শরৎ হেমন্তে
মীর ইসরাত জাহান
একটি সবুজ গ্রাম,
খুঁজে ফিরি প্রাণের চোখে
কোথায় হারালাম!
আবার ধরাধাম,
বৃষ্টি ঝরুক সুখ স্মৃতিময়
আকাশ সাজাতাম।
শরৎ হৃদয় হাসে,
সাদা নীলে মন পাখি ছায়
আনন্দ উচ্ছ্বাসে।
হেমন্তে মন ভাসে,
দোল উচাটন আন্দোলিত
মমতা উল্লাসে।
আর কিছুদিন পর,
আঘ্রাণে ঘ্রাণ নিঃশ্বাসে তান
প্রাণের সরোবর।
এমনি হাওয়ায় মাতি,
বাংলাদেশের ছয়টি ঋতু
সন্ধ্যা ও প্রভাতী।
মায়ের হাতের পিঠা
আজাদ হোসেন
শহর ছেড়ে গাঁয়ে এলাম
আমার মায়ের কাছে,
মায়ের কাছে আদর সোহাগ
অনেক জমা আছে।
আমায় দেখে কত্ত খুশি
মায়ের মুখে হাসি,
মা আমায় কয় সোনা মানিক
কত্ত ভালোবাসি।
আমার জন্য নতুন ধানের
মা বানালেন পিঠা,
মায়ের হাতের মজার পিঠা
আহ কী যে মিঠা।
মায়ের আদর সোহাগ নিতে
ফিরে ফিরে আসি,
আমার মায়ের আদর পেতে
চাই যে বারোমাসি।
ষড়ঋতু
শাহানাজ শিউলী
রূপের খেলা, রঙের খেলা, সুরের খেলার দেশ
ষড়ঋতুর সাজসজ্জার নেই তো কোনো শেষ।
আম, লিচু, আর কাঁঠাল ফলের গ্রীষ্ম করে চাষ
অগ্নিঝরা, রৌদ্রখরা জলহীন দুই মাস।
বর্ষা আসে অথৈই জলে নূপুর পায়ে দিয়ে
সুবাস ভরা কদম, কেয়া মাছের বাজার নিয়ে।
রূপের রানী শরৎ আসে শুভ্র মেঘের ভেলায়
নতুন ধানের মঞ্জুরীতে লুকোচুরি খেলায়।
মায়াময়ী হেমন্তটা ধানের খবর নিয়ে
শূন্য গোলা পূর্ণ করে পাকা ফসল দিয়ে।
পৌষ পার্বণে পিঠা নিয়ে আসে শীতের মাস
বিন্দু বিন্দু শিশির মেখে হাসে দুর্বাঘাস।
ঋতুর রাজা বসন্ত সে কোকিল ডাকা সুরে
উদাস করা মাতাল হাওয়া মন নিয়ে যায় দূরে।
ঘুমকাতুরে খোকা
গোলাম আযম খান
ঘুমকাতুরে খোকাবাবু
দেয় আরামে ঘুম,
বাবার বুকে শুয়ে থাকে
পেয়ে নরম উম।
রোজ বিহানে আজান শোনে
ঘুম থেকে যায় উঠে,
বাবার সাথে পড়তে নামাজ
মসজিদে যায় ছুটে।
নামাজ পড়ে ফিরে বাড়ি
আবার শুয়ে পড়ে,
ঘুম ঘুম ঘুম ভাবে বিভোর
চোখে যে ঘুম ধরে।
ঘুমের রাজ্যে পরীর মেলা
মুচকি হাসে দেখে,
ফুলের সুবাস পেয়ে আহা
খুশবু ছড়ায় মেখে।
ঘুম হলো তার আরাম আয়েশ
ঘুম হলো তার সুখ,
ঘুম যেতে তার হয় না দেরী
পেলে বাবার বুক!
ইচ্ছে আমার
জান্নাত মিমি
ফুলের মতো ফুটবো আমি
গাইবো পাখির মতো
নদীর মতো বইবো আমি
ইচ্ছে কত শত।
মেঘের মতো উড়বো আমি
বৃষ্টি হয়ে ঝরবো
জোছনা রাতে উড়ে গিয়ে
জোনাকিদের ধরবো।
রাত আকাশের তারা হয়ে
মিটমিটিয়ে জ্বলবো
ফুলের কাছে পাখির কাছে
মনের কথা বলবো।
ইচ্ছে আমার আমি হবো
আমার গাঁয়ের মতো
ছোট্ট আমার অবুঝ মনে
ইচ্ছে আরও কতো।
শরৎ রানীর শোভা
ইলিয়াছ হোসেন
ঋতুর রানী শরৎ আসে
মেঘের ভেলায় চড়ে,
শিউলি বকুল সুবাস ছড়ায়
গাছের তলায় পড়ে।
বিলে ঝিলে মনমোহিনী
পদ্ম শাপলা ফুটে,
ঘাসের শিশির ঝকমক করে
পুবের সূর্য উঠে।
শুভ্র কাশের নরম ছোঁয়ায়
দোলা লাগে মনে,
নানান রঙের প্রজাপতি
ওড়ে ফুলের বনে।
পানকৌড়ি মনের হর্ষে
সাঁতার কাটে জলে,
বকের সারি নীড়ে ফেরে
সাঁঝের বেলা হলে।
রক্তাক্ত ফিলিস্তিন
মোহাম্মদ শামীম মিয়া
এমনি করে আর কতকাল
মার খাবে সব ফিলিস্তিন,
কেউ জানে না আসবে কবে
তাদের ঘরে সুখের দিন।
স্বাধীন হবে কবে তারা
কবে পাবে মুক্তি,
মুখে মুখে শত নেতা
দেখান কেবল যুক্তি।
ধ্বংস হলো গাজা শহর
মানুষ মরে ঝাঁকে
রক্ত স্রোতে জমিন ভাসে
বলবো বলো কাকে।
আকাশ ফেঁড়ে বোমা ঝরে
স্বজন কাঁদে শোকে,
ফিলিস্তিনের করুণ দৃশ্য
দেখছে নানান লোকে।
ফিলিস্তিনের জন্য দুঃখ
যুদ্ধ থামা চাই,
অকারণে মরবে কেনো
সব আমাদের ভাই।
ফোঁস ফাঁস
সুশান্ত কুমার দে
সবাই করে ফোঁস ফাঁস
কেউ মারে না ঢোঁসঢাঁস,
দেখছে সবাই মরা-বাঁচা
চাচা আপন পরান বাঁচা।
সবাই দেখে কান্না-হাসি
মৃত্যু মিছিল রাশি রাশি,
দেখছে মানুষ বিশ্ববাসী
কে এসেছে কাছাকাছি?
মুখটা বুঁজে আছি বেশ
জ্বলে পুড়ে গোটা দেশ,
নাইরে খাবার নাই পানি
বড়ই খারাপ মনখানি
জেগে ওঠো বিবেকবান
বাঁচাও শিশুর কচি প্রাণ,
অঝোর ঝরে বৃষ্টি ধারা
বাঁচাও প্রাণ মানুষ তারা!
