ফুলপাখি
মুস্তফা মানিক

পাখি ডাকে ডালে ডালে সুর সুমধুর
ভেসে যায় অজানায়- দূর বহুদূর
মোহনীয় কলতান খুব কাড়ে মন
পাখিদের আনাগোনা যেইখানে বন।

দোলনার মতো করে খায় ওরা দোল
ছোট-বড় পাখি মিলে খুব শোরগোল
মনখুলে গান করে ঝাপটিয়ে ডানা
সুর নয় ঝরে যেন মুক্তোর দানা।

কুয়াশার ভেজা ঘাসে হাসে পাখিসব
যেন মহা আয়োজন বড় উৎসব
আলোমাখা রোজ ভোরে দল বেঁধে দল
পাখিদের এই ছবি আলো ঝলোমল।

দখিনের সমীরণ দেয় দোলা প্রাণে
মৌ মৌ গন্ধে পাখিদের টানে
দু’ ডানা ভর করে শূন্যেতে ওড়ে
ঝাঁকেঝাঁকে ফুলপাখি চারপাশে ঘোরে।

মধুময় সুঘ্রাণে মাতোয়ারা দেশ
ফুলবাগে ফুলপাখি করে সমাবেশ
জবা বেলি কাশফুলে সাজ অপরূপ
পাখি সব দল বেঁধে দিয়ে যায় ডুব।


মানুষ হতে চাই
বেণীমাধব সরকার

মানুষ হতে চাই যে আমি মানুষ হতে চাই,
অমানুষের বসন ভূষণ পুড়িয়ে দেবো তাই।

ন্যায়নীতিকে রাখব সাথে গলার মালা করে
আগুন দেবো বিবেকবিহীন লোভ লালসার ঘরে।

সততা আর নম্রতাকে সালাম দেবো হেসে
বিশ্বাসীকে আমার পাশে রাখব ভালোবেসে।

মূল্যবোধ ও বিবেকবাণী রাখব আদরেতে
হৃদয় তলে মানবতার আসন দেবো পেতে।

সত্য ন্যায়ের ঝাণ্ডা তুলে গাইব সুরে গান
সুখের বাতাস সব মানুষের জুড়িয়ে দেবে প্রাণ।

শঠতা কূটচালকে আমি জানিয়ে দেবো টাটা
সন্ত্রাসী চালবাজদের তাই পড়বে মাথায় ঠাটা।

হাসিখুশি আনন্দটা রইবে দেশে দেশে
দুঃখ শোকের কান্না যাবে সাগর জলে ভেসে।

 

ফিলিস্তিনে
মোরশেদ কমল

ফিলিস্তিনে যুদ্ধ চলে
যুদ্ধে মানুষ মরে
এসব দৃশ্য দেখলে আহা...
মন বিষাদে ভরে।

মা যে হারায় সন্তানেরে
বোন হারায় তো ভাই
ঘর-বাড়ি সব উজাড় বলে
রাস্তাতে নেয় ঠাঁই।

মানবতার দোহাই দিতে
আমরা শুধু পারি
দুর্বলকে-সবল সদাই
করছে খবরদারি!

 

সকাল হলো
দীপক বড়ুয়া

সকাল হলো পুব আকাশে সূর্য উঠেছে
বাগানজুড়ে জুঁই চামেলি গোলাপ ফুটেছে
বাবু সোনার ঘুমও টুটেছে?
ফুলপরীরা কৌশলে সব ফুল যে লুটেছে!
ফুল খুঁজলে ফুল পাবি না
ফুল ছাড়া তুই মঠ যাবি না!
বাবা আবার মা কবিতা পড়তে বলেছে
মায়ের কথায় বাবু সোনা দু’কান মলেছে!
বলছে মাগো, বাবার ভয়ে বুকটা কেঁপেছে
আদর নিয়ে মা মনিটা ভীষণ ঝেঁপেছে

 

ভুলব না
নুর জাহিরুল

কার কথাতে মিষ্টি মধুর, শান্তি খুঁজে পাই
মান অভিমান থাকলে মনে কথায় ভুলে যাই-
আদর সোহাগ কার কথাতে, শুনলে জুড়ায় বুক
হাজার কষ্ট থাকলে তবু, ফুরায় সকল দুখ।

কার মুখে আজ দোয়া পেলে, কাজে সফল হয়
চলতে ফিরতে বিপদ আপদ, আর থাকে না ভয়-
সকাল বিকাল কার কথাতে, বাসায় পড়তে বসি
ছবি আঁকা, বাংলা পড়ে অঙ্কটাও কষি।

কার কথাতে মুখের ভাষা ছোট্ট বেলায় শিখি
পেনসিল হাতে সিলেট নিয়ে অ আ বর্ণ লিখি।

কোথাও থেকে ফিরতে আহা একটু দেরি হলে
পথটা চেয়ে কার দুটি চোখ ভিজে অশ্রু-জলে জলে-
জগতে তার কারও সাথে হয় না তুলনা-
সেই তো হলো মা জননী, মাকে ভুলো না।

 

আজ হেমন্তে
নূরজাহান নীরা

মাঠ ভরেছে সরষে ফুলে
বইছে হলুদ দোলা
কৃষক হাসে সুখের হাসি
ভরবে তাদের গোলা।

গাছি ব্যস্ত ভোর সকালে
পাড়তে রসের হাড়ি
খেজুর রসের পিঠা পায়েস
জমবে বাড়ি বাড়ি।

শিশির ভেজা পথ পেরিয়ে
জেলে এগোই বিলে
দেশী মাছের বেশ সমাহার
মিলবে বিলে-ঝিলে।

অনেক উৎসব, বউ মেয়েরা
করছে ছুটোছুটি
আনন্দ সব, রোদ বারান্দায়
খাচ্ছে লুটোপুটি।