আজ খুব ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে পড়ল মিতু। ওর মা তো রীতিমতো অবাক! তাইতো বলল, ‘কী ব্যাপার মিতু! কোথায় যাচ্ছো মা মনি? বাইরে প্রচণ্ড শীত, ঠাণ্ডা লাগবে তো।’
অবশেষে মিতু মায়ের পীড়াপীড়িতে কোনো রকমে সোয়েটারটা পরল। তারপর কোনো কথা না বলে বেলকুনিতে এসে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলল, ‘গুড মর্নিং বাবা। বাবা আমাকে এবার একটি নতুন শীতের পোশাক কিনে দিতে হবে।’
বাবা বলল, ‘কেন মা মনি তোমার গায়ের পোশাকটা তো খুব সুন্দর। তারপরও আরো একটি নতুন লাগবে কেন? আচ্ছা ঠিক আছে তারপরও তুমি যখন বলছ, আজকে অফিস থেকে ফেরার সময় কিনে নিয়ে আসব। কি খুশি তো?’
এবার বাবার গালে আদর করে চুমু বসিয়ে দিলো মিতু। তারপর কনকনে শীতে স্কুলে চলল সে। এদিকে ক্লাসে প্রবেশ করেই দেখল, ওর বন্ধু সুমনা কাঁপতে কাঁপতে ক্লাসে এলো। ওর পরনে কোনো শীতের পোশাক নেই। মিতু আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘এ কী সুমনা! তোমার শীতের পোশাক কোথায়?’
সুমনা বলল, ‘আমার শীতের পোশাক নেই বোন। তুমি হয়তো জানো না, আমার বাবা একজন দিনমজুর। সংসার চালাতেই হিমশিম খায়। কীভাবে দেবে আমাকে শীতের পোশাক। থাক ওটা তুমি বুঝবে না। কারণ তোমরা তো বড় লোক। তারপরও ভাগ্যিস যে লেখাপড়াটা অন্তত করতে পারছি। এখন ক্লাসে মন দাও, ম্যাম এসেছেন..।’
স্কুল থেকে আজ মন মরা হয়ে বাসায় ফিরল মিতু। কারো সাথে কোনো কথা বলছে না। এমনকি পড়াতেও ওর মন বসছে না। কারণ সে ভাবছে তার বান্ধবী সুমনার কথা।
এর মাঝেই বিকেলে ওর বাবা অফিস থেকে ফিরল। হাতে একটি শপিং ব্যাগ। একটি নতুন চকচকে সুন্দর শীতের পোশাক পরিয়ে দিলো মিতুকে। কিন্তু, মিতু একটুও হাসছে না। এটা দেখে ওর বাবা তো অবাক। ‘কী হয়েছে মা মনি! এটা তোমার পছন্দ হয়নি?’
মিতু বলল- পছন্দ হয়েছে বাবা। পোশাকটা খুব সুন্দর। আমার খুব পছন্দ হয়েছে। তবে জানো বাবা, আমার বান্ধবী সুমনার শীতের কোনো পোশাক নেই! ওরা খুব গরিব। তাই বলছিলাম কি, যদি অনুমতি দাও তাহলে আমার এই নতুন পোশাকটা সুমনাকে দিয়ে দেই বাবা।’
মেয়ের এমন সুপ্রস্তাবে বাবা বলল,’ বাহ! খুব সুন্দর কথা বলেছ মা মনি। চলো আমরা এখনি ওদের বাসায় যাবো। আর দাঁড়াও আমাদের বাসায় আরো পুরনো কিছু পোশাক আছে। চলো সেগুলোও নিয়ে যাই।’
যেমন ভাবনা তেমন কাজ। সোজা ওরা বাবা আর মেয়ে মিলে সুমনাদের বাসায় গেলো। সুমনা সন্ধ্যায় কনকনে শীতে প্রায় ছেঁড়া খোঁড়া একটি পাতলা পোশাক পরে আছে। শীতে কিছুটা কাঁপছে সে। কিন্তু আমি সুমনাকে পোশাকটা হাতে দিলে সে নিতেই চাইল না। আমার বাবাও বলল- নাও মা এটি তোমার জন্য উপহার! তবুও নিতে চাইল না সুমনা। এবার সুমনার মা বলল, ঠিক আছে মা উনারা যখন এত করে বলছেন নাও।
খুব লাজুক ভঙিতে পোশাকটি নিলো সুমনা।
বাকি পোশাকগুলো সুমনার মা-বাবার হাতে তুলে দিলেন মিতুর বাবা। সুমনার বাবা তো পোশাকগুলো পেয়ে খুশিতে কেঁদে ফেললেন। আর সেই কাঁদো কাঁদো চোখে কৃতজ্ঞতা জানালেন মিতু ও মিতুর বাবাকে। আনন্দে সুমনার চোখ থেকে ঝরে পড়ল দু’ফোঁটা অশ্রু। খুশিতে জড়িয়ে ধরল মিতুকে।
