সাধারণত পাহাড়ি এলাকা তথা গ্রামাঞ্চলে সন্ধ্যা নামতেই রাত নেমে আসে। চার দিক সুনসান নিরবতা বিরাজ করে। রাত ৮টা বাজতেই সকলে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়। পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যা নামার দৃশ্যটা খুব মনোহর। পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে পড়া সূর্যটা জানান দেয় সন্ধ্যা শেষ হয়ে এলো। অন্যদিকে এতক্ষণ আবছা আবছা উপস্থিতি জানান দেয়া চাঁদটা ধীরে ধীরে ফুটে উঠে। চাঁদের নীলাভ মিটিমিটি আলোয় পাহাড়ের প্রকৃতি যেন হেসে উঠে। সরু পথের দুধারে লতাপাতা, নাম না কোনো ওষুধি বৃক্ষের তাজা ঘ্রাণ ভেসে আসে। পাহাড়ের শীতল বাতাস গায়ে অদ্ভুত পরশ বুলিয়ে দেয়। পাহাড়ের সরু পথ চলতে চলতে শহুরে জীবের মনে অজানা ভয় এবং আনন্দময় অনুভূতি জেগে উঠে। তবুও পথ চলার আনন্দ শেষ হয় না। পাহাড়ি উঁচু নিচু পথ চলতে চলতে চন্দ্রবিলাস কিন্তু মন্দ নয়।

রাত যত গভীর হয় দূরের পাহাড়ি মুরা (জঙ্গল) থেকে ভেসে আসে শেয়ালের আর্তনাদ, নাম না জানা প্রাণীর হাঁক ডাক। মাঝে মধ্যে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা উঁচু বৃক্ষরাজি ও দমকা হাওয়ায় নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দেয়। পাহাড়কে আলিঙ্গন করে নেমে আসা ছরার (ঝিরি) কলকল শব্দ কানে অদ্ভুত সুর সৃষ্টি করে। ঝিরি স্বচ্ছ পানিতে চাঁদের আলোর প্রতিফলন মনের কুঞ্জে কাব্যিকতা ছড়ায়। কখনো অন্ধকারে ঝিঁঝিঁ পোকারা প্রাকৃতিক ঝালর বাতি তৈরি করে। দূরের জঙ্গলের পাহাড়ি ঘ্রাণ মনে আলাদা পাহাড়ি ছাপ তৈরি। আলাদা এই ঘ্রাণ। পথ চলতে এই ঘ্রাণ নাকে এলে বুঝে নিই আমরা পাহাড়ে চলে এসেছি। পাহাড়ি জনপদে আমাদের পদচিহ্ন পড়ছে। দূরের পাহাড়গুলোর পেছনে লুকোচুরি খেলছে পথচলার সঙ্গী চাঁদটা। আর ক্রমেই নীরব হয়ে পড়ছে পরিবেশ। শীতল হাওয়ায় প্রশান্ত হচ্ছে মন। কারো মন উদাস হয়ে পড়ে এই পরিবেশে।
পাহাড়ে রাতের আকাশ বেশ স্বচ্ছ। এখানে বায়ু দূষণ কম। যার কারণে আকাশে চাঁদের পাশে তারাগুলোর ঝিকিমিকি উপভোগ করা যায়। রাত যত গভীর হয় পাহাড়ি পরিবেশ তত ঠাণ্ডা হতে থাকে। মাটির নিচে যেন কেউ বরফ বসিয়ে দিয়েছে। রাতের ঠাণ্ডা পরিবেশ অপূর্ব প্রশান্তি সৃষ্টি করে। এমন পাহাড়ি রজনীর সৌন্দর্যে কারো মনে কাব্যিকতা সৃষ্টি হয় কারো মনে সুরের ছন্দ জেগে উঠে। শহুরে যান্ত্রিকতা ছেড়ে যারা এখানে এসেছে তাদের জন্য পাহাড়ি পরিবেশকে বিদায় জানানো বেশ কষ্টকর।
পাহাড়ি ধুলামাখা মেঠোপথ রাতে বেশ নীরব থাকে। কেননা এখানে পথিকের সংখ্যা কম। এমন পথে চন্দ্রবিলাস করতে ভয় এবং আনন্দের এক অদ্ভুত অনুভূতি সৃষ্টি হয়।