বহুকাল আগের কথা। এক টিকটিকি ও এক ব্যাঙের মধ্যে খুব বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসাথে ঘুরতো- ফিরতো, শিকার করতো, খাইতো এবং ঘুমাতো। একসাথে লাফাতো, বসতো, গল্প করতো। মজার কথা হলো সেই সময় টিকটিকির লেজ ছিল না। লেজবিহীন টিকটিকি ব্যাঙের মতোই বসতে পারতো। লাফাতে পারতো। একদিনের ঘটনা। টিকটিকি আর ব্যাঙ মিলে বেরিয়ে পড়লো শিকার ধরতে। মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে তারা পৌঁছাল এক ঘেটু বনে। এই বনের সুস্বাদু ঝিঁঝি পোকা ও মাকড়সার মাংস খেতে অনেক মজাদার। এর আগেও একবার এই বনে এসেছিল তারা। এবার এসে শক্ত করে তাঁবু খাটালো তারা। গ্রীষ্মের দিনগুলোতে তারা এখানেই থাকবে। এই যাত্রার প্রথম দিনে তারা পাঁচটি মাকড়সা শিকার করে রেজালা বানিয়ে খেলো। রাতে ঝিঁঝি পোকাদের ধরতে হানা দিলো। এক লাফে একবার এগোয় ব্যাঙ আরেক লাফে টিকটিকি।
এক ঝিঁঝি পোকা গর্তের মুখে বসে একধ্যানে গান গাইছিল। ব্যাঙ আর টিকটিকিকে দেখে সে ভয় পেয়ে গেলো। তাদের কাছে এই ব্যাঙ আর টিকটিকিই হলো ভূত। তাই ভূ উ ত ভূ উ ত বলে সে গর্তের ভেতরে ঢুকে পড়লো। গর্তের মুখটি ছিল বেশ প্রশস্ত। ঝিঁঝিকে ধরতে টিকটিকি ও ব্যাঙটিও গর্তের ভেতরে ঢুকে গেল। টিকটিকি সামনে তার পেছনে পেছনে ব্যাঙ। ঝিঁঝি এগিয়ে যায় আর তারাও যায় পেছনে পেছনে। যেতে যেতে তারা পৌঁছে গেল ঝিঁঝি পোকাদের রাজ্যে। ঝিঁঝিরাজ সৈন্য সামন্ত উজির নাজির নিয়ে নিজেদের সুরক্ষা বিষয়েই পরামর্শ করছিল। এমন সময় প্রজা ঝিঁঝির চিৎকার-চেঁচামেচিতে ফিরে তাকালো সবাই। ব্যাঙ আর টিকটিকির দুঃসাহস দেখে ঝিঁঝিরাজ ঘোষণা করলো- আক্রমণ করো। ভূতরূপী এসব ব্যাঙ টিকটিকি থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতেই হবে। এগিয়ে যাও।
রাজার নির্দেশে সৈন্যসামন্তরা এগিয়ে গেল ব্যাঙ আর টিকটিকিকে ধরতে। পেছনে হটলো ব্যাঙ আর টিকটিকি। ব্যাঙকে ধরতে না পারলেও টিকটিকির পেছনে কামড়ে ধরল ঝিঁঝি সেনাপতি। কামড়ে ধরা সেনাপতিকে নিয়ে টিকটিকি এগোতে থাকে সামনের দিকে। একপর্যায়ে সামনের দিক থেকে টিকটিকির মাথা ধরে টানে ব্যাঙ আর পেছনের দিক থেকে টানে ঝিঁঝি সেনাপতি ও সৈন্যরা। ঠিক যেন দড়ি টানা খেলা। টানতে টানতে টিকটিকির পেছনে অনেকটা লম্বা হয়ে গেল। ঠিক লেজের মতোই। তারপর কত চিকিৎসা, কত ওঝাবৈদ্যের আনাগোনা। টিকটিকির ওই লেজ আর ছোট হলো না। সেই থেকে লেজ নিয়েই চলছে টিকটিকি। তবে এখন টিকটিকিরা শত্রুর আক্রমণের শিকার হলে নিজের লেজ নিজেই খসিয়ে দিয়ে শিকারিকে বোকা বানাতে পারে। আত্মরক্ষা করার টিকটিকির এই কৌশলটি খুব চমৎকার, তাই না?