বাগানে বাগানে ঘুরে নিলু কিছু খড়ি জোগাড় করল, উনুন জ্বালাবার মতো কিছু নেই বাড়িতে।
চৌধুরী বাড়িতে সারা দিন খাটেন নিলুর মা, খড়ি জোগাড় করার মতো সময়টুকু নেই তার সাত বছর বয়সের নিলু লেখাপড়া করার সময় এখন ওর সেটা বাদ দিয়ে সারা দিন খড়ি কুড়ানো নিয়ে ব্যস্ত, না কুড়ালেও তো ভাত জুটবে না কপালে।
বাবা মারা গেছে নিলুর জন্মের পর কত কষ্ট করেই মানুষের বাড়ি কাজ করে দিন পার করেছেন নিলুর মা।
কোনো দিন শুধু পানি খেয়েই কেটেছে সারা রাত।
শীত পড়ছে খুব চারিদিকে ঘন কুয়াশা নিলু মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে বলে
মা তোমারে একটা কতা কমু রাগ করবা না তো?
নিলুর মা নিলুর মাথায় স্নেহের হাত রেখে বললেন কি কইবা সোনা?
কইয়া ফেলাও,
কত দিন হইল পিডা খাই না
আমারে ভাপা পিডা খাওয়াইবা মা?
আমারো তোরে খাওয়াইতে মন চায় তয় গুড় পাডালির যে দাম বাড়ছে কেমনে খাওয়ামু,
দেহি কী করা যায়।
নিলু সাবধানে থাইক সোনা আমি কামে গেলাম, দেরি হইলে চৌধুরী গিন্নি আবার রাগ করব।
নিলুর মা আজকে ভাপা পিঠা বানাতে হবে নারকেলগুলো কুরে ফেল আমি সব গুছিয়ে আনছি আমার ছেলের বাড়িতে এসেছে ওর ভাপা পিঠা খুব পছন্দ বললেন চৌধুরী গিন্নি।
সব গুছিয়ে পিঠা বানানো শুরু করলেন নিলুর মা, পিঠা বানায় আর চোখের জল টপটপ করে গাল বেয়ে পড়ে, হঠাৎ চৌধুরী গিন্নি বলে উঠে- হলো নাকি বানানো গরম গরম খাবে ছেলেটা।
হ্যাঁ আটখানা হইছে গিন্নি মা নিয়া যান।
শোন নিলুর মা যাওয়ার সময় নিলুর জন্য চারখানা পিঠা নিয়ে যেতে ভুলিস না যেন।
কাজ শেষ করে আঁচলে চারখানা পিঠা বেঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন নিলুর মা।
নিলু দৌড়ে এসে বলল মা- মাগো
আজকে অনেক খড়ি কুড়াইছি পিডা বানাইতে তো অনেক খড়ি লাগব।
আঁচল থেকে পিঠা বের করে নিলুর সামনে রাখলেন। মা পিডা কই পাইলা?
চৌধুরী গিন্নি দিছে হাত ধুইয়া খাইয়া লও সোনা।
নিলু পিঠা খায় আর বলে মা অনেক মজা হইছে, চৌধুরী গিন্নি খুব ভালা মানুষ, আমগো মতো গরিবদের তো পিডা বানাইয়া খাওন হয় না মন খাইবার চাইলেও পারি না কয়জনে বুঝে আমগো দরদ।
মন ভইরা খাইলাম মা দোয়া করি চৌধুরী গিন্নির মতো এমন দয়ার শরীর যেন সক্কলের হয়, যাতে আমগো মতো গরিবদের পাশে এমন কইরা দাঁড়াইবার পারে।
সকলে যদি বুঝতো মা তয় আমগো মতো গরিবদের আর কষ্ট থাকত না।