ভারি চঞ্চল ও দুরন্ত ছেলে রিহান। বয়স সাত কি'বা আটের বেশি না। এ বছর চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ছে। দারুণ মেধাবী, ক্লাসে সবসময় ফার্স্ট হয়। ফলে টিচার-মেডামরা খুবই আদর করে রিহানকে। মেধার প্রশংসা করে। অনিক, শিমুল ও পলাশ এরা সবাই রিহানের বন্ধু। এদের মধ্যে খুবই মিল। স্কুলে সবসময় একসাথে থাকে। খেলাধুলা করে।
আজ সকাল থেকেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামছে। কখনো ঝিরিঝিরি আবার কখনো মুশলধারে। স্কুলে যাওয়ার পথ কাদা পানিতে একাকার। বৃষ্টি হচ্ছে তো হচ্ছেই। রিহানের বাবা আমজাদ আলি সরকারি চাকরিজীবী। কখনোও তিনি ছেলের আবদার অপূর্ণ রাখেন না! রিহান সেদিন বাবাকে বলেছিল তার জন্য একটা রেনকোট কিনে দিতে। পরদিনই তার জন্য শপিংমল থেকে রেনকোট কিনে নিয়ে আসেন রিহানের বাবা।
রিহানের মনে আজ অনাবিল আনন্দ। এই বৃষ্টিভেজা দিনে সে রেনকোট পরে স্কুলে যাচ্ছে। কাদাযুক্ত পথ মাড়িয়ে একরকম নাচতে নাচতে স্কুলে এসে পৌঁছায় রিহান। এসে দেখে টিচাররা কেউ এখনো আসেনি। শুধু শিলা মেডাম অফিসে বসে আছেন একা। বন্ধুদের মধ্যে এসেছে শিমুল ও পলাশ। অনিক এখনো আসেনি।
স্কুলের পূর্ব পাশে একটি কদমগাছ। খানিকটা পুকুরের দিকে হেলে আছে গাছটি। শত শত কদমফুল ফুটে আছে। বাতাসে মিশে আছে কদমের মোহনীয় ঘ্রাণ। রিহান উৎসাহী ভঙ্গিতে সহপাঠীদের বললো চলো আজ আমরা গাছ থেকে কদমফুল পাড়বো। যেই কথা সেই কাজ। শীলা মেডামের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওরা চলে গেল কদমগাছ তলে। বৃষ্টি হওয়ার কারণে গাছটি ছিল ভেজা। তবুও রিহান তার বন্ধুদের নিয়ে খুব সাবধানতার সাথে গাছে উঠে যায়। সবাই কদমফুল সংগ্রহ করতে থাকে । গাছ থেকে নামার সময় একটি সরু ডালে পা রাখতেই মড়াৎ করে ডালটি রিহানকে নিয়ে হঠাৎ ভেঙে পড়ে। শিমুল এবং পলাশ দুজনই ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু গাছটি পুকুরের দিকে হেলে থাকার কারণে রিহান পানিতেই পড়ল। ফলে তেমন কোনো ব্যথা পায়নি রিহান। উপর থেকে পড়ার কারণে অনেকটা পানির নিচে চলে গিয়েছিল রিহান। সাঁতার জানে ও। তাই পানির ভেতর থেকে ভেসে উঠে সাঁতার কাটতে থাকে। ওর সাঁতার কাটার দৃশ্য দেখে শিমুল আর পলাশও গাছের উপর থেকে পানিতে ঝাঁপ দেয়। অনেকক্ষণ পুকুরে দাপাদাপি করে ওরা।
তারপর পুকুর থেকে উঠে আসে ওরা। হাতে কদমফুল। অনিককে খুঁজতে থাকে সবাই। খোঁজ নিয়ে জানতে পারে অনিক খুবই অসুস্থ। দেরি না করে সবাই মিলে অনিকের বাড়িতে যায়। অনিকের শরীরে বেশ জ্বর। গতকাল বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে স্কুল থেকে ফিরেছিল। তাই তার এই অবস্থা।
অনিকও তার বাবাকে বলেছিল তার জন্য একটা রেনকোট কিনে দিতে। একটা রেনকোটের দাম প্রায় এক হাজার টাকার উপরে। ওর বাবা খেটে খাওয়া মানুষ। তাই কিনে দিতে পারেনি। ফলে তাকে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। অনিকের এই অবস্থা দেখে রিহানের খুব মায়া হয়। রিহান তার রেনকোটটি অনিককে দিয়ে দেয়। আর অনিক ফ্যালফ্যাল করে রিহানের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চোখে মুখে মুগ্ধতা আর কৃতজ্ঞতা ভেসে উঠলো।
এ দৃশ্য দেখে মন ভরে গেল রিহানের। বন্ধু অনিককে বুকে জড়িয়ে ধরলো। আনন্দে কেঁদে ফেললো অনিক!
ভারি চঞ্চল ও দুরন্ত ছেলে রিহান। বয়স সাত কি'বা আটের বেশি না। এ বছর চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ছে। দারুণ মেধাবী, ক্লাসে সবসময় ফার্স্ট হয়। ফলে টিচার-মেডামরা...
