গ্রামের উন্মুক্ত প্রান্তরে মুক্ত পরিবেশে ভোরের হিমেল হাওয়া কী যে ভালো লাগে। কর্মব্যস্ততার মাঝে একটু সময় পেলে গ্রামের সুন্দর নির্জন, শান্ত পরিবেশে হাঁটতে বের হই। আদিগন্ত ফসলের সবুজ-শ্যামল মাঠ। আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। কিচিরমিচির পাখির কলতান। চোখ যতদূর যায় সবুজের সমারোহ। ক্ষেতের আইল ধরে হেঁটে চলা কৃষক। ফুল-ফসলে ভরা গ্রামের এই সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করে। প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য আমাকে আপ্লুত করে। নেই কোনো কোলাহল, নেই শহরের মতো ধুলো-ধোঁয়ার কষ্ট। নেই গাড়ির হর্নের বিরক্তিকর শব্দ। যান্ত্রিক নগর-জীবনে সংস্কৃতির আগ্রাসনে গ্রামীণ সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের পরিবেশে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়া অনেক সহজ। কখনো ভোরে ফজর পড়ে। কখনো সন্ধ্যায় মাগরিবের আগে। ভোরের প্রকৃতির মাঝে একটু বেশি আনন্দ পাওয়া যায়। ভোরের মসৃণ বাতাস একটু বেশি শীতল। এই বাতাসের সুখস্পর্শ আমাকে আশ্চর্য রকম স্নিগ্ধ অনুভূতি দান করে! মনের অজান্তে তখন হারিয়ে যায়, জীবনের ফেলে আসা অতীতের সোনালি দিনগুলোতে। ভোরের লাল সূর্যের আলোতে সবুজ যেন আরো সতেজ! তাতে যেন প্রাণের আহ্বান! সন্ধ্যার বাতাসে কী যেন নেই! তবু যেন গাছের পাতার মর্মরধ্বনিতে শোনা যায় ওপারের সুর! পরম সত্তার অদৃশ্য তুলির আঁচড়ে আঁকা প্রকৃতির চিত্রগুলো দেখে সত্যিই মুগ্ধ হতে হয়।