টুকুদের বাড়ির পেছনে পুরোনো একটা খেজুর গাছ। এঁকেবেঁকে দোতলার জানালার কাছে চলে এসেছে। খেজুর গাছের গলায় মাটির একটি হাঁড়ি ঝুলানো। দিন রাত টুপটুপ করে রস পড়ে। টুকু শব্দ শুনতে পায়। জানালা দিয়ে তাকালে হাঁড়ির ভেতর রস দেখা যায়। টইটম্বুর। টুকু অনেকবার হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চেষ্টা করেছে। পারে না। তার হাত ছোট। নাগালে আসে না। কে যেন খেজুর গাছের গুঁড়িতে এক গাদা বরই কাঁটা রেখে গেছে। গাছে ওঠা যায় না। টুকু শুধু চোখ বড় বড় করে জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে।
টুকুর বন্ধু টগর। অত্যন্ত চালাক। পাড়ার গাছে ঢিল ছুড়ে পেয়ারা পাড়তে পারে। সে স্কুলে মুখ হাসি হাসি করে বলল, খেজুর রস খাওয়ার বুদ্ধি আছে। টুকু বলল, কী বুদ্ধি? বলা যাবে না। আমাকে তোদের বাড়ি নিয়ে চল! তুড়ি দিয়ে দেখিয়ে দিবো। দেখবি কেমন চাল চালি! টুকু স্কুল শেষ করে টগরকে বাড়ি নিয়ে আসল। টগর কোথায় থেকে যেন একটা পাটকাঠি সংগ্রহ করে বলল, এবার দেখ! কিভাবে বুদ্ধি খাটাই। টগর প্রথমে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে খেজুর গাছের দূরত্ব মেপে নিলো। তারপর পাটকাঠিটি সাইজ মতো ভেঙে এক মাথা হাঁড়ির ভেতর ঢুকিয়ে দিলো। অপর মাথায় টগর সুড়ুৎ করে টান দিতেই মিঠালো রস বের হয়ে এলো। টুকু দারুণ খুশি। সে ভাবতেও পারেনি এত সহজে খেজুর রস খাওয়া যাবে। টগর গর্বের ভঙ্গিতে বলল, দেখলি কেমন টেকনিক খাটালাম! সব মাথার খেলা। এগুলো আমার কাছে পানিভাত। টুকু বলল হুঁম, তুই খুব ভালো পারিস। তোর বুদ্ধি অনেক। তুলনা নেই।
টুকু এখন প্রতিদিন খেজুর রস খায়। তার মা জানে না। টুকুর মা যখন রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকে, তখন সে চুপিচুপি দোতলার জানালার কাছে উঠে আসে। তারপর পাটকাঠিতে সুড়ুৎ সুড়ুৎ করে টান দেয়। মিষ্টি রসে টুকুর জিহ্বা ভারী হয়ে আসে।
