হেমন্তের গান
ইব্রাহিম জুয়েল
শরৎ শেষে নতুন ঋতু
আসলো আবার ফিরে
চাষির মুখে ফুটবে হাসি
ফসল কাটা ঘিরে।
হেমন্তের ঔ সকাল বেলায়
বইবে হাওয়া ধানে,
শিশির কণা খুশির জোয়ার
আনবে প্রাণে প্রাণে।
মুঠো মুঠো কাটবে ফসল
আদুল গায়ে চাষি,
বেলা শেষে বাড়ি নিবে
স্বপ্ন রাশিরাশি।
পুরো গাঁটা রঙিন হবে
সোনালি রঙ দিয়ে,
সেসব দেখে মনে হবে
হচ্ছে যেন বিয়ে।
নতুন ধানের নতুল চালের
খাবো হরেক পিঠা
মায়ের হাতে পায়েশ খেতে
লাগবে অনেক মিঠা।
খোকন সোনা
শাহীন পরদেশী
মুচকি হাসি খোকন সোনার
দাঁতগুলো সব বাঁকা
হচ্ছে মনে খাতার পাতায়
রঙ তুলিতে আঁকা।
কেওরা বেওরা দাঁতগুলো তার
ফাঁকা হয়ে থাকে
কেউ বা কিছু বললে খোকন
নালিশ করে মাকে।
কথাগুলো ভারি মজার
লাগে সবার ভালো
খোকন সোনার মিষ্টিমুখে
ছড়ায় সুভাস আলো।
পাখির মেলা
মো. তাইফুর রহমান
প্রকৃতিতে চেয়ে দেখি
কত সুখের আলো
কী আনন্দ পাখির মেলা!
লাগে ভীষণ ভালো।
নীল আকাশে উড়ছে পাখি
কিংবা গাছে গাছে
রং-বেরঙের পাখিগুলো
চারদিকে আছে।
চারিদিকে কিচিরমিচির
শুনি যখন কানে
সব কষ্ট বিদায় হয়ে
শান্তি জাগে প্রাণে।
প্রভাত বেলা মধুর সুরে
পাখিরা যে ডাকে
তিড়িং বিড়িং নাচে তারা
গাছের শাখে শাখে।
মনের সুখে বসায় মেলা
ওই যে ফুলের বনে
আমিও ভাই সখ্য গড়ি
পাখিদেরই সনে।
কিছু একটা করো
মাহমুদ হাসান ফাহিম
তুমি আছো মহা সুখে
আরাম করো ফোমে,
গাজার জমিন কাঁপছে শোনো
ইসরাইলির বোমে।
কেমন করে ঘুমাও তুমি
ওহে বীরের জাতি,
নিভু নিভু জ্বলছে দেখো
ফিলিস্তিনের বাতি।
অলসতা ঝেড়ে ফেল
এক আল্লাহকে স্মরো
ফিলিস্তিনের জন্য এবার
কিছু একটা করো।
শীত এসেছে
সরকার জাহিদুল ইসলাম
হেমন্তেরই ঝিম আকাশে
হিম জমেছে ওই
শীত এসেছে শীত এসেছে
বরণ-মালা কই।
খৈ-মুড়ি আর পিঠা-পুলি
ভাজতে হবে সব
শীতের বুড়ি চপচপিয়ে
খাবে যে গবগব।
আপ্যায়নের কমতি হলে
ধরতে পারে জিদ
কুয়াশারই ঝাঁপ নামিয়ে
বাড়িয়ে দেবে শীত।
শীত এসেছে শুনেই কাঁপে
আম কাঁঠালের পাতা
বের করো সব গরম কাপড়
লেপ-কম্বল-কাঁথা।
মেঘের খেলা
আবদুল লতিফ রেজা
নীল আকাশে মেঘের মেলা
সাদা কালো রঙিন ভেলা।
মেঘ আসে ঐ সুদূর হতে
সাগর পাড়ি দিয়ে
ঝড়ো হাওয়া পানির ধারা
বৃষ্টি বাদল নিয়ে।
এপার হতে ওপারে
চলে লুকোচুরি,
ইচ্ছে করে মেঘ মুলুকে
ঘুরি শুধুই ঘুরি।
ব্যাঙের সর্দি
জাবির আহম্মেদ জিহাদ
ফজর নামাজ পড়া শেষে
বাড়ির দিকে যাচ্ছি,
বলছে বদ্যি ব্যাঙের সর্দি
দিচ্ছে নাকি হাচ্ছি।
আজব খবর শুনে আমার
মাথা হলো নষ্ট,
ব্যাঙের আবার সর্দি হয় রে
একটু পেলাম কষ্ট।
ব্যাঙের জন্ম ব্যাঙের কর্ম
পানিতে হয় জানি,
কেমন করে লাগবে সর্দি
এটা ক্যামনে মানি!
পথ্যি সাহেব ব্যাঙের জন্য
চায়ের লিকার দিলেন,
মাছের ডিমের বড়া যেন
আপনি তাকে খিলেন।
বদ্যি মশাই ভালোভাবে
চিকিৎসা যে ধরলেন,
ব্যাঙের জীবন উজ্জ্বল তিনি
দারুণভাবে করলেন।
