তালগোল
সাদমান হাফিজ শুভ

এথা-সেথা মাঠ-ঘাট দিনে দিনে কমছে
খেলা আর বিনোদন মোবাইলে জমছে।
খাল-বিল-সরোবর ক্রমশই ভরছে,
চিরচেনা পল্লী খুব মনে পড়ছে।
গাছপালা নিধনে নানা জট বাঁধছে,
অসহায় পরিবেশ ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে।
বিহগের কল্লোল ধীরে ধীরে কমছে,
সজল এই মনেতে ঘন ব্যথা জমছে।
মিহিরের আঘাতে দেহে ব্যথা লাগছে,
অনিলের নীড় হতে বিমলতা ভাগছে।
ফণা ধরে অর্ণব জনপদে ঢুকছে,
ঘর-বাড়ি, নদীতট তটিনীতে ঝুঁকছে।
রোগ-শোকে লোকজন হাহাকার করছে,
অনাহার যাতনায় পশুরা মরছে।
শান্তিরা নিদ্রায় ভ্রান্তিরা জাগছে,
মাথা শুধু ঘুরছে তালগোল পাকছে।

 

রঙিন ছাতা
রোমানুর রোমান

হাতির মাথায় রঙিন ছাতা
আকাশ পানে তুললো শুঁড়
থপাস থপাস হাঁটতে থাকে
খায় না ছোলা মুড়ি গুড়।

বেশ ভূষণে রাজার মতো
রব উঠেছে বনে রব,
তাই করেছে মাথা নত
বনের পশুপাখি সব।

করছে তারা খাতির যত্ন
দিচ্ছে এনে কলার গাছ,
খাচ্ছে ভীষণ আরাম করে
দেখছে রাজা বানর নাচ।

হাতির নাতি আলোর বাতি
শিখছে হাঁটা-চলা আর
শিখছে নিয়মনীতি বলেই
ভবিষ্যতের রাজ্য তার।

 

সেই থেকে শুরু
কবির মাহমুদ

একুশ ভোরের রৌদ্র মিছিল
একুশ রাঙা সে পথ পিচ্ছিল।
একুশ ফাগুন রঞ্জিত পথ লাল
একুশ আগুন বায়ান্ন সেই সাল।
একুশ দাদার
একুশ বাবার
একুশ তোমার
একুশ আমার
একুশ মায়ের
একুশ শিশুর
একুশ কিশোর
একুশ সবার
একুশ আবার একাত্তরের যুদ্ধ সূচনার
একুশ হাসে শিমুল ঘ্রাণে
একুশ ভাসে সবুজ প্রাণে।
এই একুশই দাঁড় করেছে হাল ধরেছে আর
একুশ থেকেই সেই সে শুরু প্রিয় স্বাধীনতার।

 

ছেলেবেলা
মুজাহিদ আল কারিম

উড়তে পারা রঙিন ঘুড়ি
সদ্যফোটা ফুলের কুঁড়ি
কেমন আছে কোথায় আছে আমার বাংলা বই
আহা আমার ছেলেবেলা কই হারাল কই!

বাঁশের কচি পাতার বাঁশি
এই আমাদের নিটোল হাসি
কোথায় আমার ইচিং বিচিং গোল্লাছুটের সই
আহা আমার ছেলেবেলা কই হারাল কই!

সবাই মিলে চড়ুইভাতি
খেলাধুলায় মাতামাতি
খুব করে আজ মন বলে যে ছোট্টটি ফের হই
আহা আমার ছেলেবেলা কই হারাল কই!

গল্প হতো মুক্তমনে
ফুলের সনে পাখির সনে
এখন শুধু ব্যস্ততা আর অযথা হইচই
আহা আমার ছেলেবেলা কই হারাল কই!

 

নিমন্ত্রণ
রুবেল মাহমুদ

আমি থাকি ছনের ঘরে ভেঙে গেছে তার দোর
পাখির ডাকে আঁখি খুলে দেখি নতুন ভোর ।
ইট পাথরের নেইতো বাড়ি আছে ছোট্ট কুটির
চাইলে কেহ আসতে পারো নাস্তা দেবো রুটির।

বসতে দেবো বাঁশের মাচায় কাঁঠাল গাছের তলে
পেটের ক্ষুধা মিটিয়ে দেবো আম আনারস ফলে।
কাঁচা আমের ভর্তা দেবো হাতের তালু ভরে
মাঝ কপালের ঘামের ফোঁটা যাবে তোমার ঝরে।

হাঁটতে দেবো মেঠো পথে লাগবে ধূলি পায়ে
শহরের ঐ পিচ ঢালা পথ নেইতো আমার গাঁয়ে।
বাঁশের বাঁশীর সুর শুনাবো রাখাল ছেলের ঠোঁটে
বিল দেখাবো ঝিল দেখাবো শাপলা যখন ফোটে।

প্রজাপতির ঢং দেখাবো গোলাপ জবা ফুলে
আমার সবুজ গ্রাম দেখাবো মনের দুয়ার খুলে ।
গ্রামের মানুষ তাই বলে কি বাসবে না কেউ ভালো
আমি মানুষ তুমি মানুষ রংটা শাদা কালো!

আমার দেওয়া নিমন্ত্রণে কেউবা আসো যদি
বুকের ভেতর বয়ে যাবে একটা সুখের নদী...!