এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাক তুমি
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি।
আমার দেশের অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নৈসর্গিক দৃশ্যের স্বাপ্নিক চিত্রকল্পের উদ্ভাস রয়েছে কবির এ কবিতায়। দেশমাতার সৌন্দর্য প্রেমে কবি বিভোর হয়েই কেবল এমন উক্তি করেছেন। আমার এ সোনার দেশকে সকল দেশের রাণী হিসেবে চিহ্নিত করতে অকুণ্ঠিত থেকেছেন কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। কিন্তু পূর্ব বাংলার নিঃসর্গ প্রকৃতি যে আরো মোহময়, আরো স্বপ্নিল। আরো স্বাপ্নিক।

আমি বাংলার রূপ দেখিয়াছি
আর কারো রূপ খুঁজিতে চাই না।
সে স্বপ্নে খোলা বাতায়নে স্বাধীনতার পবন পরশে পূর্ব বাংলার স্বপ্নকামী জনতা যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল সে বাংলাও ছিল সৃষ্টির সৌন্দর্যের অপার বিস্ময়। বহুদর্শী কবি সৈয়দ আলী আহসান পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের সৌন্দর্য অবলোকন করলেও আমার পূর্ব বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের ছটা কোথাও তিনি দেখেননি। কী অপরূপ দেশপ্রেম। আর দেশপ্রেমের অনুভূতি কবিচিত্তের। দেশপ্রেমিক কবির এ অনুভূতিও স্বাপ্নিক। এ যেন সৌন্দর্যের চেয়েও অতিরিক্ত সৌন্দর্যের জীবন্ত সাক্ষাৎ।

বাংলার এ অংশের জনগণ বরাবরই আত্মবিশ^াসী, আত্মপ্রত্যয়ী। সরলতা, সহজতা, নির্মলতা তাদের আচরণিক বৈশিষ্ট্য। বাংলার জনগণ বরাবরই কষ্টসহিষ্ণু। তবে অবিচারে অসহিষ্ণু, প্রতিবাদী। এ জাতি সহাবস্থান প্রয়াসী। তবে জবর দখলের মূলোৎপাটনে অদম্য। বন্ধুত্বের সম্মান সুরক্ষায় দৃঢ়প্রত্যয়ী। তবে শত্রুর অনুপ্রবেশে সর্বোচ্চ প্রতিবাদের উৎসারী। এক কথায় স্বাধীনতার উন্মুখ এ জাতি। শত কষ্ট মাঝেও স্বাধীনতা তার চাইই চাই।
স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে

কে বাঁচিতে চায়।
স্বাধীনতার জন্য লড়াই, স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ের ইতিহাস এ জাতির অনেক প্রাচীন। জবরদখলি, ঔপনিবেশিক, জোচ্চুরি মোড়লগোষ্ঠীর উৎপাটনে নিরাপস এ জাতি। ধন-সম্পদ, অর্থ-বিত্তে বরাবর উদ্বৃত্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল আমাদের শ্যামলভূমি। এ শ্যামলভূমির প্রতি ঔপনিবেশিক শক্তির লোভাতুর দৃষ্টি ছিল সর্বদাই। কর্মসহিষ্ণু ও নিষ্ঠাবান এ জাতির অমিত বিক্রমের প্রতি লোলুপ ও শ্যেন দৃষ্টি ছিল বিশ^খ্যাত সকল সামরিক জান্তারই। ফলে দুই দিক থেকেই এ জাতির উপর ছিল অত্যাচারীর সুতীক্ষè খড়গ ও অনল।
তথাকথিত সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু ও অত্যাচারীর নিষ্পেশনের স্টিম রোলারকে তোয়াক্কা করেনি এ জাতি। স্বয়ংক্রিয় শক্তিশালী অস্ত্রের সামনে দাঁড়িয়েছে স্বাধীনতার অমিত শক্তি নিয়ে। ফুঁসে উঠেছে অত্যাচারের বিরুদ্ধে। নিতান্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের নাম করে এ দেশে আগমন করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ক্রমেই তারা এ দেশকে তাদের কলোনিতে পরিণত করে। এ দেশকে শাসন করার অভিপ্রায়ে এগুতে থাকে। অত্যাচারের খড়গ ঘনীভূত হতে থাকে জাতির প্রতিটি সদস্যের ওপর। এ জাতির শিক্ষানীতি বিনষ্ট করে, সংস্কৃতি ধ্বংস করে। ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত করে, মান-সম্মান-ইজ্জত ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। তাদেরকে সেবাদাসে পরিণত করে। দারিদ্র্যকে তাদের সাথী বানায়। এসবই এ দেশের নিরীহ জনতার সহ্যাতীত হয়ে উঠে। বিদ্রোহের অনলে জ¦লে ওঠে। দীর্ঘ দু’শত বছর দুঃশাসন আর অপশাসনের গলায় তীক্ষè ছুরিকাঘাত বসিয়ে দেয় এ উপমহাদেশের সংগ্রামী জনতা। এ দেশ হতে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দেয় ব্রিটিশ বেনিয়াদের।

এবার দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে নিঃশ^াস নেবার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সে স্বপ্ন বেশিদিন স্থায়ী হয় না। অঞ্চল ও জাতিগত সংঘাতে জড়িত হয় এ জাতি। গোষ্ঠীগত বিশ^াস ও চেতনার দোহাই দিয়ে দেশ ভাগ হয়। এবার ভারতের আগ্রাসী মনোবৃত্তি হতে রেহাই পেতে আলাদা হয় পূর্ব আর পশ্চিম দুই পাকিস্তান। চলছিল ভালোই। তবে পশ্চিম পাকিস্তানের অভিজাত প্রবণতা, মোড়লিপনা, নিজেদেরকে নেতৃত্বের ধারক-বাহক ভাবতে থাকার প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডের নানা অনুষঙ্গে জটিলতা সৃষ্টি হতে থাকে। তারা নিজেদের শাসক ও আমাদেরকে শোষিত ভাবতে থাকে। বিদ্রোহ দানা বাঁধে। অত্যাচারের বিরুদ্ধে অত্যাচারিতরা স্লোগান তোলে। মাত্র ২৫ বছরের মাথায় এ দেশ নির্ভেজাল স্বাধীনতার স্বাদ পায়। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের আলো-বাতাসের গন্ধে নাসিকা সিক্ত করে। শুরু হয় স্বাধীন দেশের স্বাধীন চলাফেরা। চলছে অদ্যাবধি প্রায় ৫২ বছর।
স্বাধীন ভূখণ্ডের মজা আমরা পেয়েছি। আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তিই কেবল নয় সমৃদ্ধিও হয়েছে। শিল্প ও কৃষি খাতে আমাদের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। জুলুম ও অবিচারের নিরসন হয়েছে। বাইরের কোনো শক্তি আমাদেরকে চোখ রাঙানি দিতে পাঁচবার হিসেব করে। ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত নির্যাতনের হাত হতে আমরা অনেকখানি রেহাই পেয়েছি নিঃসন্দেহে। আমরা আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছি। মতামত প্রকাশের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারছি। এখন আর আমাকে গাইতে হয় না-ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়।
এক কথায় আমরা স্বাধীন একটি ভূখণ্ড পেয়েছি। একটি নির্দিষ্ট সীমানার মালিকানা আমাদের অধিকারভুক্ত হয়েছে। আমাদের অনেক দিনের আকাক্সিক্ষত স্বপ্নের স্বাধীনতার আনন্দ আমরা অনুভব করেছি।

স্বাধীনতাই একটি স্বপ্ন। একটি স্বপ্নকে আবর্তিত করেই অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বন্ধুগণ! আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যা দেখি সেই স্বপ্নের কথা বলছি না। বরং সারাক্ষণ জেগে জেগে অনাবিল বুননে যে অনবদ্য মালা গেঁথেছি সেই স্বপ্নমালার কথা বলছি।
পূর্ব প্রজন্মের কাছে গল্প শুনেছি- পাকিস্তানের পশ্চিম অংশের শাসকগোষ্ঠীরা আমাদেরকে নানা বঞ্চনায় নাস্তানাবুদ করত। আমরা তাদের বঞ্চনা সহ্য করতে পারতাম না। আমরা শাসকগোষ্ঠীর বঞ্চনা হতে মুক্তি পেতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি।
আজও আমি স্বপ্ন দেখি বঞ্চনামুক্ত বাংলাদেশের। স্বপ্ন দেখি এক বাংলাদেশের যে বাংলাদেশে খাদ্যবঞ্চিত কোনো অনাহারি মানুষ থাকবে না। রেল স্টেশন বা বাস স্টপেজে অনাহারি কোনো বৃদ্ধের আর্তকণ্ঠ আমাকে চমকে দেবে না। বাবা দুই দিন থেকে আমি কিছুই খাইনি। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু আজও দেশ অনাহারি মুক্ত হলো না। পেলাম না আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ।
যখন পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে ভ্রমণে বা একাডেমিক প্রয়োজনে যাই। দেশটির চারদিকে তাকাই। বিস্ময়ে হতবাক হই। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার দেশ এ দেশের চেয়েও কত সুন্দর। আমার দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য স্মরণে গুনগুন করি-
সোনা সোনা রোদ পড়ে যে শুভ্র শিশিরে
কণা কণা হীরে ঝরে ঘাসের উপরে।

আনমনে হয়ে পড়ি। চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক প্রোজ্জ্ব¡¡ল, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের। যে দেশের কোথাও কোনো নোংরা আবর্জনা পড়ে থাকবে না। আবর্জনামুক্ত হবে দেশের প্রতিটি স্থান। আর পঙ্কিলতামুক্ত হবে প্রতিটি মানস ও হৃদয়। নির্মল হৃদয় আর আবর্জনামুক্ত দেশের তালিকায় অবস্থান করবে আমার বাংলাদেশ।
সময় অতিক্রান্ত হয়। ঋতু বদলায়। কিন্তু মানুষের মন বদলায় না। শুদ্ধাচারের সবকে কেউ পরিশুদ্ধ হতে চায় না। গরল আর জটিল চিন্তার বেড়াজাল হতে যেন বের হতে পারছি না। আন্তঃবিদ্রোহ, সঙ্কীর্ণ কলহ, পারস্পরিক বিদ্বেষ যেন সব দিক হতে আমাদের আটকে ফেলেছে। নিঃসন্দেহে আগামীর বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন দেশের নমুনা হিসেবে দাঁড় করাতে আমরা সবাই এগিয়ে আসব সর্বান্তকরণে। সোৎসাহে। ইতিহাসের পাঠ আমাকে এই সবক দিয়েছে সবার উপরে মানবতা সত্য তাহার উপরে নাই। মক্কার নির্যাতিত একদল মানুষ নিকটবর্তী শহর মদিনায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে তারা মদিনার সমাজে মিশে যায়। একই সাথে সংসার পাতে। তারা পরস্পরের ভাই ভাই হবার অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়। মদিনার অধিবাসীরা তাদের সম্পদের অর্ধেক মক্কার ভাইদের বিনা শর্তে নির্দ্বিধায় সমর্পণ করে। এমনকি যার একাধিক স্ত্রী ছিল সে তার প্রবাসী বন্ধুকে একটি স্ত্রী পর্যন্ত দিয়ে দেয়। সম্প্রীতির কী অনাবিল দৃশ্য!

এমন সম্প্রীতিভরা বাংলাদেশের স্বপ্নœ আমিও দেখি। দিন গুনি আর অপেক্ষা করি- কবে আসবে সম্প্রীতির সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আমাদের দেশের অভ্যন্তরে পারিবারিক কলহ, সামাজিক দ্বন্দ্ব, আদর্শিক দ্বন্দ্বের জেরে রক্তপাত, দলীয় সঙ্কীর্ণতায় ঘৃণ্য কাঁদা ছোড়াছুড়ি, প্রতিপক্ষের প্রাণ সংহারের ঘটনা পত্রিকায় নিত্য পাঠ করি তখন আমি অজানা বিমর্ষতায় মুষড়ে পড়ি। আত্মশুদ্ধির প্রার্থনা করি। রাষ্ট্রযন্ত্রের যথাযথ উদ্যোগ প্রত্যাশা করি যাতে সব বিবাদ বিসংবাদের দাফন রচনা করে সম্প্রীতির বীজ সমাজের সর্বত্র বপন করা যায়। আমাদের উদ্যোগেই নিশ্চয়ই আমরা একদিন এমন দেশের সাক্ষাৎ পাব।

এতটুকু আশা নামের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ছোটবেলায় দেখেছিলাম। ঐ চলচ্চিত্রে এক বিখ্যাত গান ছিল-
তুমি কি দেখেছ কভূ জীবনের পরাজয়
দুখের দহনে করুণ রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয়
প্রতিদিন কত খবর আসে কাগজের পাতা ভরে
জীবন পাতার কত খবর রয়ে যায় অগোচরে।
আজও বাংলাদেশের যে-কোনো জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকের বড় অংশজুড়েই থাকে নানাবিধ দুর্ঘটনা এবং অস্বস্তির সংবাদ। এসব সংবাদ দুর্ঘটনাকবলিত সামগ্রিক বাংলাদেশের এক খণ্ডিত চিত্র। সড়ক দুর্ঘটনা, বাস দুর্ঘটনা, নৌপথে নানান দুর্ঘটনা। আমাদের দেশে বিমান দুর্ঘটনা পরিমাণ এখনো অবশ্য অনেক কম। এসব দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক, অনিয়ন্ত্রিত গতি, ভাঙাচোরা রাস্তা এসব মিলে রাজপথে ও নৌপথে মৃত্যুর হানা দিন দিন বেড়েই চলছে। মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এমন মৃত্যু আমাদের সবারই অনাকাক্সিক্ষত। এ দৃশ্য আমাদেরকে পীড়া দেয় প্রতিনিয়ত। এমন দুর্ঘটনাপীড়িত বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই না। আমরা চাই দক্ষ চালকের নিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইনের অনুসরণ, প্রয়োজনীয় লেনযুক্ত, শব্দের দুষণমুক্ত এক স্বস্তির বাংলাদেশ। আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ।
ঊফঁপধঃরড়হ রং ধ নধপশনড়হব ড়ভ ধ হধঃরড়হ শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। দেশ তথা বিশ^কে শাসনের মূলমন্ত্র শিক্ষার উন্নয়ন ও উৎকর্ষ। জ্ঞান-বিজ্ঞান, গবেষণা, অধ্যায়ন, অনুধ্যান ব্যতীত বিশ^নেতৃত্বের হাল ধরা অসম্ভব। শিক্ষা, প্রযুক্তিতে দেশ অনেকখানি এগিয়েছে সত্যি। কিন্তু শিক্ষার উপলব্ধি ও প্রযুক্তির প্রকৃত বার্তা গ্রহণে আমরা এখনো সমর্থ হইনি। দেশে বিশ^মানের বিজ্ঞান গবেষণাগারের অপ্রতুলতা, গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, প্রাথমিক হতে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত নানান বন্ধ্যাত্ব, শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে লালফিতার দৌরাত্ম্য, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অপর্যাপ্ততা, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রাইভেট ও কোচিংয়ের উল্লম্ফন, শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণে অনীহা, কিশোরদের হাতে হাতে এন্ড্রয়েট ফোনের সহজলভ্যতা, শিক্ষাদান কর্মে নিয়োজিত শিক্ষকমণ্ডলীর শিক্ষাদানে অনীহা ইত্যাদি আমাদের দেশের শিক্ষা অচলায়তনের দেয়াল হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। আমরা স্বপ্ন দেখি শিক্ষাবান্ধব, গবেষণাপ্রবণ, বিজ্ঞানমনস্ক এক বাংলাদেশের। আমার স্বপ্নের বাংলাদেশে শিশু-কিশোররা লেখাপড়া করবে আনন্দ-বিনোদনে, বিজ্ঞানাগারে গবেষণা হবে বিশ^মানের। দুর্নীতির লেশমাত্র থাকবে না শিক্ষাক্রমের কোনো স্তরে।
এমন দেশের স্বপ্ন আমার, জ্ঞান বিজ্ঞানে সেরা সবার।

মানুষ মানুষের জন্য
জীবন জীবনের জন্য
একটু সহানুভূতি কি সে মানুষ পেতে পারে না?
মানুষের আরেক নাম মানব। মানবের কল্যাণে যা উৎসর্গিত বা নিবেদিত তাই মানবিক। মানবের অধিকার, মর্যাদা, সম্মান, ইজ্জত-আব্রু প্রভৃতি সুরক্ষা একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। একটি রাষ্ট্রে যখন কারো জীবন বা সম্ভ্রমের অধিকার বাধাগ্রস্ত হয় না, মর্যাদা লুণ্ঠিত হয় না, যেকোনো অবিচারের সুবিচার নিশ্চিত হয়, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যের যথাযথ প্রতিবিধান করা হয় তখন তা হয় মানবিক রাষ্ট্র। আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক দেশের যে দেশে নির্বিচারে মানুষ হত্যা হয় না, অকারণে বা বিনা কারণে কেউ গুম হয় না, দমন উদ্দেশ্যে যত্রতত্র মামলার মালা তার গলায় ঝুলানো হয় না। কোনো প্রাণ অনিরাপদ হয় না। অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে বিনষ্ট বা লুণ্ঠন করা হয় না। কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রতিহিংসামূলক আগুন জ¦ালিয়ে দেয়া হয় না। অর্থাৎ কোনো অমানবিক কাজই করা হয় না। এমন এক দেশের স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি এক মানবিক বাংলাদেশের।
আমি জন্মেছি এই দেশে। এই বাংলাদেশে। তাই এ দেশ আমার অহঙ্কার। আমার গর্বের প্রিয় ঠিকানা।
আমি নিজে ইচ্ছে করে কিংবা জোর করে এ দেশে জন্মগ্রহণ করিনি। বরং স্রষ্টা অনেক দয়া করে তার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমাকে এ দেশে পাঠিয়েছেন। সত্যিই আমি ধন্য। আমার এ দেশের জন্য।
আমার যত স্বপ্ন তার বড় অংশজুড়ে রয়েছে আমার প্রিয় মাতৃভূমি। বরং জন্মভূমিই আমার স্বপ্নের সবটুকু। জন্মভূমির অপদস্থতায় আমার মস্তক অবনত হয়। জন্মভূমির প্রশংসাকর্মে আমার বক্ষ স্ফীত হয়। আমি স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশকে নিয়ে সারাক্ষণ, প্রতিক্ষণ, যতক্ষণ জেগে থাকি ততক্ষণ কিংবা যতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকি ততক্ষণ।

আমি স্বপ্ন দেখি-
ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশের
দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের
নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশের
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের
দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশের
মুক্তবাক বাংলাদেশের
সবুজের সোনার বাংলাদেশের
বিজ্ঞানমনস্ক বাংলাদেশের
প্রযুক্তি পারঙ্গম বাংলাদেশের
নোবেল জয়ের ইতিহাস সৃষ্টিকারী বাংলাদেশের
অধিকার সুরক্ষার বাংলাদেশের
মতপ্রকাশের বাংলাদেশের
শুদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের
জ্ঞানালোকিত বাংলাদেশের
শিক্ষালোকিত বাংলাদেশের
জ্ঞানী-গুণীকে কদর দিতে জানা বাংলাদেশের
শে^ত শুভ্র বাংলাদেশের
প্রিয় বন্ধুরা, আসলে আমি স্বপ্ন দেখি-একটি মানবিক বাংলাদেশের। যে বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর আমি। আমরা। সবাই।
দেশপ্রেমিক সব মানবিক সত্তার সকাশে হেমন্তের একরাশ রৌদ্রকরোজ্জ্বল শুভেচ্ছা।