কাশফুল
শাহীন রেজা
কাশফুল কাশফুল
খুকুমনির কানে দুল
উড়ে যায় দিকহীন
দাদুদের বক-চুল
শরতের রীতি এ-ই
জলহীন মেঘরাজ
দুধশাদা বুকে তার
ওড়ে চিল রংবাজ
কাশফুল কাশফুল
হৃদবনে জাগে দোল
নীলপরী লালপরী
স্বপনের পাখা খোল।
মনটা শুধু টানে
ফরিদ সাইদ
দালানকোঠার জটিল শহর
ভাল লাগে না মোটে
শাপলা ফোটা বিলের ধারে
মনটা আমার ছোটে।
তরুণ-যুবা সাঁতার কাটে
শান্ত সতেজ খালে
ট্যাংরা, পুঁটি, পাবদা, বেলে
ধরে জেলের জালে।
আঁকাবাঁকা মেঠোপথে
নানান লোকে হাঁটে
আপন মনে গাঁয়ের সবাই
সারাটা দিন খাটে।
মন কেড়ে নেয় পাখপাখালি
কিচিরমিচির গানে
নয়ন জোড়া শ্যামল মাঠে
মনটা শুধু টানে।
শরৎ আসে বাংলাদেশে
শাহী সবুর
ভোরের পাখির মিষ্টি গানে
ঘেঙে গেল ঘুম,
আঁখি মেলে চেয়ে দেখি
পড়ছে আলোর ধুম।
শিউলি তলা ছেয়ে গেছে
সুরোভিত ফুলে,
প্রজাতি রঙিন পাখায়
উড়ছে দুলে দুলে।
শরৎকালে নদীর কূলে
সাদা কাশের ফুলে
বাতাসে তার ঢেউ লাগিয়ে
উঠছে দুলে দুলে।
নদীর বুকে নাও বেয়ে যায়
ভিনদেশী কোন নেয়ে,
জলকে চলে নদীর ঘাটে
পল্লী গাঁয়ের মেয়ে।
শরৎকালে নীলাকাশে
জলহারা মেঘ ভাসে,
ঋতুচক্রের খেলায় শরৎ
বাংলায় ঘুরে আসে।
এলো শরৎ
হানিফ রাজা
বর্ষা শেষে শরৎ এলো
শিউলি ফুলের ঘ্রাণে,
কাশের বনে দোলা লাগে
হিমেল বায়ের টানে।
ফুলপ্রেমীরা ছুটছে সবে
কাশের বনের পানে,
মন আনন্দে নেচে ওঠে
রাখাল ছেলের গানে।
বিহানবেলা সোনা রোদে
শিশির পড়ে ঘাসে,
কুসুমবাগে অলিরা সব
মনের সুখে ভাসে।
নীল আকাশে যায় যে উড়ে
সাদা মেঘের ভেলা,
নদীর কূলে কাশের ফুলে
করে যেন খেলা।
বিলে ঝিলে শাপলা শালুক
তাকায় মাথা তুলে,
হঠাৎ করে বৃষ্টি এসে
শরৎকে দেয় ভুলে।
এরই নাম শরৎ
শাহীন খান
ঝিকমিক করে সোনা রদ্দুর
ভালো লাগে চোখ যায় যদ্দুর
মেঘমালা ছুটে যায় যায় দূরে
পাখিরা সব খেলা করে উড়ে।
কাশফুল যত ফুটে রয় কূলে
ঝাউবন দেখি ওঠে দুলে দুলে
পানকৌড়ি আর হাঁসেদের মেলা
দীঘি জলে করে সারা দিন খেলা।
মাঝি মুখে গান লাগে ভালো
উবে যায় মন থেকে কালো
কৃষাণীর ঘরে আসে হাসি
দূর গাঁয়ে বেজে চলে বাঁশি।
রাতটুকু ভালো লাগে কি যে
জোছনায় যাই শুধু ভিজে
জোনাকিরা মিটিমিটি জ্বলে
সুখ সুখ লাগে হিয়া তলে।
এরই নাম শোন খোকা শরৎ
বুকে জমা থাকে খুবই দরদ
অনাবিল লাগে তার রেশ
রঙে রূপে সাজে গোটা দেশ!
