রবি গ্রামের ছেলে, মা-বাবার সাথে গ্রামে থাকে। গ্রামের একটি প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়ে। তার বাবা গ্রামের জমিতে চাষাবাদ করেন। রবি খুব সহজ সরল, গ্রামের ছেলেমেয়েদের সাথে বেড়ে ওঠা। বিকেল হলে খেলার মাঠে গিয়ে গোল্লাছুট, বদন, ডাঙ্গুলি এগুলো খেলে তার বিকেল খুব আনন্দে কাটে। লেখাপড়ায় খুব ভালো, রবির মামাতো ভাই শিমুল ঢাকা থাকে। রবি কোনো দিন ঢাকা শহরে যায়নি। রবির অনেক ইচ্ছে ঢাকা শহর দেখার, তাই বাবা-মায়ের কাছে বায়না ধরে সামনে স্কুল ছুটি ঢাকা শহরে মামার বাড়ি বেড়াতে যাবে। রবির বাবা বলে, আচ্ছা ঠিক আছে, স্কুল ছুটি হলে তারা বেড়াতে যাবে। কিছু দিন পরে রবির স্কুল ছুটি হয়ে গেল। রবি তার মা-বাবার সাথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলো। রবিরা যাচ্ছি ট্রেনে করে মনে মনে ভাবে রবি, ঢাকা শহর অনেক সুন্দর হবে হয়তো, তাদের গ্রামের মতো চার দিকে গাছপালা, সবুজের মাঠ, ছোট্ট ছোট্ট পুকুর, সরিষা ফুলের গন্ধে হয়তো ম ম করবে ঢাকা শহর রবির মনের মতো। রবি ট্রেনের জানালার কাছে বসে দেখছিল যতই শহরের দিকে ট্রেন যাচ্ছে গাছপালাগুলো রবিদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। রবি খুব অবাক হলো তার কারণ এর আগে কখনোই ট্রেনে ওঠেনি। আরো অবাক হলো যত শহরের দিকে যাচ্ছে ততই যেন সবুজের মাঠ, গাছপালাগুলো কমে যাচ্ছে, একটা সময় ঢাকা পৌঁছে যায় রবিরা। গিয়ে দেখে আগে থেকেই তার মামা তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। রবি তার মামাকে সালাম দিয়ে বলল, মামা কেমন আছেন? রবির মামা বলে, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, চলো বাসায় যাই, পরে সবাই রবির মামার বাসায় গেল। বাসায় গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে কিছু খাওয়া দাওয়া করে নিলো। রবি আরেকটি জিনিস ভেবে অবাক হলো, অনেকক্ষণ হয়ে গেল তারা বাসায় এসেছে কিন্তু এখন পর্যন্ত শিমুলের সাথে দেখা হলো না, আর তাকে দেখাও যাচ্ছে না। পরে রবি তার মামা জিজ্ঞেস করে, মামা শিমুলকে দেখছি না, কোথায় গেছে? ওর মামা বলে- দেখ মনে হয় ওর ঘরেই আছে। রবি নিজেই শিমুলের ঘরে গেল, গিয়ে দেখে শিমুল একটি মোবাইল নিয়ে কী যেন করছে! রবি বলে, কী রে শিমুল কেমন আছিস? অনেকক্ষণ হলো এসেছি, তোর কোনো দেখাই নেই? শিমুল একবার তাকিয়ে বলে- ভালো আছি। বলেই আবার মোবাইলের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা করতে থাকে। যেন মনে হচ্ছে খুব একটা জরুরি কাজ করছে, কথা বলার সময়ই যেন নেই তার হাতে। রবি আর বেশি কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। ওর মামা বলে, কিরে দেখা হলো শিমুলের সাথে? রবি বলে, হ্যাঁ মামা দেখা হয়েছে, কিন্তু শিমুল মোবাইলে মনে হয় জরুরি কোনো কাজ করছে। ওর মামা বলে, না রবি শিমুল জরুরি কোনো কাজ করছে না, সে মোবাইলে গেম খেলছে। সারাক্ষণই সে মোবাইলে গেমস খেলে আমরা কোনোভাবেই এটি বন্ধ করতে পারছি না, কী করব বুঝতে পারছি না! খাওয়া দাওয়ার ঠিক নেই, ঘুমের ঠিক নেই, কারো সাথে ঠিকমতো কথা বলে না, হাসে না- শুধু মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। রবি সবটা শুনে ভীষণ অবাক হলো, পরে রবি তার মামাকে বলে- মামা শিমুল মাঠে খেলতে যায় না? ওর মামা বলে না, শিমুল কারো সাথে তেমন মিশেও না। আর এখানে তেমন কোনো খেলার মাঠ ও নেই। চার দিকে শুধু বিল্ডিং আর বিল্ডিং, কোথাও মাটি নেই। রবি বলে, মামা তাহলে গাছপালা কোনো কিছুই নেই? মামা বলে, না। পরে রবি তার বাবা-মাকে গিয়ে সবটা খুলে বলে।
সবটা শুনে রবির বাবা-মাও খুব অবাক হয়। ভেবে দেখে শিমুল এমনভাবে চলতে থাকলে তো শিমুলের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে, সবটা ভেবে রবির বাবা শিমুলের বাবার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়- শিমুলকে তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাবে। পরে কয়েক দিন পরে শিমুলকে বুঝিয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। শিমুল গ্রামের সবুজ মাঠ গাছপালা দেখে অবাক হয়ে গেল। রবিকে বলে, আমি এর আগে এত সুন্দর পরিবেশ কখনো দেখিনি। বিকেল বেলা রবি শিমুলকে সাথে নিয়ে মাঠে খেলতে গেল, শিমুল গ্রামের ছেলেমেয়েদের সাথে গোল্লাছুট, বদন, ডাঙ্গুলি খেলল। শিমুল বলে, এত সুন্দর আর এত আনন্দের খেলা কখনোই খেলিনি, খুব খুশি হয়ে গেল। আর গ্রামের পরিবেশে থাকতে থাকতে ধীরে ধীরে মোবাইল ছেড়ে দিলো, আর সবার সাথে হাসিখুশি হয়ে চলতে লাগল।
রবি গ্রামের ছেলে, মা-বাবার সাথে গ্রামে থাকে। গ্রামের একটি প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়ে। তার বাবা গ্রামের জমিতে চাষাবাদ করেন। রবি খুব সহজ সরল, গ্রামের...
