সাহস ডানায়
আলমগীর কবির
সাহস ডানায় আমরা কিশোর উড়তে পারি,
দূর অজানায় আলোর খোঁজে ঘুরতে পারি।
মায়ের মুখের মলিন হাসি ভুলতে পারি?
আঘাত হেনে বাধার দুয়ার খুলতে পারি।
রাতের গায়ে জোনাক হয়ে জ্বলতে পারি,
সত্য কথা খুব সহজে বলতে পারি।
দেখে অন্যায় তার বিরুদ্ধে লড়তে পারি,
মিথ্যা ঠেলে বাধার প্রাচীর গড়তে পারি।
আশার পাখি বুকে পুষে রাখতে পারি,
দেশের জন্য বসে কি আর থাকতে পারি।
হই নির্ভীক যেন বীর ঠিক ছুটতে পারি,
দুঃখীজনের পাশে যেন জুটতে পারি।
প্রকৃতির হাতছানি
আসাদুজ্জামান খান মুকুল
হাতছানিতে ওই প্রকৃতি
ডাকে নিতুই কত,
আপন করে হৃদ গহিনের
ঘুচাতে সব ক্ষত।
ভোরের রবি বলে যেন
থাকিস নে আর ঘুমে,
আয় বেরিয়ে স্নিগ্ধ আলোয়
দিবো তোদের চুমে।
কিচিরমিচির গান শোনাতে
চায় যে বনের পাখি,
শ্যামলীমায় দোলাবে মন
দিবে না যে ফাঁকি।
সাগর-নদী খোলা আকাশ
বলে ডেকে ভাই রে,
আয় না সবাই উদারচিত্তে
বন্ধু হয়ে যাই রে!
পুষ্পদলে ঘ্রাণ ছড়িয়ে
ডাকে মধুর স্বরে,
বন্ধু হলে সব বিলিয়ে
দিবো তোদের তরে!
বৃষ্টির নূপুর
নকুল শর্ম্মা
বৃষ্টির নূপুর টাপুরটুপুর
ভাসছে সমুদ্দুর,
ছোট্ট পুঁটি চলছে ভেসে
যাবে অনেক দূর।
নদীনালা জলে থৈথৈ
কলকলিয়ে হাসে,
শাপলা ফুলের মিষ্টি হাসি
কাজলা দিঘির পাশে।
সারাবেলা বৃষ্টি নূপুর
সুরের তালে তালে,
ভেজা কাকে ডাকছে বসে
কদম গাছের ডালে।
গাছের পাতায় বৃষ্টির নূপুর
কাঁপন তুলে সুরে,
মেঘ বালিকা হেসে হেসে
চলছে ছুটে দূরে।
জাগতে হবে
শাহানাজ শিউলী
খোকন সোনা আর ঘুমাস না
খোল রে এবার দোর,
রবির আলো ছড়িয়ে দিতে
ডাক দিয়েছে ভোর।
কিচিরমিচির করছে পাখি
গাছে কুসুমবাগে,
তুই তো সবার আশার আলো
জাগবি সবার আগে।
আর ঘুমাস না খোকন আমার
খোল রে দুটি আঁখি,
নামটি ধরে ডাকছে তোরে
বউ কথা কও পাখি।
ধেণুগুলো উঠছে জেগে
যেতে সবুজ মাঠে,
ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের তরী
যাচ্ছে নদীর ঘাটে।
ভোরের বাতাস বলছে ডেকে
আসছি আমি বেগে,
নারী-পুরুষ শিশু-কিশোর
উঠছে সবাই জেগে।
সূর্যমামা অস্ত গেলে
দিনটা হবে শেষ,
কেমন করে গড়বি তখন
সোনার বাংলাদেশ।
পাখির ডানা
মোশাররফ হোসেন
মুক্ত ডানার হয়ে পাখি
কদম ফুলের গাছে
নদীর জলের কাছে,
ডালে বসে দেখবো আমি
শাপলা ফুলে নাচে।
মাঝি ভাইয়া নাও বেয়ে যায়
শীতল জলে ভেসে
দূরের কোন দেশে,
আকাশ নদী দুজন যেথায়
আপন মনে মেশে।
দেখবো আমি রাখাল ছেলে
গরু চড়ায় মাঠে
কৃষক যেথায় খাটে,
পল্লী বধূ কলসি নিয়ে
জল ভরছে ঘাটে।
আজি বলবো মাকে,
কার কাছেতে পাখির ডানা
খুঁজে দাওনা তাকে।
