কোন্ দেশেতে
সায়ীদ আবুবকর
এমন সোনার মেয়ে রে, ভাই,
এমন সোনার ছেলে
কোন্ দেশেতে মেলে?
রাত্রি নেমে এলে,
তেল চিকচিক অন্ধকারে
জীবন থেমে গেলে,
সূর্য হয়ে দেয় যে এরা
আলোর মশাল জ্বেলে!
এই দেশে এক ডাইনি এসে
ভীষণ ফুর্তি করে
কটমটমট কটমটমট
খাচ্ছিল সব মানুষ ধরে ধরে;
বাঁচার উপায় কী?
ভাবছিল সব রাজনীতিবিদ,
সিভিল সোসাইটি।
‘ধুত্তোরি ছাই!’ বলে তখন
পড়ার টেবিল ফেলে
মিছিল নিয়ে নেমে এলো
দস্যি তাবৎ ছেলে,
দস্যি তাবৎ মেয়ে;
ডাইনিটা তা দেখলো চেয়ে চেয়ে।
মিছিল এত লম্বা হলো,
স্লোগান এত হলো তীব্রতর,
কাঁপতে লাগলো ভয়ে সে থরথর;
হঠাৎ উড়োজাহাজ ধরে
পালিয়ে গেল ফুড়ুৎ করে,
দেশের মানুষ পরাণ ভরে
নিলো রে নিঃশ্বাস।
কোন্ দেশেতে আছে এমন
বীর ছেলে আর বীর মেয়েদের বাস?
শরতের আগমনে
আনোয়ার আল ফারুক
পেজা তুলো ওড়ুওড়ু আকাশের নীলে
নীলিমার বুকে রঙধনু এঁকে দিলে,
বরষার বিদায়ের ঢাক ঢোল বেজে
প্রকৃতিটা উঠে আজ নবরূপে সেজে।
নদ-নদী দুই কূলে কাশফুল দোলে
দেশমাটি সুখে ভাসে প্রকৃতির কোলে,
শাদাবক উড়ে যায় ঝাঁকে আর ঝাঁকে
সজীবতা ফিরে আসে সবুজের বাঁকে।
পাকা তালে পিঠাপুলি মুহুর্মুহু ঘ্রাণে
মজার আবেশে দোলা দেয় মন প্রাণে,
মেঘমালা নেই আজ আকাশের বুকে
বরষার ঘনঘটা দিলো যেন চুকে।
জোনাকিরা রাতভর উড়ে উড়ে চলে
ক্ষণে ক্ষণে ডেকে উঠে শেয়ালের দলে,
আকাশের গায়ে চাঁদতারা লুটোপুটি
শরতের আগমনে বাদলের ছুটি।
শরতের হাসি
এম. আবু বকর সিদ্দিক
বৃষ্টিভেজা ঋতুর শেষে
হাসছে শরৎ রানী,
সকাল দুপুর টাপুরটুপুর
ঝরছে না আর পানি।
গাছে গাছে কচি পাতা
ফুটল সারি সারি,
বৃক্ষবধূ কুচি দিয়ে
পরলো নতুন শাড়ি।
শরৎ এলে বিলে ঝিলে
শাপলা শালুক ভাসে,
সাদা সাদা মেঘকুমারী
নীল গগনে হাসে।
শিউলি হাসে জবা হাসে
হাসে যে কাশফুল,
সুরভিত শরৎ রানীর
হয় না কোনো তুল।
শুভ্র শরৎ
কনক কুমার প্রামানিক
বর্ষা শেষে শরৎ আসে
সাদা মেঘের ভেলায়,
নদীর তীরে কাশেরফুলে
বাতাস মাতে খেলায়।
আকাশে মেঘ তুলার মতো
বাতাস উড়ে যায়,
দূর্বাদলে শিশির কণা
মুক্তো বিন্দু পায়।
চারিদিকে ফসল ভরা
সবুজ আমন মাঠ,
ঋতুর রানী শরৎ যেন
শিল্পীর আঁকা পাঠ।
চড়ুই পাখি
মোশাররফ হোসেন
চড়ুই পাখি চড়ুই পাখি
করিস কেন ডাকাডাকি?
ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ উড়ে উড়ে
হেথা হোথা বেড়াস ঘুরে।
ভাই বকে না, বোন বকে না
পড়তে বসতে মা ডাকে না,
হাওয়ায় মেলে ডানা দু’টি
ইচ্ছে হলেই নিস রে ছুটি।
কী যে দারুণ খুনসুটি
খাস রে যখন মটরশুঁটি,
আমি যদি চড়ুই হতাম
তোরই সাথে উড়াল দিতাম।
শরতের আগমন
এম. ডি জিয়াবুল
বালুময় নদীচর অপরূপ লাগে আজ,
শরতের কাশে ওই নবরূপ নিলো সাজ।
চরে পাল মহিষের দু’পাড়ের সীমানায়,
আঁখিদ্বয় অবিরাম সে দিকেই ফিরে চায়।
দখিনের সমীরণ বয়ে যায় অবিরল,
দেখি ওই বিল-ঝিলে ডাহুকের চলাচল।
বীথিকায় সুনিবিড় সুশীতল চারিধার,
শিশিরের কণাজল নিলো ঠাঁই একাকার।
কোকিলের কুহুতান করে মন আলোড়ন,
জমিনের কচি ধান দেখে খুব দোলে মন।
গেয়ে যায় কিশলয় নীলিমার সারি গান,
ফিরে পায় নব-দিন পাখিদের কলতান।
খুশি খুব অলি-দল কুসুমের পেয়ে বাগ,
মেতে রয় গগনেই টিয়ে দল ঝাঁকে ঝাঁক।
বেহিসাব খতিয়ান গিরি-বন উচাটন,
পলাশের জ্বালামুখ শরতের আগমন।
বরষার মনে আজ বেদনার শতদল,
চিরে বুক সাগরের তটিনীর কমে জল।
টানে দাঁড় মাঝিদল নায়ে ওই তুলে পাল,
স্বপ্নের গান গেয়ে দৃঢ় করে ধরে হাল।
