শৈশব ও কৈশোরের বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি শিশু, কিশোর ও বড়দের জন্য অনন্য সব লেখা লিখেছেন
শিশু সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্স ৭ ফেব্রুয়ারি ১৮১২ সালে ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভিক্টোরিয়ান যুগের অন্যতম সেরা সাহিত্যিক ছিলেন। তার বাবার নাম জন ডিকেন্স এবং মা এলিজাবেথ বারো ডিকেন্স। চার্লস ডিকেন্স তার বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। তার বাবা ছিলেন খুব গরিব ও ঋণগ্রস্ত। ফলে মাত্র ১২ বছর বয়সে চার্লস ডিকেন্সকে একটি জুতো রঙ করার দোকানে চাকরি নিতে হয়। তিনি ছিলেন পেশাদার লেখক। কিন্তু লেখালেখি ছাড়াও তিনি চিত্রকর, সমালোচক, সাংবাদিক ও আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি শিশুদের জন্য অনেক উপন্যাস লিখেছেন। চার্লস ডিকেন্সের এসব শিশুতোষ ক্লাসিক উপন্যাস বিশ্বজুড়ে শিশুদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। সম্ভবত তার মতো জনপ্রিয় শিশু, কিশোর সাহিত্যিক সারা বিশ্বে আরেকজনও নেই। শিশু কিশোরদের জন্য লেখা তার জনপ্রিয় উপন্যাসগুলো হচ্ছে : ডেভিড কপারফিল্ড, গ্রেট এক্সপেক্টেশন, অলিভার টুইস্ট, অ্যা টেল অভ টু সিটিজ, পিক উইক পেপার্স, নিকোলাস নিকলবি, অ্যা ক্রিসমাস ক্যারল ব্লিক হাউস, লিটল ডরিথ প্রভৃতি। চার্লস ডিকেন্সের এই অতি জনপ্রিয় উপন্যাসগুলো সারা বিশ্বের শিশুদের জন্য বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ও শিশু উপযোগী করে রূপান্তরিত হয়েছে। চার্লস ডিকেন্সের লেখাগুলো ছাড়া বৈশ্বিক ক্লাসিক শিশুসাহিত্য কল্পনাও করা যায় না। তিনি ১৮৩৬ সালে ক্যাথরিন থমসন হগার্থকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির ১২ জন সন্তান জন্ম লাভ করে। চার্লস ডিকেন্সের অ্যা টেল অভ টু সিটিজ উপন্যাসটি ঐতিহাসিক ফরাসি বিপ্লবের পটভূমিতে লেখা। সে সময়ের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অভাব, অভিযোগ, দুঃখ, কষ্ট, না খেয়ে থাকার যন্ত্রণা, তৎকালীন রাজাদের অত্যাচার, সাধারণ মানুষের রাজদ্রোহী মনোভাব ও অভিশপ্ত বাস্তিল দুর্গের কাহিনী রয়েছে এই মূল্যবান বইটিতে। রয়েছে ১৭৯৩ সালের ঐতিহাসিক ফরাসি বিপ্লবের কাহিনি। সে সময় সাধারণ জনগণ ছরতার মতো দেখতে গিলোটিন নামক অস্ত্র দিয়ে রাজা চতুর্দশ লুই ও অন্যান্য অত্যাচারী রাজপুরুষদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। অ্যা টেল অভ টু সিটিজ উপন্যাসটি সেইসব ঘটনার মহামূল্যবান দলিল। চার্লস ডিকেন্সের অলিভার টুইস্ট, ডেভিড কপারফিল্ড ও গ্রেট এক্সপেক্টেশন উপন্যাসে কিশোর ছেলেদের সংগ্রামী জীবনের কাহিনি বিধৃত হয়েছে। গরিব ও অসহায় শিশু কিকোরো ঘাত-প্রতিঘাতে কিভাবে নিজেদের বড় হওয়ার স্বপ্নকে সফল করে এসব উপন্যাসের পাতায় পাতায় রয়েছে সেইসব রোমাঞ্চকর কাহিনি। অ্যা ক্রিসমাস ক্যারল বড়দিনের পটভূমিতে লেখা আর একটি চমৎকার উপন্যাস। তার রচিত দ্যা পিক উইক পেপার্স একটি ব্যঙ্গ রসাত্মক রচনা। এই লেখা প্রকাশের মাধ্যমেই তিনি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। জীবনে লেখালেখি করে প্রচুর আয় করা সত্ত্বেও বেহিসেবি খরচের জন্য তাকে নানান ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর সেরা এই লেখক ১৮৭০ সালের ৯ জুন মৃত্যুবরণ করেন। পোয়েটস কর্ণার, ওয়েষ্ট মিনিস্টার অ্যাবেতে তাকে সমাহিত করা হয়। শৈশব ও কৈশোরের বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি শিশু, কিশোর ও বড়দের জন্য অনন্য সব লেখা লিখেছেন। তার লেখা কিশোর ক্লাসিকগুলো সারা বিশ্বের শিশু-কিশোরদের ভালোবাসা নিয়ে বিশ্বসাহিত্যে অমর হয়ে থাকবে।
