দুঃখে পরান ফাটে
মুস্তাফা ইসলাহী
একটি শিশু রাতে
নখগুলো সব কাটতো শুধু দাঁতে
শিশুর পেটে ঢুকলো অসুখ, কষ্ট ভীষণ তাতে।
একটি কিশোর খেতো
নোঙরা বাসি খাবার যেটাই পেতো
শক্ত রোগে ধরল তারে, কাঁদে এখন সে তো।
একটি ছেলে দিনে
শুধুই বকে কোনো কারণ বিনে
বাঁচাল মদন বললে এখন সবাই তারে চিনে।
একটি খোকা হাঁটে
ঊর্ধ্বে চেয়ে রাস্তা বাজার ঘাটে
ট্রাকের গুঁতোয় ভাঙে কোমর দুঃখে পরান ফাটে।
চিনুক
সিদ্দিক আবু বকর
শামুক ঝিনুক
চিনুক
চিনুক
সবাই চিনুক।
সবাই কিনুক
ঝিনুক মালা
শামুক বালা
কানের দুল
সাগর ফুল।
রূপের খামার
কিনুক সবাই
সৈকত আমার
চিনুক সবাই।
সোনালি দিনের খোঁজে
মেশকাতুন নাহার
শ্যামল গাঁয়ের একটি কিশোর
ঘুরতো পথে-ঘাটে,
দস্যিপনা প্রকৃতি তাঁর
আর একটু খ্যাপাটে।
ঘরের কোণে মন বসে না
চড়তো গাছের ডালে,
মাছ ধরেছে দল বেঁধে সব
কাদা মেখে খালে।
প্রভাত হতে সন্ধ্যে নাগাদ
নেশা ছিল খেলা,
ফুল পাখি আর ধানের ক্ষেতে
কাটতো সারা বেলা।
লেখাপড়ায় ফাঁকি দিয়ে
নদীর ধারে ঘুরে,
আনমনে বাজায় বাঁশি
নিজস্ব এক সুরে।
যুদ্ধে গিয়ে লড়াই করে
হয়েছে খুব নামি,
অর্থবিত্ত প্রতিপত্তি
গাড়ি হলো দামি।
কোথায় গেলো সোনালি দিন
অতীতে যায় দৃষ্টি,
আহা সবই ইতিহাসে
ঝরে নীরব বৃষ্টি।
রূপাই ইলিশ
মাসুম হাসান
ইলশেগুঁড়ি ইলশেগুঁড়ি
ইলিশ ঝাঁকে ঝাঁকে-
লেজ দুলিয়ে নৃত্য করে
অথৈ জলের বাঁকে।
ইলিক ইলিক ঝিলিক সাঁতার
তাক ধিনা ধিন ধিন-
ইলিশ মাছের নীল সাগরে
সুখেই কাটে দিন।
রূপাই ইলিশ রূপাই ইলিশ
ঝিলমিলিয়ে হাসে-
ইলিশরাজা-ইলিশরানী
থাকে পাশে পাশে।
ইলিশ-ইলিশ মা-ইলিশে
গাঙে ছাড়ে ডিম-
ইলিশ রাজার জন্মদিনে
বৃষ্টিতে রিমঝিম।।
নদীর হাল
মঈন তাজ
এই নদী খাল হলো,
জল তার কোথা গেলো।
জল ছিলো থই থই,
এতো জল গেলো কই।
উজানেতে বাঁধ দিয়ে,
সব জল গেলো নিয়ে।
নদী তাই হলো খাল,
উড়ে না মাঝির পাল।
নদী জলে মাছ নাই,
অসহায় জেলে ভাই।
দখল আর দূষণে,
নদী গেলো শ্মশানে।
ওড়ে না পাখির ঝাঁক
শেয়ালের নেই হাঁক।
কোথা সেই কাশবন,
ভাবি তাই প্রতিক্ষণ।
নদী থাক চলমান,
ফিরে পাক তার প্রাণ।
চলুক সে জলযান,
নদী থাক বহমান।
