টুনটুনিটা ডাকছে আমায় সকাল বিকাল রাতে
খুব জরুরি আলাপ আছে বলছে ইশারাতে
ভেবে আমি পাচ্ছি না তো কূলকিনারা খুঁজে
করলে দেখা পারব নিতে ব্যাপারখানা বুঝে।

সবাই যখন ঘুমের ঘোরে রাত হয়েছে ভারী
চাঁদনী রাতে চুপি চুপি তখন দিলাম আড়ি
আবছা আলোয় চোখ বুলালাম টুনটনিটার ঘরে
ছা দু’খানা গভীর ঘুমে মায়ের বুকের পরে।
টুনটুনিটার দুচোখ খোলা চিন্তিত বেশ-খুবই
নাম না জানা শঙ্কাতে তার মলিন মুখের ছবি
থেকে থেকে উঠছে কেঁদে ঝরছে পানি চোখে
কাটছে না রাত একটুও তার গভীর ক্ষত-শোকে।

দরদ মাখা মায়ার সুরে ডাক দিয়েছি যেই
অমনিতে সে একলা ঘরে আঁতকে হারায় খেই
ভয় পেয়ো না কাছে এসো বসো আমার পাশ
আর ফেলো না চোখের পানি গভীর দীর্ঘশ্বাস।
বলো তোমার কিসের ব্যথা কিসের এত দুখ
কার আঘাতে কষ্ট পেলে মলিন হলো মুখ
দিচ্ছি কথা থাকব পাশে রাখব সুখে বেশ
দেবো তোমায় আদর মায়া মধুর পরিবেশ।

টুনটুনিটা কেঁদে কেঁদে করল অভিযোগ
আমরা সবাই তার জীবনে এনেছি দুর্ভোগ
পথের ধারে জারুল গাছে ছিল যে তার বাস
সেদিন দেখি কতেক লোকে করল সর্বনাশ
একে একে কেটে কেটে করল উজাড় সব
মানুষ হয়ে করলে এমন বাঁচা কি সম্ভব!
ছা দু’খানার মনের ঘরে ভর করেছে ভয়
তোমার পাশে ঠাঁই নিয়েছি হইও না নির্দয়।

বলবটা কি পাই না খুঁজে কাঁদল আমার মনও
কাঁপা কাঁপা নরম স্বরে বলি পাখি শোনো
এই সমাজে মানুষ তো নেই অমানুষে ভরা
আর যাবে না সবুজ শ্যামল মধুর স্বদেশ গড়া
সোনার ভূমি করছে লোপাট সবাই মিলেমিশে
শান্তি ও সুখ পাব বলো তুমি-আমি কীসে?
ভয় রেখো না আর কেঁদো না থাকব তোমার সাথে
মনের সুরে গান শুনাবে সকাল বিকেল রাতে।