- প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭৪৪ সালে, মোহাম্মদ বিন সউদের নেতৃত্বে।
- দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮২৪ সালে, তুর্কি বিন আবদুল্লাহর নেতৃত্বে।
- তৃতীয় সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৬ সালে আবদুল আজিজ বিন আবদুর রহমানের নেতৃত্বে। এর একীভূতকরণ ও স্বাধীনতা ঘোষিত হয় ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। এর পর থেকে প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
জাতীয় নাম : আল-মামলাকাতুল আরাবিয়া আস-সাউদিয়া (কিংডম অব সৌদি আরাবিয়া)
সরকার পদ্ধতি : রাজতন্ত্র, নিয়োগ করা মন্ত্রিপরিষদ ও একটি মনোনীত মজলিসে শূরার মাধ্যমে পরিচালিত। সৌদি নাগরিকরা তাদের বক্তব্য সরাসরি সরকারের কাছে পেশ করার অধিকার ভোগ করে। আইনগত ফায়সালা হয় ইসলামী শরিয়াহর ভিত্তিতে, আলাদা কোনো সংবিধান নেই।
রাষ্ট্রপ্রধান : দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে।
আয়তন : ২,২৪০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৮,২৯,৯৯৫ বর্গমাইল)।
ভাষা : সৌদি আরবের সরকারি ভাষা আরবি (ইংরেজিও ব্যবহৃত হয়)।
জনসংখ্যা (২০২২) : ৩৫,২১৮,১৬৯ জন। বৃদ্ধির হার : ১.৪৯ শতাংশ, জন্ম হার : ১৪.৭/১০০০; গড় আয়ু : প্রায় ৭৫ বছর, জনসংখ্যার ঘনত্ব, প্রতি মাইলে ১৫,৩২২জন।
ধর্ম : ইসলাম।
পতাকা : সবুজ রঙের। এর দৈর্ঘ্য এর আকারের দুই-তৃতীয়াংশ। এর ওপর খচিত রয়েছে একত্ববাদের মূলনীতি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মোহাম্মদ সা: আল্লাহর রাসূল)। এই লেখার নিচে ন্যায়বিচারকে প্রতীকী করে খোলা তরবারি অঙ্কিত রয়েছে। বিশ্বে কেবল এই দেশটির পতাকাই কখনো অর্ধ-নমিত করা হয় না এতে ’তৌহিদ’ মুদ্রিত থাকায়।
প্রতীক চিহ্ন : শীর্ষে থাকা খেজুর গাছ-সংবলিত দুটি আড়াআড়ি তরবারি হলো দেশটির প্রতীক চিহ্ন। খেজুর গাছ সমৃদ্ধি আর প্রবৃদ্ধিকে প্রতীকীকরণ করেছে, আর তরবারি দুটি ন্যায়বিচার, শক্তি আর সুরক্ষার প্রতীক।
জলবায়ু : দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা থাকা ৮.৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৮.৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দক্ষিণাঞ্চলে ২৬.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৩.৯৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠা-নামা করে।
বৃষ্টি : এখানে বৃষ্টিপাত বিরল ও অনিয়মিত। গ্রীষ্মকাল দীর্ঘ, উত্তপ্ত ও শুষ্ক। রাতে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পায়। শীতের রাতে হালকা তুষারপাত দেখা যায়।
জাতিগত অবস্থান : আরব-৯০ শতাংশ, আফ্রো-এশিয়ান-১০ শতাংশ।
সাক্ষরতার হার : ৯৫.৩৩ শতাংশ (২০২১)
অবস্থান : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার সন্ধিক্ষণে; পশ্চিমে লোহিত সাগর থেকে শুরু হয়ে পূর্বে আরব উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত; উত্তরে সীমান্ত জর্দান, ইরাক ও কুয়েত; দক্ষিণে ইয়েমেন ও ওমান; পূর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইন।
মুদ্রা : সৌদি রিয়াল(এসআর)। বিনিময় হার ১ মার্কিন ডলার = ৩.৭৫ সৌদি রিয়াল।
মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) : ১১৫ বিলিয়ন ডলার
জাতীয় বিমান সংস্থা : সাউদিয়া। বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের মধ্যকার বর্তমান ফ্লাইট শিডিউল হলো : ঢাকা-জেদ্দা, ঢাকা-রিয়াদ, ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-মদিনা।
প্রশাসনিক বিভাগ
দেশটি ১৩টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত। এগুলো হচ্ছে -
রিয়াদ, ২. পবিত্র মক্কা, ৩. পবিত্র মদিনা ৪. কাসিম, ৫. পূর্বাঞ্চল, ৬. আসির, ৭. তাবুক, ৮. হাইল, ৯. উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত, ১০. জাজান, ১১. নাজরান, ১২. আল-বাহা, ১৩. আল-জাউফ।
সময় : গ্রিনিচ মিন টাইমের চেয়ে ৩ ঘণ্টা বেশি (জিএমপি+৩)=ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড সময়ের চেয়ে ৮ ঘণ্টা বেশি (ডেলাইট সেভিংস টাইম ৭ ঘণ্টা)।
ছুটি : ঈদুল ফিতরের সময় সব অফিস ও স্কুল বন্ধ থাকে। এ ছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় দিবস ও ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করা হয়।
অফিস সময়: সরকারি অফিস : রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা আড়াইটা, বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান : সকাল ৮টা থেকে দুপুর এবং ৩টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। সাধারণ ব্যাংকিং : সকাল ৮টা থেকে দুপুর ও বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। মার্কেট ও দোকানপাট : সকাল ৮ থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।
স্বাস্থ্য : স্বাস্থ্য খাতে বিশ্বে মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি ব্যয়। প্রবাসীসহ সব নাগরিকের জন্য বিনা পয়সায় চিকিৎসা সুবিধা। হাসপাতালের সংখ্যা ২১৩, বেড ৪৫,৫০০ চিকিৎসক ৩০,৭০০ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ৩১৩০ (২০০৪)।
শিক্ষা : ছয় বছর বয়স থেকে সৌদি আরবে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। সৌদি শিশুরা স্কুলে যায় ছয় বছর বয়স থেকে এবং ১২ বছর পর্যন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ছাত্ররা কারিগরি ও সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব নাগরিকের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক।
শিল্প : ভিশন ২০৩০ অর্জনের লক্ষ্যে সৌদি আরব তাদের অর্থনীতিকে বিস্তৃত করছে এবং তাতে নানা বৈচিত্র্য আনছে। বিশেষ করে শিল্প ও উৎপাদন খাতে এই বৈচিত্র্য আনতে কাজ করে যাচ্ছে। শিল্প শহর, উন্নত অবকাঠামো, উচ্চ মানের ইউটিলিটি সরবরাহ এবং একটি সুপ্রতিষ্ঠিত লজিস্টিক নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে আকর্ষণীয় ইকোসিস্টেম মাধ্যমে শিল্প ও উৎপাদন শিল্পের বিকাশ এবং প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।
কৃষি : চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৪.৫ মিলিয়ন হেক্টর। চাষের আওতায় থাকা জমি ২.৯ মিলিয়ন হেক্টর। পশুচারণ ভূমি : ৪৮ মিলিয়ন হেক্টর।
প্রধান শস্য : খেজুর উৎপাদিত হয় স্থানীয় চাহিদার চেয়েও বেশি। উল্লেখ্য, সৌদিরা বিপুল খেজুর খায়। মাথাপিছু খাওয়ার পরিমাণ বছরে ২৯ কেজি। সৌদি আরবে খেজুর কারখানার সংখ্যা ৪৩। অন্যান্য শস্যের মধ্যে রয়েছে গম, যব, বিভিন্ন ধরনের ফল, আলু ও সব্জি। সৌদি আরবে প্রতি বছর ৪০ লাখ টন গম উৎপাদিত হয়। দেশটিতে বিভিন্ন ধরনের সব্জি ও ফলমূল চাষ হয়ে থাকে।
বিদ্যুৎ : ষষ্ঠ উন্নয়ন পরিকল্পনায় (১৯৯৬-২০০০) ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা বিদ্যুৎ কর্মসূচির আওতায় এসেছে।
পর্যটন : পর্যটন খাত সৌদি ভিশন ২০৩০ এর অন্যতম অংশ। ২০১৮ সালে বিএমআই পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী এখানে ধর্মীয় এবং ধর্মের বাইরে পর্যটন উভয়ের বিকাশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। খেলাধুলা ও কনসার্টে বিদেশী দর্শনার্থীদের আগমনের জন্য সৌদি সরকার ২০১৮ সালে ইলেকট্রনিক ভিসা পদ্ধতি চালু করে। ২০১৯ সালে সৌদি আরব দর্শনার্থীদের জন্য ভিসা আবেদনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যার ফলে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশের পর্যটকরা সৌদি আরব ভ্রমণের সুযোগ লাভ করে।
আকর্ষণীয় পর্যটন রিসোর্টগুলো হচ্ছে : তায়েফ, আল-শিফা, আল-হাদা, আল-বাহা, আভা, খামিস মাশাইত, আল-নামাস, আল-আহসা। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলে আছে সুন্দর অর্ধ চন্দ্রাকৃতির বিচ, জেদ্দার সুন্দর ‘কোরাল রিফ’ এবং দীর্ঘ কয়েকটি বিচ।
খনি : মোট অপরিশোধিত তেল মজুদ- ২৬০ বিলিয়ন ব্যারেল (বিশ্বের মোট মজুদের ২৫ ভাগ); মোট গ্যাস মজুদ- ১৮০ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট। সৌদি আরব জাতীয় গ্যাসের চতুর্থ বৃহত্তম মজুদের অধিকারী। অন্যান্য খনিজ : লিড, নিকেল, জিঙ্ক, স্বর্ণ, টিন, টানস্টেন, লোহা, কপার, ইউরেনিয়াম, ফসফেট, বক্সাইট, পটাসিয়াম, গ্রানাইট, মার্বেল।
পরিবহন ও যোগাযোগ : ক. বিমানবন্দর : ২৬টি বিমানবন্দর। এর মধ্যে চারটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলো- ১. জেদ্দা, ২. রিয়াদ, ৩. দাম্মাম, ৪ মদিনা। বাকি ২২ টি অভ্যন্তরীণ। খ. রেলওয়ে : সৌদি রেলওয়ে নেটওয়ার্কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৩৯২ কিলোমিটার (২০০২) গ. মহাসড়ক : মহাসড়ক : মোট ১৫১,৪৭০ কিলোমিটার; বাঁধানো : ৪৭,৫৯২ কিলোমিটার, অবাঁধানো : ১০৫,৮৭৮ কিলোমিটার (১৯৯৯)। ঘ. বন্দর ও পোতাশ্রয় : ১. আদ দাম্মাম, ২. আল জুবায়েল, ৩. দুবা, ৪. জেদ্দা, ৫. জিজান, ৬. রাবিঘ, ৭. রাস আল খাফজি, ৮. মিসহাব, ৯. রাস তান্নরা, ১০. ইয়ানবু আল বহর, ১১. মদিনাতুল আনবু’ আলসিয়াহ।
গণমাধ্যম ও যোগাযোগ
ক. দৈনিক পত্রিকা ও সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন: সৌদি আরবের সবচেয়ে প্রচারবহুল পত্রিকা ১১টি। এগুলো হচ্ছে- ১. আল-রিয়াদ, ২ আল-জাজিরা, ৩. ওকাজ, ৪. আল-ওয়াতান, ৫. আর-ইকতিসাদিয়া, ৬. আল-মাদিনা, ৭. আল-ইয়োম, ৮. আল-রিয়াদিয়া, ৯. আল-রিয়াদা, ১০. আসরাক, ১১. আল-আওসাত, ১১. আল-হায়াত।
এ ছাড়া এখানে অর্থনীতি, ব্যবসা, বাণিজ্য, কমার্স, স্বাস্থ্য মেডিসিন, খেলা নারী বিষয়ে কয়েক ডজন সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন রয়েছে।
খ. রেডিও সম্প্রচার স্টেশন : এএম. ৪৩, এফএম ৩১, শর্টওয়েভ ২টি (১৯৯৮)
গ. টেলিভিশন সম্প্রচার স্টেশন : ১১৭ (১৯৯৭)
ঘ. ডাকঘর : ৬৮৩
ঙ. টেলেক্স লাইন : ৩০০০০ (২০০৮)
চ. ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার : ২২ (২০০২)।
ড্যাম : ৮৫০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ২৫০টি ড্যাম। দেশের বৃহত্তম দুটি ড্যাম হচ্ছে বিশা ও নাজরান।
লবণমুক্তকরণ প্লান্ট : ২৭টি প্লান্ট, উৎপাদনক্ষমতা : দৈনিক ৫৭৩ কিউবিক মিটার।
ঐতিহাসিক স্থান : ঐতিহাসিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর অবস্থান প্রধানত নিচের স্থানগুলোতে- ১. মক্কা আল-মোকারামাহ, ২. আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারাহ, ৩. আর উলা, ৪. মাদাইন সালেহ ও ৫. নাজরান।
দুই পবিত্র মসজিদের সম্প্রসারণ
৭০ বিলিয়ন রিয়াল ব্যয়ে মক্কা ও মদিনার দুই মসজিদের সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দুই পবিত্র মসজিদে ৫ লাখ ৭৫ হাজার বর্গমিটার জায়গা সম্প্রসারিত হয়েছে, যাতে হজ ওমরাহর সময় এক সাথে ৪০ লাখেরও বেশি মুসল্লিকে নামাজ পড়ার মতো ব্যবস্থা করে সর্বোত্তম সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে।
