মুক্তির আলো।
নীল আকাশ
মো. তাইফুর রহমান
আকাশ পানে রই তাকিয়ে
মন ভরে যায় সুখে
উড়ছে ঘুড়ি কী চমৎকার!
নীল আকাশের বুকে।
দেখতে অনেক ভালো লাগে
শুভ্র মেঘের ভেলা
অবাক হয়ে চেয়ে দেখি
প্রকৃতির এ মেলা।
নীল আকাশের মায়া সদা
থাকে আমার মনে
ইচ্ছে জাগে গল্প বলি
ওই যে মেঘের সনে।
আকাশের ওই রূপ দেখে তাই
চেয়ে আমি থাকি
রংবেরঙের পাখি ওড়ে
জুড়ায় আমার আঁখি।
রাতের আকাশ অনেক দারুণ
চাঁদ মামাটা হাসে
এমন দেখে মনটা আমার
খুব আনন্দে ভাসে।
শ্রাবণ তবু
সফিউল্লাহ আনসারী
দুপুর জুড়ে রোদের নূপুর
আকাশটা ঝিলমিল,
শ্রাবণ মাসেও স্বচ্ছনীলে
জলহীন খাল-বিল!
মেঘেরা কি রাগ করেছে
চমকে উঠে দিল,
বর্ষা এখন খা খা রোদে
চাতক যে গাঙচিল।
ধবধবে রঙ প্রকৃতিতে
যদিও শ্রাবণ মাস,
কি যে গরম সয়না মোটে
অসহ্য হাঁসফাঁস!
সারি সারি নৌকো গাঙে
পুকুর জলে হাঁস,
বর্ষাতে চাই অঝর প্লাবন
ভাসুক শ্রাবণ মাস।
