সাপ রহস্য
আকিব শিকদার
ঘাবড়ে গেলেন উকিল সাহেব আলমারিটা খুলে
শঙ্খিনী সাপ দুলছে বুঝি মস্ত ফণা তুলে।
কোটের ওপর আবছা আলোয় ঘুরছে একটা উলস
জলজ্যান্ত সাপই হবে! নাকি সাপের খোলস!
চিৎকারে তাই ঘর কাঁপালেন বিজ্ঞ উকিল সাব
কাঁপতে কাঁপতে জ্ঞান হারাবেন, এমন একটা ভাব।
বাড়ির মানুষ ভিড় জমালো বিষয়টা কি চেখতে
নতুন কেনা টাই-টা যে তার সাপের মতোই দেখতে।
শীত পড়েছে শীত
মাহমুদ নাঈম
শীত পড়েছে শীত;
হিম কুয়াশায় বন্দী রবি
শীত কাহনে কাঁপছে সবই
খোকার মনে ভীত।
গরম কাপড় নাই!
পথের মাঝে ঘুমায় শিশু
কেমন কাটে দিবা নিশু
ভয় ধরেছে তায়।
অসুখ যদি হয় !
কেমন করে বাঁচবে ওরা
সবার কাছে হেলায় হুড়া
আপন কেউ তো নয়।
এসো খবর নিই ;
কেমন আছে শীতল রাতে
সাধ্য মতো তাদের হাতে
উষ্ণ পোশাক দিই।
মুনতু সোনা
জয়নব জোনাকি
মা বলে ও মুনতু সোনা ভোর হয়েছে ওঠো
ওজু করে নামাজ পড়ে মক্তবেতে ছোটো...
সুবাসিত পাপড়ি মেলে ফুলের মতো ফোটো।
দেখ, দেখ, বাগানে সব ফুল ফুটেছে
পাক-পাখালি প্রজাপতির দল ছুটেছে
ভোরের আভায় রাতের চোখের নিদ টুটেছে
ফেরেশতাদের সালাম সালাম রব উঠেছে।
আজকে আমি উঠবো না মা দিচ্ছি বলে শোনো,
যতই বলো গল্প কথা শুনবো না আজ কোনো।
তুমিও ঘুমাও নয়তো বসে-শীতলপাটি বোনো।
মায়ের ডাকে মুনতু সোনা দিচ্ছে না আর সাড়া,
ধৈর্য ধরে মা তবুও ডেকে ডেকেই সারা...
কিচিরমিচির পাখির গানে-মুখরিত পাড়া॥
ওই যে শোনো মুয়াজ্জিনে আজান দিয়েছে
সুরে সুরে মুমিন হৃদয় কেড়ে নিয়েছে,
এখনো কি আলসে করে থাকবে তুমি ঘুমে?
থাকবে বিভোর অভিশপ্ত আজাজিলের চুমে?
এইতো এবার উঠছি আমি তাকিয়ে দেখো মা
আজ থেকে আর তোমার কথা অমান্য করব না॥
তোমার আদেশ না মানলে মা, আল্লাহ দিবেন গোনাহ।
ইচ্ছে করে করবো না আর ফরজ নামাজ কাজা,
চাই না পেতে পরকালে জাহান্নামের সাজা,
রবের হুকুম পালন করে করবো ঈমান তাজা।
শীতের কাঁপন
জান্নাত মিমি
কাঁপছে শীতে খোকা-খুকু
কাঁপছে শীতে দাদু
কাঁপছে শীতে মা ও বাবা
কাঁপছে বিড়াল জাদু।
কনকনে শীত ঠাণ্ডা হাওয়া
কাঁপছে ডালে পাখি
সকাল গড়ায় সূর্য মামার
খুলে না তো আঁখি।
দিন চলে যায় চাদর গায়ে
পাই না রোদের ছোঁয়া
এমন শীতে খেতে মজা
মায়ের হাতের মোয়া।
আরো মজা দাদুর হাতের
ভাপা, চিতই পিঠা
খেজুর রসের পায়েস খেতে
লাগে অনেক মিঠা।
গোসল করলে শরীর যেনো
কাঁপছে থরোথর
হাড় কাঁপানো শীত পড়েছে
যায় না ছাড়া ঘর।
