মানুষ তার মানসিক আনন্দ লাভ বা আত্মপিয়াস মেটাতে কখনো কখনো কিছু কিছু জিনিস দেখতে, শুনতে ও স্পর্শ করে দেখতে চায়। তার সংস্কৃতির মধ্যে নিজেকে প্রকাশ করতে কিংবা সৃজনশীল কিছু করে আনন্দ পেতে চায় এবং অন্যকে আনন্দ দিতে চায়। তারই ইচ্ছে থেকে শিল্পীর মনে একপ্রকার আগ্রহ জাগে। আর প্রত্যেকটি জাতির নিজস্ব সংস্কৃতির মধ্যে যেই সৃজনশীল ও প্রতিভার পরিচয় আমরা দেখতে পাই, সেটাই হচ্ছে শিল্পকলা।
আর শিল্পকলার প্রাচীন একটি শাখা হচ্ছে ক্যালিগ্রাফি। এই ক্যালিগ্রাফির পরিচয় এভাবে দেয়া যেতে পারে যে, হরফ বা টেকসট ব্যবহার করে চমৎকার লেখন শিল্পকে ক্যালিগ্রাফি বলে। বর্তমানে এই আর্টকে বিভিন্ন দেশ, ভাষা এবং ধর্মের লোকেরা আনন্দচিত্তে গ্রহণ এবং চর্চা করে চলেছেন। পৃথিবীতে বিভিন্ন ভাষার হরফে ক্যালিগ্রাফি করা হয়েছে। বাংলা, আরবি, ইংরেজি, চীনা, জাপানী প্রভৃতি ভাষার হরফের ক্যালিগ্রাফি মানুষকে মোহিত ও আনন্দিত করে। ফলে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ক্যালিগ্রাফি মনোমুগ্ধকর এক শখের নাম। আর ক্যালিগ্রাফির জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছেই। বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যালিগ্রাফি সুন্দর, মনোরম এক শিল্পের মর্যাদা লাভ করেছে। তরুণ-তরুণী ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কাছে পছন্দের শিল্পকর্মের তালিকায়ও ক্যালিগ্রাফির অবস্থান এখন সবার শীর্ষে।
নতুন বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন রঙতুলির ছোঁয়ায় একেকটি শহরের দেয়াল ক্যালিগ্রাফিময় হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন, মনকাড়া শিল্পকর্মে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। এই ক্যালিগ্রাফির জন্য বাঁশের কলম, কালি, ক্যানভাস, জলরঙ, ক্যালিগ্রাফি পেন ও কালার প্রয়োজন পড়ে। আর বর্তমানের বাংলাদেশে নবীন-প্রবীণ, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীরা মিলে অসংখ্য ক্যালিগ্রাফার রয়েছে। যারা বর্তমান নতুন বাংলাদেশের আনাচে কানাচে, সবখানে দৃষ্টিনন্দন, মনকাড়া ক্যালিগ্রাফিময় করে ফুটিয়ে তুলছে। যেই ক্যালিগ্রাফি ও কাজগুলো সত্যি অসাধারণ নজরকাড়া।