মনের কোণে
উম্মুল খায়ের

মনের কোণে দাঁড়িয়ে আছে হেমন্তের সুখ
যেমন করে দোলে আলোয় সূর্যমুখী মুখ
যেমন করে জ্বলে জোনাক আঁধার রাতে খুব
তেমন করে মনের কোণে জাগে হলুদ রূপ।

শিশির মাখা হেমন্তময় সবুজ পাতা ওই
সর্ষে ফুল দেখে কেবল আকুল হয়ে রই
সুখের বায়ু ছুঁয়ে যাচ্ছে আনন্দ থইথই
নানা রকম ফুলের মাঝে স্বপ্নগুলো কই?

প্রজাপতির ডানায় আছে নীরব ভাষা লেখা
শত কথার পাতার বুকে নানা রকম রেখা
ফুলের সাথে, রেণুর সাথে ভাবের ছবি আঁকা
ওই আকাশে চাঁদের হাসি তাই কি এত বাঁকা?

 

সোনার দেশ
শামীম শাহাবুদ্দীন

ফুল ফসলে ভরা ও ভাই আমার দেশের মাটি
গ্রামগুলো তার ছবির মতো বড়ই পরিপাটি।
সাতসকালে ভেসে আসে পাখির কলতান
মুয়াজ্জিনের আজান শুনে জুড়িয়ে যায় প্রাণ।

ভরদুপুরে দুষ্টু ছেলে পুকুরে দেয় ডুব
মাছের পোনা ভয়ের চোটে এক্কেবারে চুপ!
বিকেলবেলা সদলবলে খেলতে চলে মাঠে
সন্ধ্যে হলেই নামাজ পড়ে দেয় মনোযোগ পাঠে।

হরেক রকম ফুলের সুবাস দোল দিয়ে যায় প্রাণে
মন চলে যায় রাখাল ছেলের বাঁশির সুরের টানে।
গাঁয়ের মেয়ে কলসি কাঁখে নদীতে যায় স্নানে
পাখপাখালি রূপের তারিফ করছে গানে গানে।

সকল দেশের চাইতে সেরা আমার এ দেশ ভাই
ছয় ঋতুর এই রূপের বাহার আর কোথাও নাই।

 

সোনার বাংলাদেশ
সরোয়ার রানা

স্বাধীন দেশের মানচিত্র
রক্ত দিয়ে আঁকা
স্বাধীনতার সূর্যটাকে
যায় না রেখে ঢাকা।

কয়েক যুগের অত্যাচারে
হাঁপিয়ে ওঠে জাতি
বীর সেনানী পোষ মানালো
হিংস্র মত্ত হাতি।

নয়টি মাসের যুদ্ধ শেষে
ষোল-ই ডিসেম্বর
মাকে দিলো স্বাধীন দেশে
সাধের আপন ঘর।

জাতি পেলো স্বাধীনতা
মুক্ত স্বাধীন দেশ
অধীনতার শিকল ভেঙে
সোনার বাংলাদেশ।


মুক্তি এলো
জয়নব জোনাকি

মিত্রবেশী দালালগুলো
সাজলো যখন গুরু,
স্বৈরাচারী শাসন শোষণ
জুলুম হলো শুরু।

বুটের তলায় মারছে ওরা
বাঙালিদের পিষে,
মজলুমেরা জানত না কেউ
দোষ ছিল কার, কীসে!

অত্যাচারে জনজীবন
উঠল যখন ফুঁসে,
স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন তখন
সবাই মনে পুষে।

জয়ের নেশায় যুবক-তরুণ
ঝাঁপ দিলো তাই রণে,
গ্রেনেড-বোমার বিকট আওয়াজ
উঠলো ক্ষণে, ক্ষণে।

দীর্ঘ ন’মাস যুদ্ধ করে
মুক্তি এলো শেষে,
স্বাধীনতার উড়লো নিশান
লাল-সবুজের দেশে।

 


মুক্তি এলো
জয়নব জোনাকি

মিত্রবেশী দালালগুলো
সাজলো যখন গুরু,
স্বৈরাচারী শাসন শোষণ
জুলুম হলো শুরু।

বুটের তলায় মারছে ওরা
বাঙালিদের পিষে,
মজলুমেরা জানত না কেউ
দোষ ছিল কার, কীসে!

অত্যাচারে জনজীবন
উঠল যখন ফুঁসে,
স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন তখন
সবাই মনে পুষে।

জয়ের নেশায় যুবক-তরুণ
ঝাঁপ দিলো তাই রণে,
গ্রেনেড-বোমার বিকট আওয়াজ
উঠলো ক্ষণে, ক্ষণে।

দীর্ঘ ন’মাস যুদ্ধ করে
মুক্তি এলো শেষে,
স্বাধীনতার উড়লো নিশান
লাল-সবুজের দেশে।

 

বিজয়
দিদারুল ইসলাম

বিজয়, বিজয়
নাই কোনো ভয়
গাই জনে জনে,
বিজয়ের মাস
করি উল্লাস
পুলকিত মনে।

এ দেশের তরে
জান বাজি ধরে
খেটেছেন রণে,
ভুলিবার নয়
তাঁরা অক্ষয়
অম্লান মনে।

বাংলাদেশের
লাল সবুজের
শোভিত নিশান,
পত পত উড়ে
আছে মনজুড়ে
করি সম্মান।

 


বিজয় বিজয়
জান্নাত মিমি

বিজয় বিজয় বলছে ডেকে
সকাল বেলার পাখি
লাল সবুজের নতুন সকাল
খুলে দিলো আঁখি।

বিজয় বিজয় খুশির হিড়িক
বাংলা ঘরে ঘরে
রক্তে ভেজা বিজয় পেলাম
ষোল-ই ডিসেম্বরে।

বিজয় বিজয় স্বাধীন দেশে
মুক্ত হাওয়ায় ভাসি
বিজয় বিজয় ছোট শিশুর
মুখের অবুঝ হাসি।

বিজয় বিজয় আনতে বিজয়
শহীদ হলেন যারা
বাংলাদেশের ইতিহাসে
চির অম্লান তারা।

 


স্বাধীন পতাকা
মো. নিজাম গাজী

স্বাধীন পতাকা স্বাধীন দেশে,
উড়বে সে তো বীরের বেশে
পত পত করবে মিলে মিশে,
বাধা দেবে এমন কে সে?

রক্ত দিয়ে শক্ত করে বাঁধা,
ধ্বংস করবে এমন কে সে গাধা?
রক্ত আধা, সবুজ আধা,
প্রেমের সুতোয় সে তো বাঁধা।
সাক্ষী থাকিস মহাকাল,
উড়বে নিশান চিরকাল।